বিজ্ঞাপন

পাশ্চাত্যের ভাব-সুরে রবীন্দ্র সঙ্গীত নিয়ে ‘পশ্চিমের রবি’

August 9, 2022 | 7:34 pm

সারাবাংলা ডেস্ক

চট্টগ্রাম ব্যুরো: লোকগানের সঙ্গে পাশ্চাত্য সঙ্গীতের মেলবন্ধনে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সৃষ্টিকর্ম নিয়ে অনুষ্ঠান হয়েছে চট্টগ্রামে। ৮১তম প্রয়াণ দিবসে কবিগুরুকে শ্রদ্ধা জানিয়ে ‘পশ্চিমের রবি’ শিরোনামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে প্রমা আবৃত্তি সংগঠন। কবিগুরু যেসব পাশ্চাত্য গানের সুর ও ভাব নিয়ে রচনা করেন সঙ্গীত, সেই গানগুলো পরিবেশন করেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী শিল্পী উর্বী মধুরা ও পূর্বা অধরা। আর এসব গানের অনুসরণে রচিত রবীন্দ্র সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী ইমতিয়াজ আহমেদ।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (৮ আগস্ট) রাতে নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠানে সমাজবিজ্ঞানী অনুপম সেন এবং কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন পশ্চিমা সুর আর প্রাচ্যের ভাব, বিলেতি গান, রবীন্দ্রসঙ্গীত ও কবিতার মেলবন্ধন তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে পাশ্চাত্যের তিন ধরনের সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। ইংরেজি, আইরিশ ও স্কটিশ ভাষার গানগুলো পরিবেশন করেন শিল্পী উর্বী মধুরা ও পূর্বা অধরা। এসব গানের ভাব ও সুর নিয়ে রচিত রবীন্দ্র সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী ইমতিয়াজ আহমেদ। ইংরেজ নাট্যকার বেন জনসনের ‘Drink to me only’ গানের সুর ও ভাব অবলম্বনে রচিত ‘কতবার ভেবেছিনু’ গানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় পরিবেশনা।

বিজ্ঞাপন

পাশ্চাত্যের ভাব-সুরে রবীন্দ্র সঙ্গীত নিয়ে ‘পশ্চিমের রবি’

সমাজবিজ্ঞানী অনুপম সেন বলেন, ‘উনবিংশ শতাব্দীতে বাঙালির জন্য পাশ্চাত্যের দ্বার উন্মুক্ত হয়ে গিয়েছিল। তার আগেও অবশ্য বহু বিদেশি বণিক এই বাংলায় এসেছিল। তখন বাংলা ছিল আর্থিকভাবে সমৃদ্ধ, কিন্তু শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে পিছিয়ে পড়েছিল। একটি পরাধীন দেশে রবীন্দ্রনাথের মতো এক কবি, বহু ও বিচিত্রমুখী প্রতিভার জন্ম বিস্ময়কর। যে দেশ নানা শোষণের কারণে ধীরে ধীরে দরিদ্র হয়ে যাচ্ছে সেখানে বসে কী অসাধারণ কবিতা, নাটক, নৃত্যনাট্য তিনি রচনা করে চলেছেন। রবীন্দ্রনাথের গান মানুষের অন্তরের গভীরে প্রবেশ করে স্পর্শ করে। যারা বাঙালির জন্য পশ্চিমের দ্বার খুলে দিলেন তাদের মধ্যে রবীন্দ্রনাথ অন্যতম প্রধান।’

বিজ্ঞাপন

কবি আবুল মোমেন বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ কেবল পূর্বের বা পশ্চিমের কবি নন, তিনি পৃথিবীর কবি। রবীন্দ্রনাথ নানা উৎস থেকে তার সঙ্গীত ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছেন। তার একটি হলো পাশ্চাত্য সঙ্গীত। সেখান থেকে তিনি সুর গ্রহণ করেছেন। বিশ্বব্যাপী বাঙালির দৃষ্টি প্রসারিত করার ঘটনাটি ঘটেছিল সেই সময়ে। এর আগে প্রায় পাঁচ-ছ’শ বছর ধরে বাঙালি তার গণ্ডির মধ্যে জীবন কাটিয়েছে, যাকে কুপমণ্ডুকতা বলে। সে জায়গা থেকে সমস্ত বিশ্বব্যাপী বাঙালির চোখ খুলে দেওয়ার কাজটি সবচেয়ে ভালোভাবে করেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।’

প্রমা আবৃত্তি সং গঠনের শিল্পী রাশেদ হাসান বলেন, ‘বাংলায় প্রথম গীতি নাট্য বাল্মিকী প্রতিভা। এতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লোকগানের সাথে পাশ্চাত্য সঙ্গীতের মিলন ঘটান। কালমৃগয়া গীতি নাট্যে আইরিশ, স্কটিশ ও ইংলিশ গানের সুর সরাসরি ব্যবহার করেন। এভাবে মেলবন্ধনের মধ্য দিয়ে বাইরের পৃথিবীতেও প্রকাশিত হন স্বতন্ত্র রবি।’

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/আরডি/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন