বিজ্ঞাপন

ভিডিওকলে অশালীন প্রস্তাব চিকিৎসকের— নার্স-ছাত্রীর অভিযোগ

August 10, 2022 | 6:08 pm

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. বেলায়েত হোসেনের বিরুদ্ধে এক সিনিয়র নার্স ও সহকারী এক নার্সের মেয়েকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। জোর করে মোবাইল নম্বর ও ফেসবুক আইডি নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার এবং ভিডিও চ্যাটে অশালীন প্রস্তাব দেওয়ার ঘটনায় চাঁদপুর সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

বিজ্ঞাপন

এদিকে, ডা. বেলায়েত তার বিরুদ্ধে দেওয়া অভিযোগ তুলে নিতে হাইমচোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য সহকারী আবদুর রহমান রিয়াদকে দিয়ে হত্যার হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন বলেও অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। তাদের দাবি, এমতাবস্থায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক সহকারী নার্স চাকরির সুবাদে তার কলেজশিক্ষার্থী মেয়েকে নিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোয়ার্টারে থাকেন। সম্প্রতি ডা. বেলায়েত হোসেনের সঙ্গে নার্সের মেয়ের পরিচয় হয়। পরিচয়ের সময় কলেজশিক্ষার্থীর মোবাইল নম্বর চান বেলায়েত। ওই শিক্ষার্থী মোবাইল নম্বর দিতে রাজি না হলেও জোরপূর্বক তিনি নিয়ে নেন। মোবাইল নম্বর নেওয়ার পর থেকে হোয়াটসঅ্যাপ মেসেঞ্জারে ফোন দিয়ে অশ্লীল কথাবার্তা, মেসেজ ও ছবি পাঠাতে থাকেন। সেইসঙ্গে ওই কর্মকর্তার স্ত্রী বাসায় না থাকলে ওই ছাত্রীকে বাসায় যাওয়ার প্রস্তাব দেন। এমনকি কর্মকর্তার কথা না শুনলে ছাত্রীর মাকে অন্যত্র বদলিরও হুমকি দেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

কলেজশিক্ষার্থী সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমি ডা. বেলায়েতকে বাবার মতো শ্রদ্ধা করি। অথচ আমার সঙ্গে যে ধরনের অশ্লীল কর্মকাণ্ড করতে চেয়েছেন, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। হোয়াটসঅ্যাপ মেসেঞ্জারে তার কর্মকাণ্ডের প্রমাণ আছে। তার যৌন হয়রানির কারণে আমি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। নিরুপায় হয়ে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।’

এদিকে, ডা. বেলায়েতের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগে সিভিল সার্জনের কাছে আরেকটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সিনিয়র এক নার্স। তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন, করোনার ভ্যাকসিন দেওয়ার প্রণোদনা হিসেবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আট নার্সকে ২৪ হাজার করে এক লাখ ৯২ হাজার টাকা দেয় মন্ত্রণালয়। আট নার্সকে শুধুমাত্র ৪৮ হাজার টাকা দিয়ে বাকি টাকা অফিস খরচ বাবদ কেটে রাখেন বেলায়েত হোসেন। তখন ওই আট নার্স পাওনা টাকা চাইলে ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপে অশ্লীল কথা বলে হয়রানি করেন। অফিসে আপত্তিকর কথাবার্তা বলেন। যৌন হয়রানির ভয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্সরা তার অফিস রুমে যেতে ভয় পান। এজন্য অনেক নার্স প্রণোদনার টাকা দাবি করেন না। তার এই হয়রানির কারণে অনেকেই কাজে মনোযোগ দিতে পারছেন না। এজন্য জেলা সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ ও ভিডিও বক্তব্য জমা দিয়েছে তারা।

বিজ্ঞাপন

ওই সিনিয়র নার্স সারাবাংলাকে বলেন, ‘ডা. বেলায়েত বিভিন্ন সময় হোয়াটসঅ্যাপ মেসেঞ্জারে অশ্লীল কথাবার্তা লিখে পাঠান। এতে আমার পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি হয়েছে। সেইসঙ্গে ফেসবুকে কোনো পোস্ট দিলেও বাজে মন্তব্য করেন। ফলে পোস্টগুলো ডিলিট করতে বাধ্য হই। তিনি আমাকে দেখলেই অশ্লীল মন্তব্য করেন। এছাড়া নার্সদের প্রণোদনা অফিস খরচ দেখিয়ে নিজেই আত্মসাৎ করেছেন। এজন্য প্রতিকার চেয়ে সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।’

অভিযোগের বিষয়ে ডা. বেলায়েত সারাবাংলাকে, ‘আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এসেছে তা মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। বাকি কথা তারাই বলবে।’

বিজ্ঞাপন

এদিকে, হত্যার হুমকির বিষয়টি অস্বীকার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য সহকারী আবদুর রহমান রিয়াদ সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমি কাউকে কোনো হুমকি দিইনি। আমাদের এখানে প্যাথোলোজি ডিপার্টমেন্টে রিয়াজ নামে একজন চাকরি করেন। নামে কনফিউশান হতে পারে।’ পরে রিয়াজ নামের ওই ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি হুমকির বিষয়টি অস্বীকার করেন।

অভিযোগের বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘ডা. বেলায়েতের বিরুদ্ধে দু’টি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগগুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এসএসএ/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন