বিজ্ঞাপন

স্বাস্থ্য অধিদফতরের অভিযানে বন্ধ ঢাকার ৮ অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান

August 29, 2022 | 10:12 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: রাজধানীসহ সারা দেশের অনিবন্ধিত হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ব্লাড ব্যাংক বন্ধে অভিযানে নেমেছেন স্বাস্থ্য অধিদফতর। তিন মাস পর পরিচালনা করা অভিযানের প্রথম দিনেই রাজধানীর ছয়টি এলাকার আটটি অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২৯ আগস্ট) এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবির।

দুপুর ১২টার কিছু সময় পর থেকে শুরু হওয়া অভিযান চালানো হয় বেলা ৩টা পর্যন্ত। প্রথম দিনের অভিযানে বন্ধ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর মাঝে রাজধানীর বনানীতে দুটি, লালবাগে দুটি, খিলগাঁও এলাকায় দুটি এবং যাত্রাবাড়ী এলাকায় দুটি ক্লিনিক ও হাসপাতাল রয়েছে। এগুলো হলো— খিলগাঁও জেনারেল হাসপাতাল, সেন্ট্রাল বাসাবো জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মাতুয়াইলের কনক জেনারেল হাসপাতাল, শনির আখড়ার সালমান হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বকশীবাজারের খিদমাহ লাইফ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, চানখাঁরপুলের ঢাকা জেনারেল হাসপাতাল, বনানীর হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট কসমেটিক সার্জারি কনসালটেন্সি অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও একই এলাকার ঢাকা পেইন অ্যান্ড স্পাইন সেন্টার।

বিজ্ঞাপন

এদিন বনানীর ১১ নম্বর সড়কের ১০৫ নম্বর বাড়িতে অবস্থিত হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট অ্যান্ড কসমেটিক সার্জারি সেন্টারে যান স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তারা। এ সময় অভিযান চালানো কর্মকর্তাদের সঙ্গে ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবির।

তিনি বলেন, অভিযানের সময় প্রতিষ্ঠানটিতে দেখা যায় সেখানে কোনো চিকিৎসক ছিলেন না। নার্সরা লেজার রশ্মির মাধ্যমে চুল প্রতিস্থাপনের কাজ করছিলেন। ক্লিনিকটিতে ভারতের একজন বিখ্যাত চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের নাম ব্যবহার করা হচ্ছে। এক সময় তিনি এখানে আসতেন। কিন্তু এখন আসেন না। তার নাম ব্যবহার করে নিজেরাই চিকিৎসা দিচ্ছে।’

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, ‘এখানে অপারেশন থিয়েটার থাকলেও সেটা পরিচালনার মতো কেউ নেই। এ কারণে ক্লিনিকটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’

অভিযান বিষয়ে অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবির বলেন, ‘আমরা অনেকবার বলেছি- এগুলো করা উচিত না, করবেন না। কিন্তু তারা যেহেতু শোনেননি, এ কারণে আমরা নিজেরাই মাঠে নেমেছি। তাদের বন্ধ করে সিলগালা করে দেওয়া হবে। আমরা কারও শত্রু না। আমরা চাই- উনারা চিকিৎসা সেবা দিক, কিন্তু সেজন্য উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করুক। সেবার নামে প্রতারণা সহ্য করা হবে না।’

বিজ্ঞাপন

এদিন রাজধানীর চানখাঁরপুলের ঢাকা জেনারেল হাসপাতালে আরেকটি অভিযান শেষে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (এমবিপিসি) ডা. মুহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘আপনারা জানেন, কোনো প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স পাওয়ার আগে চালু করার সুযোগ নেই। এই প্রতিষ্ঠান এখনও লাইসেন্স পায়নি। আমরা এখানে দেখতে পাচ্ছি, অপারেশন থিয়েটার থেকে শুরু করে অন্য সব জায়গাতেই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। এখানে মেয়াদোত্তীর্ণ ম্যাটেরিয়াল পেয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এই প্রতিষ্ঠানে এসেছিলাম গত জুন মাসেও। সে সময় প্রতিষ্ঠানটি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলাম। কিন্তু আইন উপেক্ষা করে তারা আবার চালু করেছে। তারা অপারেশনও করছে। এই প্রতিষ্ঠান আমরা বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছি। চলতি অভিযানে আমরা অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

বিজ্ঞাপন

অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানে থাকা চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বিরুদ্ধে কি কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?— এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. বিল্লাল বলেন, ‘সরকারি বা বেসরকারি যে ডাক্তারকই হোক না কেনো তাদের নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ বিএমডিসি। আমরা তাদের কাছে এ বিষয়টি লিখিতভাবে জানাব। একইসঙ্গে অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানে নিবন্ধিত ডাক্তার প্র্যাক্টিস করছেন, তাদের বিরুদ্ধে কী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যায় সেটা আমরা কর্তৃপক্ষকে জানাব।’

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৬ মে থেকে অনুমোদনহীন হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছিল স্বাস্থ্য অধিদফতর। এক মাস ধরে চলা সেই অভিযানে এক হাজার ৬৪১টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে জানায় স্বাস্থ্য অধিদফতর।

সারাবাংলা/এসবি/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন