বিজ্ঞাপন

মহাসড়কে পণ্যবাহী গাড়ি ডাকাতি, গ্রেফতার ৬

August 13, 2022 | 5:38 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও বন্দর এলাকার মহাসড়কে পণ্যবাহী গাড়ি ডাকাতির সময় অস্ত্রসহ ছয় ডাকাতকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এ সময় পণ্যবাহী গাড়ি ও দুইজন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

র‌্যাব জানিয়েছে, বেশ কিছু দিন ধরে নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও, রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজার এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম, ভুলতা, ঢাকা-সিলেট ও আড়াইহাজার-নরসিংদী মহাসড়কে বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে মহাসড়কে চলাচলকারী সাধারণ যাত্রী এবং পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে এ সকল ডাকাত দলের প্রধান টার্গেট পণ্যবাহী যানবাহন হওয়ায় পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত চালকদের মধ্যে এক ধরনের ভীতিকর অবস্থা তৈরি করে।

শনিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে কারওয়ান বাজার মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব সদর দফতরের মিডিয়া শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এসব তথ্য জানান।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, র‌্যাব-১১ এর একটি দল রূপগঞ্জ ও বন্দর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডাকাতির সময় সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের সরদার মূসা আলী (৪০), নাঈম মিয়া (২৪), শামিম (৩৫), রনি (২৬), আবু সুফিয়ান (২০), মামুনকে (২৪) গ্রেফতার করে। জব্দ করা হয় ২টি চাপাতি, একটি চাইনিজ কুড়াল, একটি ছুরি ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি বাস। উদ্ধার করা হয় ডাকাতির শিকার দুইজন ভুক্তভোগীসহ পণ্যবাহী পিকআপ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা ডাকাতির সঙ্গে তাদের নিজেদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তথ্য প্রদান করে।

গ্রেফতার আসামি জিজ্ঞাসাবাদে জানান, তারা সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য। তারা ডাকাতির উদ্দেশ্যে যুব কল্যান এক্সপ্রেস লিঃ এর একটি বাসের মাধ্যেমে ভুলতা থেকে রূপসী যাওয়ার পথে এশিয়ান হাইওয়েতে ডিমের পিকআপটি তাদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য পিকআপের পিছু নেয়। একপর্যায়ে ভুলতা-রূপসী সড়কে পিকআপটির সামনে বাস দিয়ে রাস্তা আটক করে পিকআপের গতিরোধ করে। এরপর পিকআপের ড্রাইভার ও তার সহকারীকে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক পিকআপটি তাদের নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং ড্রাইভার ও তার সহকারীকে হাত-পা ও চোখ-মুখ বেঁধে মারপিট করে ও তাদের সঙ্গে থাকা বাসে উঠিয়ে নেয়। পরে ওই ডাকাত দলের সরদার মূসা ও তার প্রধান সহকারী নাঈম পিকআপটি নিয়ে গাউছিয়া-মদনপুরমুখী রাস্তায় নিয়ে যায় এবং ডাকাত দলের বাকি সদস্যরা পিকআপের চালক ও হেলপারকে তাদের সঙ্গে থাকা বাসে করে মদনপুরের দিকে নিয়ে যায়।

বিজ্ঞাপন

পরে গ্রেফতারকৃত ডাকাতদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পিকআপের ড্রাইভার ও হেলপারকে উদ্ধারের উদ্দেশ্যে র‌্যাবের দলটি মদনপুর পৌঁছায়। তাদের দেওয়া তথ্যমতে, জেলার বন্দর থানার মদনপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক হতে যুব কল্যাণ এক্সপ্রেস লিমিটেডের বাসটি আটক করতে সক্ষম হয়। এ সময় র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতদলের সদস্যরা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে র‌্যাব সদস্যরা চারজন ডাকাতকে আটক করতে সক্ষম হয় এবং অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন ডাকাত বাস থেকে লাফিয়ে পালিয়ে যায়। ওই বাসের ভিতর হতে হাত-পা ও চোখ-মুখ বাঁধা অবস্থায় পিকআপের ড্রাইভার ও তার সহকারীকে উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে ব্যাব।

গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ১০/১২ জনের সংঘবদ্ধ এই ডাকাত চক্রটি বেশ কয়েক বছর ধরে জেলার সোনারগাঁও, রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজার এলাকায় বিভিন্ন মহাসড়কে নিয়মিত ডাকাতি করে আসছে। তারা পেশায় কেউ গার্মেন্টস কর্মী, ড্রাইভার, হেলপার আবার কেউ রাজমিস্ত্রী ও কাপড়ের দোকানের কাটিং মাস্টার। দিনে নিজ নিজ পেশায় নিয়োজিত থাকলেও বিভিন্ন সময় তারা দুর্ধর্ষ ডাকাতিতে অংশগ্রহণ করে থাকে। আরও জানা যায়, এই চক্রটি মূলত তিনটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে ডাকাতি করত এবং ডাকাতির কাজে একটি বাস ব্যবহার করে। গ্রেফতারকৃত মূসার নির্দেশে প্রথম গ্রুপটি ডাকাতির জন্য বিভিন্ন গার্মেন্টসের পণ্যবাহী ট্রাক ও মহাসড়কে চলাচলকারী পণ্যবাহী যানবাহন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে এবং ডাকাতির জন্য সম্ভ্যাব্য স্থান নির্ধারণ করে। এই দলের সদস্যরা পেশায় গার্মেন্টস কর্মী, ড্রাইভার, হেলপার আবার কেউ রাজমিস্ত্রী ও কাপড়ের দোকানের কাটিং মাস্টার। দ্বিতীয় দলটি বাস নিয়ে মহাসড়কের সুবিধাজনক স্থানে অবস্থান নিয়ে ডাকাতিতে অংশগ্রহণ করে। তারা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে ডাকাতির জন্য টার্গেট করা পণ্যবাহী যানবাহনটির পিছু নেয়। পরবর্তীতে সুবিধাজনক স্থানে টার্গেট করা বাস দিয়ে পণ্যবাহী গাড়িটির গতিরোধ করে এবং দ্রুত পণ্যবাহী গাড়ির চালক ও হেলপারকে এলোপাথারি মারপিট করে হাত-পা ও চোখ-মুখ বেঁধে বাসে তুলে নেয়।

বিজ্ঞাপন

জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা গেছে, পরে পণ্যবাহী গাড়ির চালক ও হেলপারকে জিম্মি করে বাস করে অন্য স্থানে সরিয়ে নিয়ে যায় ও তাদের মারপিট করে মুক্তিপণ দাবি করে। ডাকাতি শেষে তাদের হাত-পা ও চোখ-মুখ বাধাঁ অবস্থায় মহাসড়কের নির্জন স্থানে ফেলে দেয়। তৃতীয় দলটির নেতৃত্বে থাকা ডাকাত দলের প্রধান মূসা পণ্যবাহী গাড়িটি চালিয়ে ডাকাতি করা পণ্য বিক্রি করার জন্য পূর্ব নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যায় এবং মালামাল আনলোড করে। এছাড়াও ডাকাত দলটি পণ্যবাহী গাড়িটি সুবিধাজনক স্থানে বিক্রি করে দেওয়ার চেষ্টা করে অথবা ব্যর্থ হলে পরিত্যাক্ত অবস্থায় কোনো নির্জন স্থানে ফেলে যায়। বিগত এক বছর ধরে যুব কল্যাণ এক্সপ্রেস লিমিটেডের বাসটি দিয়ে তারা বেশ কয়েকটি ডাকাতিতে অংশগ্রহণ করে। পূর্বে তারা অন্যান্য বাস অথবা পিকআপ দিয়ে ডাকাতিতে অংশগ্রহণ করতেন।

গ্রেফতারকৃত মূসাকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, এই ডাকাত চক্রের মূলহোতা তিনি। তিনি বিগত ১০/১২ বছর যাবৎ বিভিন্ন মহাসড়কে ডাকাতি করে আসছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে বেশ কয়েকটি ডাকাতির ঘটনা তার নেতৃত্বে সংঘঠিত হয়েছে এবং প্রত্যেকটি ডাকাতিতে তিনি নিজে সশরীরে অংশগ্রহণ করেন। তার নামে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এর পূর্বেও ডাকাতির মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাভোগ করেছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

গ্রেফতারকৃত শামিম ডাকাত সর্দার মূসার প্রধান সহযোগী এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বাসটির চালক। বিগত ২০০৬ সালে স্ত্রীর হত্যার দায়ে সাত বছর কারাভোগ করে তিনি। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। গ্রেফতারকৃত মূসার নেতৃত্বে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে বেশ কয়েকটি ডাকাতিতে অংশগ্রহণ করে বলে জানায়। গ্রেফতারকৃত রনি ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বাসটির গাড়ি চালকের হেলপার। গ্রেফতার হওয়া নাঈম পেশায় একজন গাড়ি চালক। গ্রেফতারকৃত মামুন স্থানীয় একটি সেলাই কারখানায় কার্টিং মাস্টারের কাজ করে। সম্প্রতি তারা মূসার নির্দেশে বেশকয়েকটি ডাকাতিতে অংশগ্রহণ করে। তাদের নামে বিভিন্ন থানায় একাধিক ডাকাতির মামলা রয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

সারাবাংলা/ইউজে/এনএস

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন