বিজ্ঞাপন

‘হরতাল ডাকতে পারে, রক্তারক্তি-ভাংচুর করলে ব্যবস্থা’

August 5, 2022 | 8:15 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো : বিএনপি হরতাল ডাকতে পারে কিন্তু রক্তারক্তি-ভাংচুর করলে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (৫ আগস্ট) নগরীর আন্দরকিল্লায় নগর ভবন চত্বরে জাতীয় শোক দিবসের ছয় দিনব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেছেন মন্ত্রী। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলা ইউনিট কমান্ডের যৌথএ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

বিএনপির আন্দোলনে নামার ঘোষণা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘হরতাল ডাকতে পারে, ধর্মঘটও ডাকতে পারে, আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু অহেতুক যানবাহন বন্ধ করে যদি জনসাধারণের কোনো অসুবিধা করে, জানমাল যদি ধ্বংস করতে চায় কিংবা রক্তারক্তি করে, ভাংচুর করে, তাহলে নিরাপত্তা বাহিনী সঠিক কাজটি করবে।’

বিজ্ঞাপন

দেশে বিদ্যুতের সংকটকে বৈশ্বিক সংকট উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তেল-গ্যাস সারাবিশ্বের সমস্যা। রাশিয়া এবং ইউক্রেনের যুদ্ধের কারণে সব পণ্যের বাজার টালমাটাল। বাংলাদেশে ডিজেল ভিত্তিক, ফার্নেস অয়েল ভিত্তিক যেসব বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে সেগুলোতে এর প্রভাব পড়েছে। ডিজেল-ফার্নেস অয়েলের দাম বেড়ে যাচ্ছে। সেজন্যই আমরা লোডশেডিং করছি। তার মানে এই নয় যে, আমাদের সক্ষমতা নেই। আমাদের পূর্ণ সক্ষমতা আছে। পরিস্থিতি একটু উন্নত হলেই আমরা আগের পর্যায়ে চলে যাব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অনেক দূরদর্শিতা নিয়ে শুধু তেলভিত্তিক না, গ্যাসভিত্তিক, কয়লাভিত্তিক এবং সোলারভিত্তিক, এখন নিউক্লিয়ারভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পর্যন্ত করছেন। কাজেই কোনো সমস্যা হবে বলে আমরা মনে করি না।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধাদের ‘এক থাকার’ আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধারা একজন-একজন করে হারিয়ে যাচ্ছি। আমরা বড় সমাবেশ করে সারাদেশে দেখিয়ে দিতে চাই, আমরা মুক্তিযোদ্ধারা এখনও বেঁচে আছি। বঙ্গবন্ধুর মুক্তিযোদ্ধারা এখনও বেঁচে আছে। কাজেই কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র, অপকর্ম যদি করতে চাও, আমরা জীবিত থাকতে তা হবে না। ডাক আসলেই আপনারা সবাই একত্র হয়ে যাবেন। আমাদের কোন দল নেই, আমরা মুক্তিযোদ্ধারা একসঙ্গে থাকব। এটিই হোক আমাদের বাস্তবতা।’

বিজ্ঞাপন

‘চট্টগ্রাম বীরের জাতি, সবকিছুর অগ্রভাগে আপনারা ছিলেন। আপনারা মুক্তিযোদ্ধারা একত্রে থাকুন, এক থাকুন। তাহলেই আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারব। আমরা প্রমাণ করতে চাই- আমরা মরি নাই, আমরা যুদ্ধে আছি। বঙ্গবন্ধুর ডাকে নিরস্ত্র বাঙালি সশস্ত্র হয়ে যুদ্ধ করেছে। আবার বঙ্গবন্ধুর কন্যার ডাকে একটি উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে সর্বাত্মক সহযোগিতা আমরা করছি। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল, এদেশ হবে হিন্দু মুসলমান বৌদ্ধ খ্রিস্টান সবার দেশ। সবাই সমান অধিকার নিয়ে এদেশে বসবাস করবে। আমরা বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করব। আমরা রাজাকার-আলবদরের গাড়িতে আর বাংলাদেশের পতাকা দেখতে চাই না।’

বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘লিবারেশনের পর আমরা মুক্তিযোদ্ধারা বললাম, আমরা কিচ্ছুই চাই না। আমদের জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি দেবেন আর যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা করিয়ে দেবেন। চিকিৎসা, শিক্ষাদীক্ষা যা যা করার বঙ্গবন্ধু করে দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার কিছুদিন পর দেখলাম হঠাৎ মুখের ওপর দরজা বন্ধ হয়ে গেছে। বঙ্গবন্ধুর কন্যা এসে সেই দরজা ওপেন করে দিয়েছিলেন। মুক্তিযোদ্ধাদের তিনি প্রায়োরিটি দিয়েছেন বলেই আমরা আজ মাথা উঁচু করে বলতে পারি- আমরা বঙ্গবন্ধুর ডাকের সেই মুক্তিযোদ্ধা।’

বিজ্ঞাপন

‘আজ শেখ হাসিনা যা দিচ্ছেন, বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে হয়ত আমরা সেটাই দেখতাম। রাষ্ট্রীয়ভাবে আমাদের জন্য অনেককিছু করছে বলে আমরা তুষ্ট হয়ে বসে থাকব? আমাদেরও কিছু করণীয় আছে। মুক্তিযোদ্ধারা অনেকেই হারিয়ে গেছে, অনেকেই বিদায় নিয়েছে, আমরাও একে একে বিদায় নেব। কিন্তু তার আগে আমরা একত্রে থাকব। বলব- আমরাই যুদ্ধ করেছি, দেশ স্বাধীন করেছি। আমরা যুদ্ধ করেছি বলেই দেশ স্বাধীন হয়েছে। আজ জাতীয় পতাকা সারা পৃথিবীতে উড়ছে।’

বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যাকাণ্ডের বেদনাবিধূর ঘটনা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ঘটনা আমরা কোনোদিনও ভুলতে পারব না। ১৫ আগস্ট রাতে আমার এক বন্ধু আমাকে ফোন করে বলেছিলেন, ক্যান্টনমেন্টে কী যেন হয়েছে- সব সাজোয়া যানগুলো বের হয়ে গেছে। আমাদের টাঙ্গাইল যাওয়ার কথা ছিল, যেতে পারলাম না। রেডিওটা চালু করেই সেই খুনি ডালিমের গলার আওয়াজ পেলাম। কী দোষ ছিল বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের? এখন সবগুলো হিসেব নিকেশ করার সময় এসেছে। কারা এই হত্যাকাণ্ডের সুবিধাভোগী? খুনের মাস্টারপ্ল্যান যারা করেছিল তাদেরও বিচারের মুখোমুখি করার প্রচেষ্টা চলছে। সেগুলো আমরা তুলে ধরব জাতির কাছে। এ বিশ্বাসঘাতকরা সেদিন কী করেছিল সেটি জাতির কাছে তুলে ধরব।’

বিজ্ঞাপন

‘খুনিরা খুব ভালোভাবে জানত, বঙ্গবন্ধুর রক্ত যার ধমনীতে প্রবাহিত তাদের কেউ বেঁচে থাকলে বিচার একদিন হবেই। ঘুরে দাঁড়াবে বাঙালি, বাংলাদেশ। আজ সেটিই হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর রক্ত যার ধমনীতে প্রবাহিত হচ্ছে ১৯৮১ সালে তিনি এলেন বাংলাদেশে। সেদিন থেকে শুরু হলো- আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধকে হৃদয়ে ধারণ করতাম, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচারের দাবি আমরা তুলে ধরলাম।’

বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিচার শুরু হলো, আমরা অনেক দৃশ্য দেখলাম, অনেক বিচারক বিব্রত হলেন। বঙ্গবন্ধুর কন্যা হাল ছাড়েননি। সে জন্যই আমরা বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার দেখে যেতে পারছি। কয়েকজনের বিচার আমরা দেখেছি, বাকি যারা আছেন তাদের আমরা খুঁজেছি। হয়ত কয়েকজনকে আমরা আনতে পারব।’

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘জিয়াউর রহমান এই চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেছিলেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে যখন হত্যা করা হল, জিয়া অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করলেন। বঙ্গবন্ধু যে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধ করেছিলেন, সেটা আবার ফিরিয়ে আনলেন। জামায়াত ইসলামীর আমীর যুদ্ধাপরাধী গোলাম আজমকে নাগরিকত্ব দিয়ে দেশে ফিরিয়ে আনলেন। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের রাষ্ট্রের বিভিন্ন উচ্চপদে এমনকি বিদেশি বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিলেন। এসব আলামত দেখে এটাই প্রমাণ হয় যে, মোস্তাক-জিয়া চক্রই বঙ্গবন্ধুকে খুনের সঙ্গে জড়িত।’

মুক্তিযোদ্ধা সংসদের মহানগর ইউনিটের কমান্ডার মোজাফফর আহমেদের সভাপতিত্বে ও সন্তান কমান্ড কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোহাম্মদ সরওয়ার আলম চৌধুরী মনি’র সঞ্চালনায় শোক সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আক্তার, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায়, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন।

এ সময় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. মমিনুর রহমান এবং পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হক সভামঞ্চে ছিলেন।

সারাবাংলা/আরডি/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন