বিজ্ঞাপন

ইভিএম-এ ভোট জালিয়াতির অভিযোগ এনে আদালতে যুবলীগ নেতা

August 10, 2022 | 7:19 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) কারচুপির মাধ্যমে ভোটের ফলাফল জালিয়াতির অভিযোগে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন চট্টগ্রামের এক যুবলীগ নেতা। গত জুনে হাটহাজারী উপজেলার ফরহাদাবাদ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া এ যুবলীগ নেতার পক্ষে আদালতে শুনানিতে অংশ নেন বিএনপিপন্থী একদল আইনজীবী।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (১০ আগস্ট) চট্টগ্রামের প্রথম সিনিয়র সহকারী জজ ইসরাত জাহান নাসরিনের আদালতে ফরহাদাবাদ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের ফলাফল ও প্রকাশিত গেজেট বেআইনি ঘোষণা চেয়ে নালিশী মামলা দায়ের করেন নাসির উদ্দিন নামে ওই প্রার্থী। আদালত আদেশের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছেন বলে জানিয়েছেন বাদীর আইনজীবী মোহাম্মদ হাসান আলী চৌধুরী।

বাদী নাসির উদ্দিন সারাবাংলার কাছে নিজেকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলা যুবলীগ ও ফরহাদাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য বলে দাবি করেন।

বিজ্ঞাপন

মামলায় স্থানীয় সরকার সচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, হাটহাজারী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার, সহকারী নির্বাচন কর্মকর্তা এবং ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের ১১টি ভোটকেন্দ্রের ১১ জন প্রিজাইডিং অফিসার এবং বিজয়ী প্রার্থী আওয়ামী লীগ দলীয় শওকত আলমকে বিবাদী করা হয়েছে। নির্বাচনে অংশ নেওয়া আরও দুই প্রার্থী মোহাম্মদ মুজিবুল আলম চৌধুরী ও মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনকেও মামলায় বিবাদী করা হয়েছে।

গত ১৫ জুন হাটহাজারী উপজেলার ফরহাদাবাদ ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ৬ হাজার ১৯৮ ভোটে নৌকা মার্কার প্রার্থী শওকত আলমকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। পরাজিত নাসির উদ্দিনের প্রাপ্ত ভোট ৫ হাজার ৬৬৯।

বিজ্ঞাপন

বাদীর আইনজীবী চট্টগ্রাম জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হাসান আলী চৌধুরী সারাবাংলাকে বলেন, ‘ইভিএম মেশিনে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার সময় কমান্ড পরিবর্তন করে চূড়ান্ত জালিয়াতি করা হয়। যে প্রার্থী প্রথম হয়েছেন তার ভোট দেখানো হয়েছে চার নম্বর প্রার্থীকে। আর যিনি চার নম্বর হয়েছেন তার ভোট দেখানো হয়েছে প্রথম হওয়া প্রার্থীকে। এভাবে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে চার নম্বর প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।’

‘অথচ ১১টি ভোটকেন্দ্র থেকে যখন সাদা কাগজে ফলাফল লিখে দেওয়া হয়, সেখানে নাসির উদ্দিনকে ২৫৯ ভোটে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু ইভিএম এর মাধ্যমে সেটি পরিবর্তন করে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। আমরা আদালতে ভোটিং কার্ড তলবের আবেদন করেছি। নির্বাচনের ফলাফল বেআইনি ঘোষণা চেয়েছি।’

বিজ্ঞাপন

শুনানিতে অংশ নেওয়া বার কাউন্সিলের সদস্য বিএনপিপন্থী আইনজীবী নেতা এস এম বদরুল আনোয়ার বলেন, ‘ইভিএম এর মাধ্যমে কিভাবে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করা হচ্ছে, জঘন্যতম কারচুপি করা হচ্ছে। তার জলজ্যান্ত প্রমাণ হচ্ছে এই মামলা। আমরা আদালতের কাছে প্রতিকার চেয়েছি। আশা করছি সুবিচার পাব।’

বাদী নাসির উদ্দিন সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের অনুসারী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একজন রাজনৈতিক কর্মী। আমি দলের মনোনয়ন না পেলেও জনগণের সমর্থনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলাম। কিন্তু জনসমর্থনহীন দলীয় একজন প্রার্থীকে জেতানোর জন্য জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এবং দু’জন আওয়ামী লীগ নেতা মিলে ইভিএমকে ব্যবহার করে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন। তারা পরস্পরের যোগসাজশে আমাকে পরিকল্পিতভাবে পরাজিত ঘোষণা করে ইভিএম পদ্ধতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।’

বিজ্ঞাপন

‘নির্বাচনে জালিয়াতির বিষয়ে আমি নির্বাচন কমিশন, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে অভিযোগ করেছিলাম। কিন্তু এ সব অভিযোগের সুরাহা না করে গত ৮ জুলাই গেজেট প্রকাশ করা হয়। এ জন্য আমি আদালতের আশ্রয় নিয়েছি।’

বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মাধ্যমে মামলার শুনানি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নাসির উদ্দিন বলেন, ‘কে বিএনপিপন্থী, কে আওয়ামী লীগপন্থী সেটা আমি বুঝি না। আমি পাঁচজন আইনজীবীর কাছে গিয়েছিলাম। যিনি টাকা কম নেবেন বলেছেন, আমি তাকে দায়িত্ব দিয়েছি।’

সারাবাংলা/আরডি/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন