বিজ্ঞাপন

প্লেটোর সেই দার্শনিক রাজা ও কিছু কথা

August 17, 2022 | 11:11 pm

আয়শা এরিন

দার্শনিক ঈশ্বরমিত্রের মতবাদ। তিনি বললেন, ‘সমাজ অনেকটা শয়তানের মত। তোমাকে হারাতে চায়। আবার তুমি জিতে গেলে সেই সমাজই পথ খুঁজে পায়।’

বিজ্ঞাপন

ওই মতবাদের আলোকে ব্যাখা করতে চাইলে বলা যায় যে, তুমি নিজে অসাধারণ হয়ে উঠবার চেষ্টায় গেলে বাধা আসবে। কিন্তু হার না মেনে চলতে থাকলে একদিন তোমার জয় আসতেই পারে। তখন তোমার আলাদা সত্তাকেই ওই সমাজ গ্রহণ করবে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় কয়েক বছর আগে হঠাৎ করেই একটি নাম আলোচনায় চলে আসে। রাজধানী ঢাকায় আদম তমিজী হক নামের এই আগন্তক কে রাজনীতি করতে চাইবার অভিপ্রায়ে দেখা যাচ্ছিল। দেশের অধিকাংশ সংবাদমাধ্যমগুলো তাঁকে মৌসুমি পাখি মনে করে যা খুশি লেখা শুরু করল।

বিজ্ঞাপন

মি. হক ঢাকা উত্তরের মেয়র হতে চেয়েছিলেন। অথচ, সংবাদমাধ্যম ঢাকা উত্তরের বর্তমান মেয়র একজন আতিকুর রহমান কে মৌসুমি পাখি বলতে উদ্যত হলো না। তিনি কি কয়েকযুগ ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে আসছিলেন? উত্তরটা, আমাদের কোনো কোনো গণমাধ্যমের কাছেই নিশ্চয় আছে!

মাস আগস্ট। শোকাবহ এই মাসেও নিজের মত করেই আদম তমিজী হক জাতির পিতার প্রতি অনিশেষ শ্রদ্ধায় থেকে নানা কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। অর্থাৎ, মানবিক বাংলাদেশের এই কর্ণধার মুচকিয়ে যাননি। গেল কয়েক বছরে দেশের নিরন্ন মানুষগুলোর জন্য তার হাত প্রশস্ত ছিল এবং তেমন কিছুর ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গ্রিক দার্শনিক প্লেটোর রাষ্ট্র কেন্দ্রিক সার্বজনীন মতবাদ্গুলোকে প্রশ্রয় দিয়ে সামাজিক ক্রমবিকাশের সড়ক কে দেখতে চাইবার এখনও অব্দি সুযোগ আছে। যেখানে প্লেটো বললেন, একটি আদর্শ রাষ্ট্র হচ্ছে কল্পলৌকিক সমাজ কাঠামো, যার লক্ষ্য হল, সামাজিক ন্যয়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। প্লেটোর অনুসিদ্ধান্তকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করলে দেখা যায়, তিনি বললেন, ব্যক্তির জন্য রাষ্ট্র নয়, বরং রাষ্ট্রের জন্য ব্যক্তি।

প্লেটো তাঁর রাজনৈতিক স্বপ্নের রাজ্যকে ব্যাখা করতে চেয়ে বললেন, দার্শনিক শ্রেণি, যোদ্ধা শ্রেণি ও উৎপাদক শ্রেণি- এই তিন ধরনের জনশ্রেণি দ্বারা একটি আদর্শ রাষ্ট্র গড়া সম্ভব।

বিজ্ঞাপন

প্লেটোর ইউটোপিয়া আইনের শাসনের পরিবর্তে ব্যক্তিশাসন গুরুত্বপূর্ণ বলে রায় দেয়। তিনি সুস্পষ্ট করে বলেছেন, দার্শনিক রাজাই একটি রাষ্ট্রের সম্বল এবং তাঁকে ঘিরেই জনগোষ্ঠীর ভাগ্য নির্ধারণ করতে হবে।

প্লেটো বলেছেন, দার্শনিক রাজা ও শাসক শ্রেণির প্রতিনিধি হতে হলে তাঁকে শিক্ষিত হয়েই এমন দায়িত্বে আসতে হবে। মানুষের স্বয়ংক্রিয় পছন্দে দার্শনিক রাজার পক্ষে কিংবা অপরাপর প্রতিনিধিদের দ্বারা তখন আর অন্যায় করা সম্ভব হয় না, হবে না। তাঁরা শুধু সৎ ও মহৎ নাগরিক তৈরিতে নিজেকে সঁপে দেবে।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশের বাস্তবতায় একজন শেখ হাসিনা কি প্রায় সেই দার্শনিক রাজা নয়? তিনিও প্লেটোর ভাবসঙ্গিনী হয়েই আজকের বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। কিন্তু, প্রায় পঞ্চাশ বছরে দেশের আপামর জনশ্রেণিকে মানুষ করা যায় নি। নাগরিক করা যায় নি। সু নাগরিক তো নয়- ই। ঠিক সে কারণে, এই দেশে ১৫ আগস্ট হয়েছে। ২১ আগস্ট হয়েছে। মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠির উৎপাত রয়েছে। দেশের প্রায় ২৭% মানুষ মুক্তিযুদ্ধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নয়। তাই একজন শেখ হাসিনার এখন বাংলাদেশের মানুষকে রাজনৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার সময় হয়েছে। সহজ ও সরল ভাষায় সংবিধান পড়ানোর উদ্যোগে তাঁকে যেতে হবে। দেশের প্রতিটি মানুষের সংবিধানের ওপর জ্ঞান থাকতে থাকতে হবে।

প্লেটো অন্যদিকে বলেছিলেন, কোন মানুষই স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। বেঁচে থাকার জন্য প্রত্যেক কে অন্যের ওপর নির্ভর করতে হয়। মানুষ তাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে যৌথজীবন যাপনে অভ্যস্ত। ঠিক একইভাবে যৌথ জীবনের সাংগঠনিক রুপ হল রাষ্ট্র।

দার্শনিক ঈশ্বরমিত্র বলছেন, ঈশ্বরের প্রাকৃতিক নীতির ফলাফল দার্শনিক রাজার ওপর বর্ষিত হোক, তখন সে দুইটি সড়কের উদ্বোধনে যাবে। এক, নীতির সড়ক। দুই, সমন্বয়ের সড়ক।

সমন্বয় খুঁজতে তাঁর তখন দুই ধরনের যোদ্ধা শ্রেণির প্রয়োজন হবে। প্রতিরক্ষা নীতির সঙ্গে থাকা একশ্রেণির যোদ্ধা। আরেকটি হল প্রিয় দেশের জন্য আত্মত্যাগে জীবন দেওয়ার মতো রাজনৈতিক সত্তা হয়ে যোদ্ধাশ্রেণি।

সেই ধারাবাহিকতায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে উদ্যমি, মেধাবী, সৎ, দেশপ্রেমিক নেতৃস্থানীয় চরিত্রদের কাজ করানোর জন্য নাগরিক সন্ধানে এখনই মাঠে নামতে হবে। তাদেরকে বুঝতে হবে, কেন সুইস ব্যাংকে গেল এক দশকে সাত লাখ কোটি টাকা পাচার হলো? কারা করল? অর্থাৎ দার্শনিক রাজার সাথে অনেকেই অভিনয় করে রাষ্ট্রের বড় বড় পদ পদবীতে রয়েছে। তাঁরা দার্শনিক রাজার লোক নয়। মুখোশধারী!

আদম তমিজী হকেরা কিছু নেওয়ার জন্য রাজনীতিতে আসেনি। তারা দিতে চায়। এমন অনেক প্রতিভাবান নাগরিক দেশে রয়েছে। যারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুরণিত হয়ে শেখ হাসিনার মত দার্শনিক রাজার পেছনে দাঁড়িয়ে বলতে চায়, আমরা একটি আদর্শ রাষ্ট্রের জন্য লড়ব। একজন আদম তমিজী হক কেও তাই সু স্বাগত বলার উপলক্ষ রয়েছে, তা মানতে অসুবিধা কোথায়?

লেখক: গণমাধ্যমকর্মী

প্রিয় পাঠক, লিখতে পারেন আপনিও! লেখা পাঠান এই ঠিকানায় -
sarabangla.muktomot@gmail.com

মুক্তমত বিভাগে প্রকাশিত মতামত ও লেখার দায় লেখকের একান্তই নিজস্ব, এর সাথে সারাবাংলার সম্পাদকীয় নীতিমালা সম্পর্কিত নয়। সারাবাংলা ডটনেট সকল মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে মুক্তমতে প্রকাশিত লেখার দায় সারাবাংলার নয়।
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন