বিজ্ঞাপন

ইউরিয়ার অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার কমাতেই দাম বৃদ্ধি: কৃষিমন্ত্রী

August 4, 2022 | 7:22 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ইউরিয়া সারের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার কমাতেই দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘আমরা ইউরিয়া সারের ব্যবহার হ্রাস ও ডিএপি সারের ব্যবহার বৃদ্ধিতে গুরুত্বারোপ করে যাচ্ছি। ডিএপি সার মাটির স্বাস্থ্যরক্ষায় ও মানসম্পন্ন ফসল উৎপাদনে কার্যকর এবং পরিবেশবান্ধব। ডিএপি সারে শতকরা ১৮ ভাগ নাইট্রোজেন বা ইউরিয়া সারের উপাদান রয়েছে। সে জন্য ডিএপির ব্যবহার বাড়িয়ে ইউরিয়া সারের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার কমিয়ে আনার জন্য সরকার ডিএপি সারের মূল্য প্রতিকেজি ৯০ টাকা থেকে কমিয়ে ১৬ টাকা করে কৃষকদের দিয়ে যাচ্ছে। এ উদ্যোগের ফলে বিগত কয়েক বছরে ডিএপি সারের ব্যবহার দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে ডিএপির ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে ভেবেছিলাম ইউরিয়া সারের ব্যবহার কমবে, কিন্তু কমেনি।’

বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) সচিবালয়ের মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সারের দাম বৃদ্ধি, মজুদসহ সার্বিক বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে মন্ত্রী এ সব কথা বলেন। কৃষিসচিব মো. সায়েদুল ইসলাম এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘ফসলের জমিতে সুষম সার প্রয়োগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ইউরিয়া সারের বর্তমান ব্যবহার কমপক্ষে ২০ শতাংশ কমিয়ে ইউরিয়ার ব্যবহার যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে পারি। এতে ফসল উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না, বরং উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে। একইসঙ্গে কৃষকের খরচও কমবে। এটি করতে হলে আমাদের কৃষক ভাইসহ সবার সচেতনতা প্রয়োজন।’

আরও পড়ুন
সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে মিলছে না সার
আমদানিকারক ‘সিন্ডিকেটেও’ বেড়েছে সারের দাম!

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘এ ছাড়া নন ইউরিয়া সার ( টিএসপি, ডিএপি, এমওপি) বছরে ব্যবহার হয় ৩২ লাখ টনের বেশি। এর পুরোটাই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এ সব সারের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে ৪ গুণ বেড়েছে, কিন্তু দেশে আমরা দাম বাড়াইনি। কাজেই, ইউরিয়া সারের কেজিতে ৬ টাকা দাম বৃদ্ধির ফলে ফসলের উৎপাদনে তা নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।’

বর্তমানে দেশে চাহিদার বিপরীতে সব ধরনের সারের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘সারের দাম বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে দেশের কোথাও যেন কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে— সে ব্যাপারে আমরা নিবিড়ভাবে মনিটর করছি। কৃত্রিম সংকট তৈরির মাধ্যমে দাম বেশি নিলে সংশ্লিষ্টদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে।’

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা লক্ষ করছি, সারের দাম বাড়ায় বিএনপিসহ কিছু বাম দল উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিএনপির সার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ তাদের চরম নির্লজ্জতার প্রমাণ বলে আমি মনে করি। বিএনপি’র শাসন আমলে সারসহ কৃষি উপকরণের চরম সংকট ছিল। বিএনপি তাদের সময়ে কৃষককে সার দিতে না পেরে পালিয়ে পালিয়ে বেড়িয়েছে। সারের জন্য বিএনপি সরকার ১৯৯৫ সালে ১৮ জন কৃষককে গুলি করে হত্যা করেছিল। বিপরীতে, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার সারের উৎপাদন ও আমদানি অব্যাহত রেখেছে। গত ১৩ বছরে সারসহ অন্যান্য কৃষি উপকরণের কোনো সংকট হয়নি।’

বিএনপি’র শাসন আমলে (২০০৫-০৬ অর্থ বছরে) সারে ভর্তুকির পরিমাণ ছিল মাত্র ১ হাজার ৯৫ কোটি টাকা। ২০০৫-০৬ অর্থ বছরের তুলনায় বর্তমানে ২৮ (সাতাশ) গুণ বেশি বা ২৮ হাজার কোটি টাকা বেশি ভর্তুকি প্রদান করা হচ্ছে। যার ফলে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং কৃষকরা সরাসরি উপকৃত হচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী জানান, ২০০৫-০৬ অর্থবছরের প্রতি কেজি ইউরিয়াতে ভর্তুকির ছিল ১৫ টাকা, টিএসপিতে ২.৫৩ টাকা, এমওপিতে ২.৬২ টাকা, ডিএপিতে ৫.৫০ টাকা আর বর্তমানে ২০২২-২৩ অর্থবছরে আওয়ামী লীগ সরকার ভর্তুকি দিচ্ছে ইউরিয়াতে ৫৯ টাকা, টিএসপিতে ৮৬ টাকা, এমওপিতে ৯১ টাকা, ডিএপিতে ১০৭ টাকা।

আরও পড়ুন
দেশে ইউরিয়া সারের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে
প্রণোদনার সার-বীজ বিতরণে নয়ছয়
আধুনিক হচ্ছে ইউরিয়া সারের উৎপাদন ব্যবস্থা
৬০ হাজার টন ইউরিয়া সার আমদানি করবে সরকার
আরও ৮০ হাজার টন ইউরিয়া সার কেনার প্রস্তাবে অনুমোদন
কালোবাজারে বিক্রি হওয়া ইউরিয়া সার উদ্ধার করলেন ইউএনও
ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়ার সার কারখানার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

সারাবাংলা/ইএইচটি/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন