বিজ্ঞাপন

শনিবার বিকেল: প্রথম দর্শনে প্রশংসায় ভাসালেও অজানা কারণে ব্যান

August 9, 2022 | 7:08 pm

আহমেদ জামান শিমুল

২০১৬ সালের হলি আর্টিসানের ঘটনার অনুপ্রেরণায় মোস্তফা সর‍য়ার ফারুকী নির্মাণ করেছেন ‘শনিবার বিকেল’। ছবিটি গত সাড়ে তিন বছর ধরে সেন্সর বোর্ডে আটকা। এ নিয়ে সম্প্রতি সরব হয়েছেন ফারুকী। গত কয়েকদিন ধরে ফেসবুকে দেশীয় নির্মাতারা ছবিটি সেন্সর দেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন। ফারুকী জানালেন, ছবিটি প্রথম যখন সেন্সর বোর্ডের সদস্যরা দেখে তখন বেশ প্রশংসা করেছিলেন। কিন্তু এরপর কোনো এক অজানা কারণে তারা জানান, ছবিটি ব্যান।

বিজ্ঞাপন

ফারুকী পুরো ঘটনার বিস্তারিত বলেন, ‘২০১৯ এর জানুয়ারিতে ছবিটা সেন্সর বোর্ডে জমা দিই। ৯ জানুয়ারি ছবিটা তারা দেখেন। বেশ কয়েকজন সদস্য পত্রিকাতে ছবিটা নিয়ে সাক্ষাৎকার দেন ওইদিন রাতেই। এর মধ্যে চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি (সাবেক) মুশফিকুর রহমান গুলজারও আছেন। সেখানে ওনারা বলেছেন, আমরা ছবিটা দেখে খুবই মুগ্ধ। খুব শিগগিরই সেন্সর দিয়ে দিচ্ছি। এরপর ১০ জানুয়ারি থেকে দেখতে পেলাম একদল ফেসবুকে ওয়াজ করতে শুরু করেছে, যাদের অনেকে বর্তমানে সরকারের হাতে গ্রেফতার আছে। তারা বললো, এ ছবিতে ধর্মকে অবমাননা করা হয়েছে— এধরনের নানান কথাবার্তা। তাও মাত্র দুটা স্টিল ছবির ভিত্তিতে— একটা জাহিদ হাসান, আরেকটা তিশার। যেখানে তাদের ছবিটা দেখার কোনো সুযোগ নেই, তারা জানেও না আমি কী বানিয়েছি। ফলে আমি বলবো, হয়তো এটার পিছনে কোনো গোষ্ঠী কাজ করতে পারে।’

‘৯ তারিখে যে ছবি দেখে সেন্সর বোর্ডের সদস্যরা বললেন, এ ছবিতে কোনো সমস্যা নেই সে ছবিকে ১১ তারিখে তারা আবার রিকল করলেন। সাধারণত, যে ছবিতে প্রথম স্ক্রিনিংয়ে কোনো সমস্যা বা তর্ক বিতর্ক বা কোনো বিষয়ে দ্বিমত থাকে— সে ছবি দ্বিতীয়বার স্ক্রিনিং করা হয়। এখানে তা ছিলো না। তারা ১১ তারিখ চিঠি দিয়ে ১৫ জানুয়ারি ছবিটা আবার দেখা হবে বলে জানালো। আমি তখনই বুঝতে পারলাম, এটার পিছনে হয়তো কোনো অশুভ শক্তি কাজ করছে। ওইদিন ছবিটা দেখা হলো, দেখে আমাদের বলা হলো সেন্সর সার্টিফিকেট রিজেক্ট। সাধারণত কোনো ছবি রিজেক্ট হলে সুনির্দিষ্ট কারণ দেখানো হয় চিঠিতে— এ দৃশ্যের এ সংলাপে আমাদের আপত্তি। যার উপর ভিত্তি করে পরিচালক আপিল করেন, আপিল বোর্ডে তার ব্যাখা দেন। কিন্তু এক্ষেত্রে অদ্ভুত ঘটনা ঘটলো। ঢালাওভাবে বলা হলো, এ ছবিতে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে, এ ছবি মুক্তি পেলে ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট হবে। আমার জন্য বুঝা মুশকিল যে ছবি দেখে সেন্সর বোর্ডের সদস্যরা প্রশংসা করলো, সে ছবি দ্বিতীয়বার দেখার পর কী করে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হলো, তা সেন্সর বোর্ডের সদস্যদের জিজ্ঞেস করলে ভালো। হলিউড রিপোর্টারারের মতো বিখ্যাত সিনেমা পত্রিকা বললো, এ ছবি আমরা জানতে পারলাম বাংলাদেশে ব্যান কারণ দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে, অথচ এ ছবি মুক্তি পেলে দেশের ভাবমূর্তি বাড়বে।’

বিজ্ঞাপন

ফারুকী জানালেন, এরপর তারা আপিল করেন। আপিল তার পক্ষে আপিল বোর্ডে যুক্তি তর্ক উপস্থাপন করেন আরেক নন্দিত নির্মাতা নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু। সেখানে তৎকালীন তথ্য সচিব সে যুক্তিগুলো মেনেও নেন। তিনি উর্ধ্বতনদের এ বিষয়ে কথা বলবেন বলেও জানান। এরপর আর এ ছবির ব্যাপারে কী হয়েছে তা জানতে পারেননি তিনি।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মকবুল হোসেন সেন্সর আপিল বোর্ডের বর্তমান সদস্য সচিব হিসেবে আছেন। তিনি এ ছবির ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানেন না বলে জানালেন। তিনি বলেন, এ ছবি সম্পর্কে আমি অফিসিয়ালি জানি না, আনফিসিয়ালি ব্যানের কথা শুনেছি। এ বিষয়টি সচিব হিসেবে আমার কাছে এখনও আসেনি। আপিল বোর্ডে মন্ত্রীপরিষদ সচিব সাহেব আছেন। দুদিন আগে আমাকে মিডিয়া থেকে কল দেওয়ার পর ছবিটা ব্যানের ব্যাপারে জানতে পারি। যাই হোক ফারুকী সাহেব আমার কাছে ব্যক্তিগতভাবেও বিষয়টা জানতে চাইতে পারতেন। তিনি হয়তো তা প্রয়োজন মনে করেন নাই। আমার নলেজে যেহেতু আসলো, আমি এ নিয়ে খোঁজ নিবো আপিল বোর্ডে কী অবস্থায় আছে ছবিটা। যেহেতু আপিল বোর্ড এখনও কিছু বলেনি, সেহেতু আলোচনার সুযোগ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সচিবের এ বক্তব্যের ব্যাপারে ফারুকী বলেন, আমরা তৎকালীন তথ্য সচিব, মন্ত্রীর সঙ্গে নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু ও মোরশেদুল ইসলামসহ দেখা করেছি। আমাদের বক্তব্য জানিয়েছি। আমাদের ছবিটি প্রখ্যাত সাংবাদিক, গীতিকার ও লেখক আবদুল গাফফার চৌধুরী জীবিত থাকাকালীন দেখেছিলেন। দেখে কলামও লিখেছিলেন। যাতে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন এ ছবিতে কীভাবে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে। কীভাবেই বা ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করা হবে?

এদিকে ‘শনিবার বিকেল’-এর ব্যাপারে আপিল বোর্ডের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত কোনো কিছুই বলতে পারবে না বলে জানালেন সেন্সর বোর্ডের উপপরিচালক মো. মমিনুল হক।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ, ভারত ও জার্মানির যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত শনিবার বিকেল। প্রযোজনায় আরও আছে জাজ মাল্টিমিডিয়া ও ছবিয়াল এবং ভারতের শ্যাম সুন্দর দে।

এতে অভিনয় করেছেন অস্কার মনোনীত ওমর সিনেমার অভিনেতা ইয়াদ হুরানি, নুসরাত ইমরোজ তিশা, জাহিদ হাসান, ইরেশ জাকের, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়সহ অনেকে। দেশে সিনেমাটি এখনও প্রদর্শিত না হলেও মিউনিখ, মস্কো, সিডনি, বুসান, প্যারিসের ভেসুল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে শনিবার বিকেল প্রদর্শিত হয়েছে এবং পুরস্কৃতও হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এজেডএস

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন