বিজ্ঞাপন

বগুড়ায় ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ

August 10, 2022 | 9:04 pm

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট

বগুড়া: দীর্ঘ ৩ বছর পূর্বে এক গৃহবধূকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন সোনাতলা উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সুজন চন্দ্র ঘোষ। এরপর থেকে বিভিন্ন সময় নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই নারীকে ধর্ষণ করে আসছিলেন তিনি। সুজন সোনাতলা উপজেলার সদর ইউনিয়নের নামাজখালী গ্রামের সুভাশ চন্দ্রের ছেলে, তার মা সন্ধ্যারানী ঘোষ বর্তমানে সদর ইউনিয়নের সংরক্ষিত আসনের সদস্য। তাদের এলাকার পাশেই ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূর বাড়ি।

বিজ্ঞাপন

গত ৯ জুলাই সোনাতলা থানায় সুজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের হয়। এ ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন তিনি। তবে সুজনের সঙ্গে যোগাযোগ না হলেও তার পরিবার ও দলীয় নেতারা বলছেন ভিন্ন কথা। তারা বলছেন বালু উত্তোলন ও টাকা পয়সা লেনদেনের ঘটনায় এটি একটি সাজানো নাটক।

ঘটনার বর্ণনায় ওই গৃহবধূ বলেন, ‘৩ বছর পূর্বে একই এলাকার অন্য এক নারীর কাছে সেলাইয়ের কাজ শিখতে যেতাম। একদিন দুপুরে কাজ শিখতে গেলে ঘরের দরজা ভেতর থেকে আটকানো দেখি। অনেক ডাকাডাকি করলেও কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ধাক্কা দিলে দেখি সুজন এবং ওই নারী অন্তরঙ্গ অবস্থায় আছেন। বিষয়টি দেখে ফেললে ওই নারী ও সুজন আমাকে ঘটনাটি বলতে নিষেধ করে। কথা বলার এক পর্যায়ে ওই নারী আমাকে ধাক্কা দিয়ে ঘরের ভেতর ঢুকে দিয়ে বাহির থেকে দরজা লাগিয়ে দিলে সুজন আমাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ সময় সুজন এবং ওই নারী আমাকে বলেন- এই ঘটনা কাউকে বললে তোর স্বামী ও সন্তানকে মেরে ফেলব। এরপর থেকে দুই-চারদিন পরপর বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে গত তিন বছর ধরে আমাকে ধর্ষণ করেই চলে সুজন। কোনো সময় আপত্তি করলে আমার ননদকে ধর্ষণ করবে বলে ভয় দেখায়। এক পর্যায়ে অতিষ্ট হয়ে বিষয়টি আমার স্বামীকে জানাই এবং তার কথা মতোই সুজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করি।’

বিজ্ঞাপন

এলাকায় ঘুরে ও নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাধারণ সম্পাদক সুজন ও সোনাতলা সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আকাশ বালু উত্তোলন ও বিক্রয় করত। এক পর্যায়ে তারা একটি ট্রাক্টর কেনেন। এটি কেনার সময় বেশিরভাগ টাকা সুজন দিয়েছিলেন। এছাড়া বালু উত্তোলন ও বিক্রয়ের বেশকিছু টাকার লেনদেন ছিল তাদের মধ্যে। এই বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। এক পর্যায়ে দু’জনের মধ্যে দা-কুড়াল সম্পর্ক হয়ে যায়। সুযোগ ও দুর্বল জায়গা খুঁজতে থাকে আকাশ। এক পর্যায়ে ধর্ষণের স্বীকার ওই নারীর স্বামীর সঙ্গে কথা বলে এবং তার স্ত্রীর সঙ্গে ঘটে যাওয়া বিষয়টি স্ত্রীকে বলতে বলে। যা মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে। ওই ভিডিওতে তার ১০ বছর বয়সী ছেলের কথাও রেকর্ড করা হয়। এরপর ভিডিওটি সোনাতলার বিভিন্ন দলীয় নেতা ও কিছু সাংবাদিকদের দেখায় এবং এটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেন আকাশ। কিন্তু নারী ঘটিত বিষয়ে কোনো মামলা না হওয়ার কারণে এটি নিয়ে কেউ এগিয়ে যায় না। সবাই বিষয়টি মিটিয়ে ফেলতে বলে। এক পর্যায়ে ‘সোনাতলায় যা যা দেখেছি’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে ভিডিওটি আপলোড করা হয়। এরপর একদিনেই বিষয়টি ভাইরায় হয়ে যায়। তারপরে পুলিশের তৎপরতায় ওই নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়। অবশেষে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সুজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়।

তবে এ ঘটনায় অনেকেই প্রশ্ন করেছেন— নারী প্রথমে ধর্ষণের সহায়তাকারী ওই নারীকে এই মামলায় আসামি করা হলো না কেন? অপরদিকে নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সিদ্ধান্তে সোনাতলা উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সুজনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একইসঙ্গে মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় সোনাতলা উপজেলা শাখা কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে সোনাতলা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুল হাসান রতন বলেন, ‘সুজন ও আকাশ এর মধ্যে টাকা লেনদেনের বিষয় আছে। এছাড়া ওই গৃহবধূর স্বামীর কাছে থেকেও টাকা পায় সুজন। এসব নানা ঘটনার কারণ এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।’

সোনাতলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ আব্দুল মালেক বলেন, ‘সুজন যদি অপরাধী হয় তার বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। তবে সোনাতলা উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি।’

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে সোনাতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জালাল উদ্দীন বলেন, ‘সুজন চন্দ্র ঘোষের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের হয়েছে। তাকে গ্রেফতার করতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।’

সারাবাংলা/এনএস

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন