বিজ্ঞাপন

চলন্ত লঞ্চে সন্তান প্রসব, আজীবন যাতায়াত ফ্রি ঘোষণা

August 19, 2022 | 12:44 pm

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট

বরিশাল: ঢাকা-বরিশাল নৌরুটে বরিশালগামী এমভি প্রিন্স আওলাদ-১০ লঞ্চে ঝুমুর নামে এক প্রসূতি ছেলে সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে লঞ্চটির ডেকে এক ধাত্রীর সহায়তায় সন্তানটির জন্ম হয়।

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনায় নবজাতকের পরিবারকে নগদ অর্থ উপহার দিয়েছে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ। সেইসঙ্গে ওই নবজাতক ও তার মা-বাবার প্রিন্স আওলাদ-১০ লঞ্চে যাতায়াত আজীবনের জন্য ফ্রি ঘোষণা করা হয়েছে।

প্রিন্স আওলাদ লঞ্চের সুপারভাইজার হৃদয় খান বলেন, ওই নারীর বাড়ি বরিশালের গুড়িয়ার পাড়ে। সঙ্গে তার কয়েকজন স্বজন ছিলেন। তবে স্বামী ছিলেন না। আমরা জেনেছি, তার সন্তান প্রসবের নির্ধারিত সময় ছিল আরও ২২ দিন পরে। এই প্রস্তুতি নিয়েই মূলত তিনি স্বজনদের নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। কিন্তু লঞ্চে ওঠার পরে অসুস্থ হয়ে পড়েন। ঢাকা সদরঘাট ত্যাগ করার পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ওই নারীর প্রসব ব্যথা ওঠে। আমরা তাকে কেবিনে নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সিঁড়ি বেয়ে উপরে তোলা সম্ভব না বলে পরিবারের স্বজনরা সিদ্ধান্ত নেন ডেকে রাখতে। পরে ডেকের সকল পুরুষ যাত্রীদের সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর লঞ্চের এক নারী যাত্রী সহায়তায় ওই নারী সন্তান প্রসব করেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, প্রিন্স আওলাদ লঞ্চে কোনো নবজাতক ভূমিষ্ঠ হওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম। বিষয়টি লঞ্চ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তারাও খুব খুশি হয়েছেন। প্রাথমিকভাবে ওই শিশুর পরিবারকে লঞ্চের পক্ষ থেকে নগদ ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে শুক্রবার ভোর ৫টায় এমভি প্রিন্স আওলাদ-১০ লঞ্চ বরিশাল নদী বন্দরে পৌছালে ভূমিষ্ঠ হওয়া নবজাতক ও তার মা ঝুমুর বেগমকে নগদ অর্থ উপহার দিয়েছেন লঞ্চ কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞাপন

প্রসূতির মা বলেন, নবজাতকের বাবা মো. হারিছ কুমিল্লার জামালপুরে মুরগি বিক্রির দোকানে শ্রমিকের কাজ করেন। আর ঝুমুর বরিশাল সদর উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের শোলনা গ্রামের আব্দুল খালেকের মেয়ে। আগামী মাসের ৬ তারিখ সন্তান প্রসবের তারিখ নির্ধারিত ছিল। লঞ্চেই মাঝরাতে নাতি হয়েছে। এটি আমার মেয়ের দ্বিতীয় সন্তান। ওর আরেকটি ১০ বছরের ছেলে রয়েছে।

নবজাতকের মামি রুমকি বেগম বলেন, এখন বাচ্চা ও তার মা শারীরিক দিক দিয়ে সুস্থ আছে। আমরা খুবই আনন্দিত। কোনো বিপদ ছাড়াই আল্লাহ আমাদের হেফাজত করেছেন। লঞ্চে একজন নার্স ছিলেন। তিনি পরামর্শ দিয়েছিলেন ভোরে সিজার করানোর জন্য। তবে একজন ধাত্রী পেয়ে যাওয়ায় সন্তান প্রসবে কোনো সমস্যা হয়নি।

বিজ্ঞাপন

ধাত্রী রানী বেগম বলেন, ওদের পাশের সিটেই আমরা ছিলাম। অসুস্থ হয়ে পড়লে আমি নিজে তত্ত্বাবধায়ন করে সন্তান প্রসব করাই।

সারাবাংলা/এএম

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন