বিজ্ঞাপন

শিল্পকারখানায় সাপ্তাহিক ছুটি ভিন্ন ভিন্ন দিন

August 7, 2022 | 8:31 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: লোডশেডিং কমাতে দেশের পোশাক কারখানাসহ শিল্পাঞ্চলগুলোতে আলাদা দিনে সাপ্তাহিক ছুটি দিতে চায় সরকার। আর সরকারের এই পরিকল্পনার সঙ্গে একমত প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে এখন থেকে দেশের একেক এলাকার শিল্পাঞ্চলগুলোতে একেক দিন সাপ্তাহিক ছুটি থাকবে।

বিজ্ঞাপন

রোববার (৭ আগস্ট) বিদ্যুৎ ভবনে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, বিটিএমএ ও বিকেএমইএ’র প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। বৈঠকে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বিজিএমইএ’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শহিদউল্লাহ আজিম সারাবাংলাকে বলেন, ‘পোশাক কারখানায় ছুটি এখন আর শুধু শুক্রবারে নয়। একেক এলাকায় একেকদিন সাপ্তাহিক ছুটি থাকবে। তবে ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মাধ্যমে যেসব ফ্যাক্টরি চলে সেসবের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে না। ডায়িং ও স্পিনিং ফ্যাক্টরি এর আওতায় আসবে না।‘

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ প্রতিন্ত্রী বলেছেন- এটি করতে পারলে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে। তাই আমরা একমত হয়েছি।’ সারাবাংলার এক প্রশ্নের উত্তরে বিজিএমইএ’র এই নেতা বলেন, ‘বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের একটি চিঠি দেবে। চিঠি দেওয়ার পর আমাদের সদস্যদের আমরা চিঠি দেব। অর্থাৎ আগামী দুই এক দিনের মধ্যেই ভিন্ন ভিন্ন দিনে সাপ্তাহিক ছুটির প্রক্রিয়া শুরু হবে।’

বিকেএমইএ’র সহ-সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বৈঠক প্রসঙ্গে সারাবাংলাকে বলেন, ‘দেশের সব এলাকার শিল্প কারখানায় সাপ্তাহিক ছুটি সাধারণত শুক্রবারে থাকে। বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, একেক এলাকায় যদি একেক দিন ছুটি দেওয়া হয়, তাহলে বিদ্যুতের ঘাটতি কিছুটা কমানো যাবে। আমরা এটির সঙ্গে ঐক্যমত প্রকাশ করেছি। একেক দিন একেক এলাকায় ছুটি থাকলে বিদ্যুতের চাহিদা কিছুটা কমবে। যেহেতু সরকার এটি করতে চাচ্ছে, করুক। আমাদের কোনো আপত্তি নেই।’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘এটি করতে হয়তো আমাদের কিছু সমস্যা হবে। তবে দেশ যেহেতু একটি সংকটে আছে, সেই সংকট আমাদের সবাইকে একসঙ্গেই কাটাতে হবে। তাই আমরা একমত প্রকাশ করেছি।’

বিজকেএমইএ’র এই নেতা জানান, বৈঠকে অলোচনা হয়েছে- অক্টোবর থেকে বিদ্যুতের চাহিদা কমতে শুরু করবে। কারণ অক্টোবর থেকে শীত শুরু হবে। আবার ডিসেম্বর-জানুয়ারি থেকে নতুন বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হতে থাকবে। তখন বিদ্যুতের এই সংকট থাকবে না।

বিজ্ঞাপন

এফবিসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বলেন, ‘বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই পদ্ধতি অবলম্বন করলে ৪৯০ মেগাওয়াটের মত বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে দিনে। আমরা বলেছি, কেবল ঢাকায় নয়, সারাদেশেই যেন এরকম ছুটি কার্যকর করা হয়।’

বৈঠকে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘এখন শিল্পাঞ্চলে শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি আছে। একদিনে সব এলাকায় ছুটি না দিয়ে, যদি রেশনিংয়ের মাধ্যমে একেক দিন একেক এলাকায় ছুটি চালু করা যায়, তাহলে বিদ্যুতের কিছুটা সাশ্রয় হবে, লোড শেডিং কিছুটা কমে আসবে। শিল্প মালিকরা এ বিষয়ে আমাদের সঙ্গে একমত হয়েছেন।’

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/ইএইচটি/এনএস

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন