বিজ্ঞাপন

অপহরণকারীর হাত থেকে পালিয়ে নিখোঁজ, ৩ বছর পর উদ্ধার

August 3, 2022 | 6:50 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম নগরী থেকে অপহরণের তিন বছর পর এক শিশুকে ঢাকার কেরাণীগঞ্জ থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। অপহরণের পর জড়িত ব্যক্তিকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারলেও এতদিন ধরে শিশুটির কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। নগরীতে পোস্টারে শিশুর ছবি দেখে এক প্রত্যক্ষদর্শীর কাছ থেকে তথ্য পেয়ে পিবিআই অবশেষে শিশুটিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (২ আগস্ট) শিশুটিকে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উত্তর পানগাঁও কন্টেইনার টার্মিনাল এলাকা থেকে উদ্ধারের পর বুধবার দুপুরে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া মো. সিয়াম (১১) নগরীর বাকলিয়া থানার বগারবিল সংলগ্ন বাদামতল এলাকার কাতার প্রবাসী দেলোয়ার হোসেনের ছেলে। ২০১৯ সালের ২৫ জুন আট বছর বয়সী মাদরাসা ছাত্র সিয়াম অপহরণের শিকার হয়েছিল। এ ঘটনায় তার মা ইয়াছমিন বেগম বাদি হয়ে বাকলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশে পিবিআই মামলার তদন্ত শুরু করে।

বিজ্ঞাপন

তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পরিদর্শক মো. মোজাম্মেল হক সারাবাংলাকে জানান, বয়সের তুলনায় সিয়ামের মানসিক পরিপক্কতা কম। নাছির নামে এক প্রতিবেশি মার্বেল কিনে দেয়ার কথা বলে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে এনে ট্রেনে করে প্রথমে কুমিল্লা এবং সেখান থেকে নারায়নগঞ্জ হয়ে ঢাকায় কেরাণীগঞ্জে নিয়ে যায়। সেখানে ঘোরাঘুরির একপর্যায়ে সিয়াম নাছিরের হাত থেকে কৌশলে পালিয়ে যায়।

‘সিয়ামকে হারিয়ে নাছির চট্টগ্রামে ফেরত আসে। সিয়ামের মাকে ফোন করে তিন লাখ মুক্তিপণ দাবি করে অন্যথায় ছেলেকে খুনের হুমকি দেয়। সিয়ামের মা ৪০ হাজার টাকা পরিশোধ করে। সেই মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে পুলিশ নাছিরকে গ্রেফতার করে। তবে সিয়ামের বিষয়ে সে কোনো তথ্য দিতে পারেনি। এর ফলে সিয়ামও উদ্ধার হয়নি। জিজ্ঞাসাবাদে নাছির জানিয়েছিল, ঋণ পরিশোধের জন্য সিয়ামকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা ছিল তার।’

বিজ্ঞাপন

ওই মামলায় নাছির আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিল। আড়াই বছর কারাভোগ করে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে নাছির ছাড়া পায় বলে জানান পিবিআই পরিদর্শক মোজাম্মেল।

পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পুলিশ সুপার নাইমা সুলতানা সারাবাংলাকে জানান, নাছিরের হাত থেকে পালিয়ে সিয়াম কেরানীগঞ্জ পানগাঁও কন্টেইনার টার্মিনাল এলাকায় ‘আল আমিন রেস্টুরেন্ট’ নামে একটি দোকানের সামনে ঘোরাঘুরি করতে থাকে। দেখতে দোকান মালিক তার পরিচয় ও অভিভাবকের ফোন নম্বর জানতে চান। কিন্তু সরল প্রকৃতির সিয়াম কিছুই জানাতে পারেনি। তখন মালিক তাকে দোকানে আশ্রয় দেন।

বিজ্ঞাপন

এদিকে সিয়ামের খোঁজে দেশের প্রত্যেকটি থানা, রেল স্টেশন, আদালত ভবনে পোস্টার লাগিয়ে প্রচারণা চালানো হয়। গত কোরবানির ইদে আল আমিন রেস্টুরেন্টের মালিক সিয়ামকে তার নিজের বাড়ি চাঁদপুরে বেড়াতে নিয়ে গিয়েছিলেন। মালিকের প্রতিবেশি এক মেয়ের শ্বশুরবাড়ি চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়ায় সিয়ামদের বাসার কাছে। তার মা সিয়ামকে দেখেন।

পিবিআই কর্মকর্তা নাইমা সুলতানা বলেন, ‘সম্প্রতি ওই মহিলা চট্টগ্রামে মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। পোস্টারে সিয়ামের ছবি দেখে চিনতে পারেন। তখন তিনি স্থানীয়দের জানান যে, সিয়ামকে তিনি চাঁদপুরে দেখেছেন। এর সূত্র ধরে কেরানীগঞ্জে আল আমিন রেস্টুরেন্টের সন্ধান পাওয়া যায়। তখন সিয়ামের পরিবারের সদস্যদের সেখানে পাঠানো হয় বিষয়টি সত্যতা নিশ্চিত করতে। তারা কেরানীগঞ্জে গিয়ে সিয়ামের সেখানে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে। পরে পিবিআই টিম গিয়ে তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে।’

বিজ্ঞাপন

পিবিআই কার্যালয়ে আনার পর সিয়াম তার মা ও ভাইবোনদের চিনতে পারেন বলে জানান নাইমা সুলতানা।

সারাবাংলা/আরডি/একেএম

বিজ্ঞাপন

Tags:

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন