বিজ্ঞাপন

পতেঙ্গা সৈকত বেসরকারি খাতে দেওয়া ঠেকাতে আদালতে যাওয়ার ঘোষণা

August 13, 2022 | 9:17 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতের একাংশের ব্যবস্থাপনা বেসরকারি অপারেটরকে দেওয়ার পরিকল্পনা চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) বাতিল না করলে আদালতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরাম।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলেনে সংগঠনের নেতারা অবিলম্বে সিডিএকে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরামের সহ-সভাপতি প্রকৌশলী সুভাষ বড়ুয়া বলেন, ‘বিভিন্ন সংবাদ সূত্রে জানতে পেরেছি পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন সাত কিলোমিটার পরিসরের দেড় কিলোমিটার পরিসরকে পর্যটন জোন-১ এবং পর্যটন জোন-২ হিসেবে ভাগ করে টেন্ডারের মাধ্যমে ২৫ বছরের জন্য বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ইজারা দিতে চায় সিডিএ। বিশ্বের কোথাও ব্যক্তিখাতে বিস্তৃত সৈকত বা নদী তীরে প্রবেশ মূল্যের বিনিময়ে প্রবেশের অধিকার হরণ করা হয়েছে এমন তথ্য আমাদের জানা নেই।’

বিজ্ঞাপন

‘সিডিএ নগর উন্নয়ন মহাপরিকল্পনা এবং বিস্তৃত অঞ্চল পরিকল্পনায় (ড্যাপ) পতেঙ্গা সৈকতকে পাবলিক ওপেন স্পেস বা সর্বজনের উন্মুক্ত পরিসর হিসেবে সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে। ঢাকায় তুরাগ নদীর দখল ও দূষণ নিয়ে করা রিটের প্রেক্ষিতে সংবিধানের ১৮(ক), ২১, ৩১ ও ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে ‘পরিবেশ, প্রাকৃতিক সম্পদ, জীববৈচিত্র্য, সব উন্মুক্ত জলাভূমি, সমুদ্র, সমুদ্র সৈকত, নদ-নদী, খাল-বিল, হাওর-বাওর, ঝিল, নদীর পাড়, পাহাড়-পর্বত, টিলা, বন এবং বাতাস ইত্যাদি কোনো ব্যক্তি বা কোম্পানিকে বাণিজ্যিকভাবে ইজারা দেওয়া চলবে না, হাইকোর্ট এমন রায় দিয়েছে। ফলে কার্যত সিডিএ কোনো স্থান আইনগতভাবে ইজারা দেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করে না।’

সুভাষ বড়ুয়া আরও বলেন, ‘একটি সার্বজনীন উন্মুক্ত পরিসর ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য উন্মুক্ত রেখেও বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা সম্ভব। পর্যটকদের জন্য জলযান ভ্রমণ, ক্যাফে, রেস্টুরেন্ট, নানা রকম দোকান, খেলার ব্যবস্থা ইত্যাদি নির্মাণ করে সিডিএর নিয়ন্ত্রণাধীন রেখে এসব পরিচালনা সুযোগ ব্যক্তিগতখাতে ইজারা দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া যায়। এতে বিনিয়োগকারীগণ কর্তৃক নিরাপত্তাসহ ভ্রমণকারীদের সকল সুবিধা নিশ্চিত করে সহজেই মুনাফা উঠিয়ে নেওয়া যায়। আমরা সিডিএকে সেই পথে অগ্রসর হওয়ার আহ্বান জানাই। এ বিষয়ে আমরা সরাসরি সিডিএকে চিঠি দিয়েছি সপ্তাহখানেক আগে। মন্ত্রণালয়কেও জানিয়েছি। দেখি তারা কী করেন। এরপর আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেব। প্রয়োজনে আদালতে যাব।’

বিজ্ঞাপন

পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরামের চেয়ারম্যান ও ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. মু সিকান্দার খান বলেন, ‘বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দিলে পতেঙ্গা সৈকতে টিকিট কাটা ছাড়া সাধারণ মানুষ আর প্রবেশ করতে পারবে না। এতে অধিকার ক্ষুন্ন হবে। চট্টগ্রাম নগরীতে যেটুকু উন্মুক্ত পরিসর ছিল সেগুলোতেও জনসাধারণের প্রবেশাধিকার সীমিত বা বন্ধ করা হয়েছে। আমাদের সার্কিট হাউজের সামনের মাঠ ও ফয়’স লেক চলে গেছে এভাবে। নিজেরা যদি সচেতন না হই তাহলে স্বার্থান্বেষী মহলের দোষ দিয়ে লাভ নেই।’

সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরামের কো-চেয়ারম্যান এবিএম বাসেত, মো. নাজিম উদ্দিন, শাহরিয়ার খালেদ উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

পতেঙ্গা সৈকত নিয়ে সিডিএ’র পরিকল্পনায় আছে, সৈকতের পতেঙ্গা অংশ থেকে চট্টগ্রাম রফতানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল (সিইপিজেড) পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার অংশ নিয়ে হবে ‘পর্যটন জোন-১’। এর মধ্যে ৭০০ মিটার অংশ থাকবে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায়। টেন্ডারের মাধ্যমে সেখানে অপারেটর নিয়োগ করা হবে। বাকি সোয়া পাঁচ কিলোমিটার সৈকত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তবে এর রক্ষণাবেক্ষণ করবে একই বেসরকারি অপারেটর প্রতিষ্ঠান।

এছাড়া আকমল আলী রোড সংলগ্ন সৈকতের যে অংশটি সাগর থেকে ল্যান্ড রিক্লেইমের (জমি পুনরুদ্ধার) প্রক্রিয়ায় পাওয়া গেছে, সেখানকার ২৩ একর জমি নিয়ে হবে ‘পর্যটন জোন-২’। জোন-২ তে পর্যটকদের জন্য হোটেল-মোটেল-রাইডসহ বিভিন্ন ধরনের অবকাঠামো গড়ে তোলার সুযোগ রাখা হয়েছে পরিকল্পনায়।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/আরডি/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন