বিজ্ঞাপন

রূপপুর বিদ্যুৎ প্রকল্পের অগ্রগতি সাড়ে ৫১ শতাংশ

August 16, 2022 | 10:20 am

জোসনা জামান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: দেশের প্রথম পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের বাস্তবায়ন এগিয়ে চলছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যেও থেমে যায়নি প্রকল্পের কাজ। শুরু থেকে গত ৩১ জুলাই পর্যন্ত প্রকল্পটির ভৌত অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৫১ দশমিক ৫০ শতাংশ। প্রকল্পের আওতায় এখন পর্যন্ত খরচ হয়েছে ৫৫ হাজার ৭১৮ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এক্ষেত্রে আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ৪৯ দশমিক ২৭ শতাংশ। সেই সঙ্গে এগিয়ে চলছে ফাস্ট ট্র্যাকভুক্ত বাকি ৭টি মেগা প্রকল্পের কাজ। মোট ৮টি প্রকল্পের গড় ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ৭৫ দশমিক ৯৩ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৬৭ দশমিক ৯৯ শতাংশ। বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন চিত্র।

বিজ্ঞাপন

অন্যপ্রকল্পগুলো হলো, পদ্মা সেতু নির্মাণ, মেট্রোরেল, রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ প্রকল্প, পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর, পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ এবং দোহাজারী-রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু-মায়ানমারের নিকটে ঘুমধুম পর্যন্ত সিংগেল লাইন ডুয়েলগেজ ট্র্যাক নির্মাণ প্রকল্প।

ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্প বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সারাবাংলাকে বলেন, সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারে থাকা প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন যাতে কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়, সেদিকে সবসময় আমাদের নজর আছে। ইতোমধ্যেই পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করা হয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরে মেট্রোরেলের উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত অংশও খুলে দেওয়া হবে। সবগুলো মেগা প্রকল্পের কাজই এগিয়ে চলছে।

বিজ্ঞাপন

আইএমইডি সূত্র জানায়, রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি টাকা। প্রকল্পের বাস্তবায়ন শুরু হয় ২০১৬ সালের জুলাই মাসে। মেয়াদ শেষ হবে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে। শুরু থেকে গত জুলাই পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৫৫ হাজার ৭১৮ কোটি ৩০ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছরে প্রকল্পটির অনুকূলে বরাদ্দ এডিপিতে (বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি) আছে ১৮ হাজার ৪২৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ২ হাজার ৪২৬ কোটি ১৬ লাখ টাকা এবং রাশিয়া থেকে নেওয়া ঋণ থেকে ব্যয় করা হবে ১৬ হাজার কোটি টাকা।

পদ্মা সেতু 

বিজ্ঞাপন

গত ২৫ জুন পদ্মা সেতু যানচলাচলের জন্য উদ্বোধন হলেও এখনো পর্যন্ত প্রকল্পের কাজ শতভাগ শেষ হয়নি। ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন হচ্ছে প্রকল্পটি। এটির কার্যক্রম শুরু হয় ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে। কয়েক দফা মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। প্রকল্পের আনুষাঙ্গিক কাজ শেষ করতে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত জুলাই পর্যন্ত প্রকল্পটির আওতায় ব্যয় হয়েছে ২৭ হাজার ৯৮৯ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। আর্থিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৯২ দশমিক ৭০ শতাংশ। পুরো প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ৯৫ দশমিক ১০ শতাংশ।

মেট্রোরেল

বিজ্ঞাপন

এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সংশোধিত ব্যয়সহ খরচ হবে ৩৩ হাজার ৪৭১ কোটি টাকা। ২০১২ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু দ্বিতীয় সংশোধনীতে ব্যয় বাড়ার সঙ্গে মেয়াদ বেড়েছে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। এটির মূল ব্যয় ছিল ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা। মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত বাড়তি অংশ যোগ হওয়ায় এই ব্যয় ও মেয়াদ বৃদ্ধি পেয়েছে। শুরু থেকে জুলাই পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১৯ হাজার ৬৯২ কোটি ৫২ লাখ টাকা। আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ৮৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ। এছাড়া সার্বিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৯২ শতাংশ।

পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ

বিজ্ঞাপন

এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৩৯ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা। এটি ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে। গত জুলাই পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ২৪ হাজার ২৩৮ কোটি ৮২ লাখ টাকা। প্রকল্পটির আর্থিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৬১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। এছাড়া ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ৬১ শতাংশ।

মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ

৩৫ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এটি বাস্তবায়িত হলে ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। ২০১৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে। গত জুলাই পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৫ হাজার ৬৩৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। আর্থিক অগ্রগতি ৪৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং সার্বিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ৬ শতাংশ। এ প্রকল্পটি এখন মহেশখালি-মাতারবাড়ি সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম নামে অবিহিত করা হয়। এ সঙ্গে ১২শ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ ১২টি প্রকল্প যুক্ত রয়েছে।

রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প

১৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন হচ্ছে রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প। ১৩২০ মেগাওয়াট মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রজেক্ট (রামপাল) বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি ২০০৯ সালের জুলাই থেকে বাস্তবায়ন শুরু হয়। গত জুলাই পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১৩ হাজার ১২৮ কোটি টাকা। আর্থিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৮২ দশমিক ০৫ শতাংশ। ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ৮৫ দশমিক ২৫ শতাংশ।

পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দর

এ প্রকল্পটি ৪ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে। ২০১৫ সালের জুলাই থেকে ২০২২ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য ছিল। গত জুলাই পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ৫৭৬ কোটি টাকা। আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ৮১ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং ভৌত অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৮৭ শতাংশ।

দোহাজারী-রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু-মায়ানমারের নিকটে ঘুমধুম পর্যন্ত সিংগেল লাইন ডুয়েলগেজ ট্র্যাক নির্মাণ

১৮ হাজার ৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে প্রকল্পটি। এটি ২০১০ সালের জুলাই থেকে ২০২২ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত জুলাই পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৬ হাজার ৭৪৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। প্রকল্পটির আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ৩৭ দশমিক ৪১ শতাংশ। এছাড়া ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ৭৩ শতাংশ। প্রকল্প সংশি¬ষ্টরা জানান, বর্তমানে প্রকল্পটি সংশোধন প্রক্রিয়া চলমান।

আইএমইডি সচিব আবু হেনা মোরশেদ জামান সারাবাংলাকে জানান, ফাস্ট্রট্র্যাকভুক্ত প্রকল্পগুলো প্রতি চার মাস পরপর সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। এর ফলে প্রকল্পগুলোর বর্তমান অবস্থা এবং কোন জটিলতা থাকলে সেগুলো নিরসন করা সহজ হয়। এ প্রতিবেদন আমরা অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) মাধ্যমে ফাস্ট ট্র্যাক টাস্কফোর্সের কাছে পাঠানো হচ্ছে।

সারাবাংলা/জেজে/এএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন