বিজ্ঞাপন

ওলিও হোটেলে বিস্ফোরণের ৫ বছর, এখনো শুরু হয়নি সাক্ষ্যগ্রহণ

August 15, 2022 | 9:23 pm

আরিফুল ইসলাম, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ২০১৭ সালের ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের আগে ঢাকার পান্থপথের ওলিও হোটেলে বিস্ফোরণের ৫ বছর পার হলেও মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ এখনো শুরু হয়নি।

বিজ্ঞাপন

পাঁচ বছর আগে ১৫ আগস্টের এইদিনে কর্মসূচিতে হামলার পরিকল্পনা করতে পান্থপথের ওই হোটেলে আশ্রয় নেয় জঙ্গিরা। তবে তাদের পরিকল্পনাকে বাস্তবায়ন করতে দেয়নি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। ঘটনার আগের রাতেই পুলিশের অভিযানের সব কিছু নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। এক পর্যায়ে সকালে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এক জঙ্গি আত্মঘাতী হন। ওই ঘটনার পরের দিন পুলিশ বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলাটি বর্তমানে ঢাকার সন্ত্রাস বিরোধ বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমানের আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। সর্বশেষ গত ৭ আগস্ট মামলাটি সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ধার্য ছিল। কিন্তু ওই দিন কোনো সাক্ষী আদালতে হাজির হননি। এজন্য আদালত আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন।

বিজ্ঞাপন

গত বছরে মামলাটির চার্জগঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। আদালত সূত্রে জানা যায়, চার্জগঠনের পর থেকে এখন পর্যন্ত ১১ বার সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ধার্য থাকলেও একজনেরও সাক্ষ্য হয়নি।

সংশ্লিষ্ট টাইব্যুনালের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর গোলাম ছারোয়ান খান (জাকির) মামলা সম্পর্কে জানতে চাইলে সারাবাংলাকে জানান, ২০২১ সালে চার্জগঠন করে বিচারিক আদালত মামলাটির অনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরুর আদেশ দেন। কিন্তু ওই সালে করোনাভাইরাসের কারণে বিচারকার্য কিছুটা ব্যাহত ঘটেছে। পরিবেশ স্বাভাবিক হওয়ায় আবার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বর্তমানে মামলাটি সাক্ষ্য গ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। মামলার বাদীকে একাধিকবার সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য সমন দেওয়া হলেও আদালতে হাজির হননি। এজন্য তার বিরুদ্ধে অজামিনযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা ইস্যু করা হয়েছে। সাক্ষীরা আদালতে উপস্থিত হওয়া মাত্র বিচারকার্য দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করব।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও জানান, সাক্ষীদের হাজির করার জন্য রাষ্ট্রপক্ষের কোনো গাফলতি নেই। রাষ্ট্রপক্ষ সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছে। যেহেতু মামলাটির বাদী একজন পুলিশ কর্মকর্তা, সেহেতু বাদলিজনিত কারণে থানা পরিবর্তন হওয়ায় আদালতের সমন ঠিকমতো পৌঁছাতে দেরিও হতে পারে। আদালতে সাক্ষী আসামাত্রও সাক্ষ্যগ্রহণ করতে প্রস্তুত রয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর পরবর্তী সাক্ষ্যর জন্য তারিখ ধার্য রয়েছে। মামলাটিতে সকল আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা দাবি করেন তিনি।

এদিকে আসামি আকরাম হোসেন খান নিলয় ওরফে স্লেড উইলসন, নাজমুল হাসান ওরফে মামুন, তারেক মোহাম্মদ ওরফে আদনান, কামরুল ইসলাম শাকিল ওরফে হারিকেন, তানভির ইয়াসিন করিম, সাদিয়া হোসনা লাকী পক্ষের আইনজীবী সুব্রত দেবনাথ রানা সারাবাংলাকে বলেন, ‘মামলাটির এজাহারে কারও নাম নেই। মামলার তদন্ত শেষে আসামিদের নাম দেওয়া হয়েছে। এটা গতানুগতিকভাবে চার্জশিটে আসামিদের নাম দেওয়ার প্রয়োজন এজন্য দিয়েছে। সন্দিহান ভাবে আসামিদের নাম চার্জশিটে দেওয়া হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করে রাজু আহমেদ নামে এক পুলিশ কর্মকর্তা চার্জশিট দাখিল করেন। তবে ওই কর্মকর্তা ২০২১ সালে নাকি মারা গেছে বলে শুনেছি। মামলায় ৬৫ জন সাক্ষী মধ্যে চার্জশিট দাখিলকৃত আইও (তদন্ত কর্মকর্তা) ছাড়া কারও কোনো বক্তব্য নেই। মামলার আইও যদি মারা যায় তাহলে আর কী থাকে।’

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষীদের আদালতে হাজির করতে ব্যর্থ হয়েছে। একটা কিছু হক। বিনাবিচারে ৫ বছর ধরে আসামিরা জেলে রয়েছে। সাক্ষী আসুক আমরা ট্রায়াল ফেস করতে রাজি আছি। তবুও মামলাটির বিচার দ্রুত শেষ হোক। হয় আসামিরা খালাস পাবে নাইতো অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাজা হবে। একটা কিছু হওয়া প্রয়োজন। এভাবে বিনাবিচারে আর কত দিন। মামলাটিতে আসামিদের কীভাবে নির্দোষ প্রমাণ করা যায় সেই চেষ্টা করব। তারা যেন ন্যায়বিচার পায় সে জন্য কাজ করব। আশা করি আসামিরা ন্যায় বিচার পাবে।’

২০১৯ সাকের ২৪ নভেম্বর জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচিতে জঙ্গি হামলার পরিকল্পনায় সম্পৃক্ত ১৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। মামলার চার্জশিটভূক্ত আসামিরা হলেন- আকরাম হোসেন খান নিলয় ওরফে স্লেড উইলসন, নাজমুল হাসান ওরফে মামুন, আবুল কাশেম ফকির ওরফে আবু মুসাব, আব্দুল্লাহ আইচান কবিরাজ ওরফে রফিক ,তারেক মোহাম্মদ ওরফে আদনান, কামরুল ইসলাম শাকিল ওরফে হারিকেন ওরফে রোবট ওরফে তানজিম, লুলু সরদার ওরফে সহিদ ওরফে মিস্ত্রি, তাজরীন খানম শুভ, সাদিয়া হোসনা লাকী , আবু তুরাব খান , তানভির ইয়াসিন করিম ওরফে হিটম্যান ওরফে জিন, হুমায়রা জাকির নাবিলা, নব মুসলিম আব্দুল্লাহ ও তাজুল ইসলাম ওরফে ছোটন ওরফে মোহাম্মদ ওরফে ফাহিম। এদের মধ্যে তাজুল ইসলাম কিশোর হওয়ায় তার বিরুদ্ধে শিশু আইনে পৃথক একটি চার্জশিট দাখিল করা হয়।

বিজ্ঞাপন

গত বছর ১৩ জানুয়ারি আবু তুরাব খান ও লুলু সরদারকে অব্যাহতি দিয়ে ১১ আসামির বিরুদ্ধে চার্জগঠন করেন আদালত।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে ১৫ আগস্ট ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠান চলার মধ্যেই ৩০০ মিটার দূরে পান্থপথের হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনালে অভিযান চালায় কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ও সোয়াট সদস্যরা। কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা ওই অভিযানের এক পর্যায়ে হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনাল থেকে বিকট বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দ পাওয়া যায়। বিস্ফোরণে হোটেলের চতুর্থ তলার রাস্তার দিকের অংশের দেয়াল ও গ্রিল ধসে নিচে পড়ে।

হামলার পরিকল্পনা ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় ওই সময় কলাবাগান থানায় ১৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন কলাবাগান থানার এসআই সৈয়দ ইমরুল সায়েদ।

সারাবাংলা/এআই/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন