বিজ্ঞাপন

পুড়ে যাওয়া অভিযান-১০ লঞ্চ মালিকের কাছে হস্তান্তর

August 13, 2022 | 11:02 pm

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট

বরিশাল: সুগন্ধা নদীতে আগুনে পুড়ে যাওয়া অভিযান-১০ লঞ্চটি ৯ মাস পর মালিকপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নৌ আদালতের নির্দেশে শনিবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে লঞ্চটি মালিকপক্ষ মেরামতের জন্য নিয়ে যায়।

বিজ্ঞাপন

ঝালকাঠি থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম লঞ্চের মালিক হামজালাল শেখের কাছে এটি হস্তান্তর করেন। পরে সুগন্ধা নদী তীরের ডিসি পার্ক থেকে লঞ্চটি বাল্কহেডের সঙ্গে বেঁধে মেরামতের জন্য নলছিটির দপদপিয়ায় নিজাম শিপিং ডকইয়ার্ডের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়।

পুলিশ জানায়, গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর রাতে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বরগুনাগামী অভিযান-১০ লঞ্চটি ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীর দিয়াকুল এলাকায় পৌঁছানোর পর ইঞ্জিনে ত্রুটি দেখা দেয়। এ সময় আগুন লেগে লঞ্চটি পুড়ে যায়। এতে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান লঞ্চের ৪৭ যাত্রী। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন অর্ধশত মানুষ।

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনায় ২৮ ডিসেম্বর স্বজনহারা ব্যবসায়ী মনির হোসেন বাদী হয়ে ঝালকাঠি থানায় লঞ্চের মালিক হাম জালাল শেখসহ অজ্ঞাতনামা ২০-২৫ জনকে আসামি করে মামলা করেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মামলাটি ঝালকাঠির আদালত থেকে ঢাকা নৌ আদালতে পাঠানো হয়। সেখানেই বিচারাধীন রয়েছে মামলাটি। এ ঘটনায় লঞ্চের মালিক আটক হলেও জামিনে মুক্তি পান।

পরে মালিকপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৪ জুলাই নৌ আদালত মালিকপক্ষের কাছে লঞ্চটি হস্তান্তরের আদেশ দেন। গত ২৬ জুলাই সেই আদেশের কপি ঝালকাঠি থানায় আসে।

বিজ্ঞাপন

শনিবার লঞ্চটি নিতে মালিকপক্ষ আসার খবরে স্থানীয় উৎসুক জনতা সুগন্ধা নদী তীরের ডিসি পার্কে ভিড় করেন। জনতার ভিড় দেখে লঞ্চের মালিক হামজালাল শেখ সেখান থেকে চলে যান। এরপর থেকে তাকে আর দেখা যায়নি।

লঞ্চের মালিকদের প্রতিনিধি হিসেবে ডিসি পার্ক থেকে লঞ্চ নেওয়ার দায়িত্ব পালন করেন সুন্দরবন-১২ লঞ্চের ঝালকাঠি ঘাট সুপারভাইজার মো. আবু হানিফ। তিনি বলেন, ‘অভিযান লঞ্চের মালিক হাম জালাল শেখ শনিবারে সকালে ঝালকাঠি আসেন। তিনি থানা পুলিশের কাছে আদালতের কাগজপত্র দেখিয়ে লঞ্চটির জিম্মাদারের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নেন। ঘটনাস্থলে লোকজন বেশি থাকায় হামজালাল শেখ বরিশাল চলে যান। আমি তাদের প্রতিনিধি হিসেবে সহযোগিতা করেছি।’

বিজ্ঞাপন

ঝালকাঠি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ঢাকা নৌ আদালতের নির্দেশনা আমরা গত ২৬ জুলাই হাতে পেয়েছি। লঞ্চের মালিক পক্ষও আমাদের কাছে কাগজপত্র পাঠিয়েছেন। আমরা সেগুলো যাচাইবাছাই করে দেখেছি। সঠিক প্রক্রিয়ায় লঞ্চ হস্তান্তর করা হয়েছে।’

সারাবাংলা/এমও

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন