রবিবার ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ৩১ ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৫ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

আসছে ব্রিটিশ রাজমুকুটের নতুন উত্তরাধিকার, এক ধাপ পিছিয়ে হ্যারি

এপ্রিল ২৩, ২০১৮ | ৪:১৮ অপরাহ্ণ

।।আড়চোখে ডেস্ক।।

বিজ্ঞাপন

ব্রিটিশ রাজ পরিবারে আসছে নতুন সদস্য। প্রিন্স অ্যান্ড প্রিন্সেস অব কেমব্রিজ উইলিয়াম ও কেট’র নতুন শিশু জন্ম নিতে যাচ্ছে। এরই মধ্যে কেটকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে লেবাররুমে। ডিউক অ্যান্ড ডাচেস অব কেমব্রিজের ঘরে প্রিন্স জর্জ ও প্রিন্সেস শার্লোটের পর জন্ম নিচ্ছে তাদের তৃতীয় সন্তান।

এই নবজাতক জন্ম নিলে সে হবে ব্রিটিশ রাজ সিংহাসনের অধিকারীদের সারিতে পঞ্চম জন। এই নবজাতকের ধাক্কায় এক ধাপ সরে যাবেন ব্রিটিশ রাজ পরিবারের এই সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রিন্স হ্যারি। তার অবস্থান হয়ে যাবে ষষ্ঠ।

রানি এলিজাবেথ ও ডিউক অব এডিনবার্গের ষষ্ঠ পুতি হিসেবে জন্ম নিতে যাচ্ছে এই শিশু। সে হবে রাণি ভিক্টোরিয়ার গ্রেট-গ্রেট-গ্রেট-গ্রেট-গ্রেট গ্রান্ডচাইল্ড।

আর এই শিশুর জন্মলাভের সাথে সাথে প্রিন্স হ্যারির ব্রিটিশ রাজ সিংহাসনে অধিষ্ঠ হওয়ার সুযোগ আরও এক ধাপ পিছিয়ে ষষ্ঠ অবস্থানে চলে যাবে। ডিউক অব ইয়র্ক প্রিন্স অ্যান্ড্রু চলে যাবেন সপ্তম অবস্থানে আর প্রিন্সেস বিট্রাইস ও এগুইন থাকবেন অষ্টম ও নবম অবস্থানে।

বিজ্ঞাপন

ভাবাই হচ্ছিলো উইলিয়াম ও কেট তিনটি সন্তান নেবেন। কেট নিজের বাড়িতেও বোন পিপ্পা ও ভাই জেমস নিয়ে আনন্দে কাটাতেন। ভাই-বোনের সঙ্গে অন্তরঙ্গ সম্পর্কও তার। অন্য দিকে বেচারা উইলিয়ামকে এখন আরেকদফা নবজাতকের সেবায় নামতে হবে। কেট আগেই জানিয়েছেন, তার স্বামী এই তৃতীয় সন্তান জন্ম দেওয়ার ব্যাপারে খুব একটা আগ্রহী ছিলেন না। তবে দুটির বেশি সন্তান জন্ম দিয়ে কেট ও উইলিয়াম রাজ পরিবারে রানি এলিজাবেথ ও এডিনবারর্গের ডিউকের পদাঙ্কই অনুসরণ করলেন। তাদের চার সন্তান। যদিও দ্বিতীয় অ্যানি ও তৃতীয় অ্যান্ড্রুর মধ্যে বয়সের ব্যবধান ছিলো ১০ বছর।

ভবিষ্যতের রাজা হিসেবে জর্জ তার উত্তরাধিকার হিসেবে পাবেন শার্লোটকেই। তাতে এই নবজাতক সহোদর কিংবা সহোদরা হয়তো কখনোই রাজমুকুটের অধিকারী হবে না।

ডিউক অব ইয়র্ক এখন রানি ও ডিউক অব এডিনবার্গের তৃতীয় সন্তান। তবে ১৯৬০ সালে যখন তার জন্ম হয়, তখন বড়বোন প্রিন্সেস অ্যানকে পিছনে ফেলে উত্তরাধিকারের দৌড়ে এগিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। তবে ক্যামব্রিজ দম্পতির তৃতীয় সন্তান যদি ছেলে হয়, তাহলে তার কিন্তু শার্লোটকে পেছনে ফেলার সম্ভাবনা থাকবে না। প্রাচীন রীতিতে রাজ পরিবারে ছেলে সন্তান জন্ম নিলে উত্তরাধিকারের দৌড়ে তারা রাজকন্যাদের পিছনে ফেলতেন। এমন কি প্রথম সন্তান হিসেবে কন্যা জন্ম নিলে তাকেও। কিন্তু এই পুরুষ তান্ত্রিক প্রথা থেকে রাজ পরিবার সরে আসে ২০১৫ এর মার্চ মাসে। মূলত ২০১১ সালের ২৮ অক্টোবরের পর থেকে যে শিশুরা রাজপরিবারে জন্ম নিয়েছে তাদের সকলের জন্য উত্তরাধিকারের সুযোগ সমান করা হয়েছে।

এরই মধ্যে ব্রিটিশ রাজ পরিবারের উত্তরাধিকার আইন ২০১৩’র প্রয়োগ হয়েছে ডিউক অব গ্লুসেস্টার’র নাতনী সেনা লুইস ও লায়লা গিলমানের ক্ষেত্রে। তাদের ছোটভাইয়েরা যারা তাদের পরে জন্ম নিয়েছে উত্তরাধিকারে তারা পিছিয়ে রয়েছে।

নতুন শিশু হোক সে রাজপুত্র কিংবা রাজকন্যা তার জন্যও সুযোগ সমানই থাকবে। জর্জের জন্মের আগেই রাণি এলিজাবেথ জানিয়ে দিয়েছেন উইলিয়ামের সকল সন্তানই হবে তার মুকুটের উত্তরাধিকার।

রাজ ছিল-ছাপ্পরে দেওয়া একটি চিঠিতে ২০১২ সালের ডিসেম্বরে (কেট তখন কয়েক মাসের অন্তঃসত্ত্বা) রাণি ঘোষণা করেন প্রিন্স অব ওয়েলসের (প্রিন্স চার্লস) বড় ছেলের সকল সন্তানই রাজ উত্তরাধিকারের ও উপাধির অগ্রভাগে থাকবে। তারা সকলেই রয়্যাল হাইনেস এর আওতায় সম্মানিত হবে।

এর আগে ১৯১৭ সালে রাজা পঞ্চম জর্জের জারি করা ঘোষণাটি বলবত থাকলে উইলিয়াম ও কেটের মেয়েরা রয়্যাল হাইনেসের মর্যাদা পেতেন না তারা ভূষিত হতেন লেডি মাউন্টব্যাটেন উইন্ডসর খেতাবে। আর পরের দিকে ছেলে সন্তান জন্ম নিলে তারও জুটতো না হিজ রয়্যাল হাইনেস খেতাব। ভূষিত হতেন লর্ড মাউন্টব্যাটেন উইন্ডসর খেতাবে।

সারাবাংলা/এমএম

Advertisement
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন