বিজ্ঞাপন

প্রথম দিনেই কাপ্তাই হ্রদের ১৬০ টন মাছ অবতরণ

August 18, 2022 | 11:18 pm

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট

রাঙ্গামাটি: নির্ধারিত সময়ের নিষেধাজ্ঞা শেষে কাপ্তাই হ্রদে মাছ আহরণ শুরু হওয়ায় প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে। জেলে, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টরা কর্মব্যস্ত হয়ে পড়েছেন ফের। এদিকে আজ (১৮ আগস্ট) বৃহস্পতিবার আহরণের প্রথম দিনেই কাপ্তাই হ্রদ হতে আনুমানিক ১৬০ টন বিভিন্ন প্রজাতির মাছ অবতরণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিএফডিসির হিসাবে, অবতরণকৃত মাছ হতে ৩৫ লাখ টাকা রাজস্ব আদায়ের কথা জানাল বিএফডিসি। এদিকে জেলে ও ব্যবসায়ীরা জানায়, আহরণের শুরুর দিকে হ্রদে পানিস্বল্পতার কারণে জেলেদের জালে মাত্রাতিরিক্ত মাছ ধরা পড়ছে।

সরেজমিন বিএফডিসি রাঙ্গামাটি অবতরণ ঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, সকাল থেকেই ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে বিভিন্ন এলাকা থেকে মাছ নিয়ে আসছেন জেলেরা। এসময় ব্যবসায়ীরা জেলেদের থেকে বিএফডিসির পল্টুনে মাছগুলো সংগ্রহ করছেন। পরে পরিমাপ করে সরকারি রাজস্ব দিয়ে বাজারজাতকরণের উদ্দেশে পরিবহন করছেন। ট্রাক ও বিভিন্ন পণ্যবাহী পরিবহনে করে এসব চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্নস্থানে।

বিজ্ঞাপন

বিএফডিসি রাঙ্গামাটি কার্যালয়ের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা থেকে রাঙ্গামাটির প্রধানকেন্দ্র, মারিশ্যা, মহালছড়ি ও কাপ্তাই উপকেন্দ্রের পল্টুনে মাছ অবতরণ শুরু হয়। প্রথম দিনে চারটি অবতরণকেন্দ্র মিলে আনুমানিক ১৬০ টন মাছ অবতরণ করা হয়েছে। যার বিপরীতে ৩৫ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হতে পারে। তবে রাত আটটায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মাছ অবতরণ চলছে। রাত দশটা পর্যন্ত অবতরণ করা লাগলে বলে জানিয়েছে বিএফডিসি রাঙ্গামাটির প্রধানকেন্দ্র।

এদিকে, মাছ বাজারজাতকরণ শুরু হওয়ায় চালু হয়েছে বিএফডিসিসহ স্থানীয় বরফকলগুলো। বুধবার (১৭ আগস্ট) থেকেই বরফ উৎপাদন শুরু হয়েছে কলগুলোতে। কারণ সারাদেশে মাছ পরিবহনের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত বরফ দিয়ে সংরক্ষণ করতে হয়।

বিজ্ঞাপন

বিএফডিসি ঘাটে কর্মরত কয়েকজন শ্রমিক জানান, প্রায় চারমাস পরে আমরা কাজে ফিরেছি। এটি আমাদের জন্য অবশ্যই স্বস্তিকর। মাছ ধরা বন্ধ থাকলে আমরাও বেকার হয়ে যাই। জেলেরা ভিজিএফ বরাদ্দ পেলেও আমরা সবসময় বঞ্চিত থেকেছি। এখন আবারও কাজে ফিরে ভালো লাগছে। মাছ পরিবহন করা এক ব্যবসায়ী জানান, প্রতি বছরই শুরুর দিকে অনেক মাছ পাওয়া যায়, এবারও তাই হয়েছে। প্রথমদিনে বেশি চাপ থাকে। তবে এবছরও হ্রদের পানি কম থাকায় ছোট প্রজাতির মাছগুলো আকারে বেশি ছোট ধরা পড়ছে।

জানা গেছে, রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদ হতে প্রায় ৪০-৪২ প্রজাতির মাছ বাজারজাতকরণ করা হলেও এরমধ্যে ছোট মাছ হিসেবে কেচকি, চাপিলা ও মলা মাছের আধিক্য বেশি। তবে এবছর কেচকি মাছও আকারে অনেকটা ছোট পাওয়া যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

মৎস্য ব্যবসায়ী উদয়ন বড়ুয়া জানান, জেলেদের সংগ্রহ করা মাছগুলো যাবতীয় কাজ শেষে ঢাকায় পাঠিয়েছি। মাছ বিক্রি হলে বুঝা যাবে ব্যবসায়িক পরিস্থিতি কেমন। তবে মাছের আকার অনেক ছোট বলছেন এই ব্যবসায়ী।

বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) রাঙ্গামাটি বিপণনকেন্দ্রের বাজারজাতকরণ কর্মকর্তা মো. শোয়েব সালেহীন জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত ১৬০ টন অবতরণকৃত মাছ হতে ৩৫ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হতে পারে। প্রথম দিন হওয়ায় মাছ আহরণ বেশি হওয়ায় অবতরণও বেড়েছে। আজ রাত দশটা পর্যন্ত অবতরণ করা লাগতে পারে।

বিজ্ঞাপন

প্রতি বছরের ১ মে থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত তিন মাস রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদে কার্পজাতীয় মাছের সুষম বৃদ্ধি, হ্রদে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিতসহ অন্যান্য জীববৈচিত্র্য রক্ষায় হ্রদে মাছ ধরা বন্ধ থাকে। এসময় হ্রদের মাছ বাজারজাতকরণ ও স্থানীয় বরফকলগুলোও বন্ধ থাকে। হ্রদে নিষেধাজ্ঞা মানাতে নৌ-পুলিশের পাশাপাশি বিএফডিসির মনিটরিং টিম দায়িত্বপালন করে। তবে বিগত তিন বছর ধরে হ্রদে পর্যাপ্ত পানি না বাড়ার কারণে বিলম্বে মাছ আহরণ শুরু হয়েছে।

গত বছর পর্যাপ্ত পানি না বাড়ায় পুরো আগস্ট জুড়ে মাছ আহরণ বন্ধ থাকায় তিনমাসের নিষেধাজ্ঞা চারমাসে ঠেকেছে। এর আগের বছরও ১০ দিনে বাড়িয়ে ১১ জুলাই মধ্য রাত থেকে মাছ আহরণ শুরু হয়। কিন্তু এর আগে স্বাভাবিক নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেনি। এবারো ৩ মাস ১৭ দিন পর শুরু হয়েছে স্বাদুপানির বৃহৎ জলাধার কাপ্তাই হ্রদে।

প্রসঙ্গত, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সর্ববৃহৎ কৃত্রিম জলাধার বলা হয় রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদকে। প্রায় ৭২৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের কাপ্তাই হ্রদটি রাঙ্গামাটির আট উপজেলা ও খাগড়াছড়ির দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত। মূলত ষাটের দশকে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলায় কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্র করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে এই হ্রদের সৃষ্টি হলেও বর্তমানে স্বাদু পানিতে মৎস্য উৎপাদন ও সরকারের রাজস্ব আদায়ে ভূমিকা রাখছে এই হ্রদটি।

সরকারি হিসাবে রাজস্থলী ও কাউখালী উপজেলা ব্যতিত হ্রদনির্ভর রাঙামাটির অন্য আট উপজেলা এবং খাগড়াছড়ির মহালছড়ি ও দীঘিনালা উপজেলার একাংশের জেলেরা হ্রদের ওপরেই জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন দীর্ঘকাল ধরে।

সারাবাংলা/একে

বিজ্ঞাপন

Tags: ,

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন