বিজ্ঞাপন

তখন গম না কিনলে বিপদে পড়তে হতো: খাদ্যমন্ত্রী

September 22, 2022 | 6:50 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, আন্তজার্তিক বাজারে গমের দাম টন প্রতি অন্তত ৩০ থেকে ৪০ ডলার বাড়তি এখন। ওই সময়ে রাশিয়া থেকে অনেক সাশ্রয়ী মূল্যেই গম ক্রয় করা গেছে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে তিনি এ কথা বলেন।

ওই সময় সাশ্রয়ী মূল্যে গম কেনা না হলে বিপদে পড়তে হতে বলেও শঙ্কার কথা জানান খাদ্যমন্ত্রী।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি রাশিয়া থেকে গম আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। আগামী ৪ মাসের মধ্যে পাঁচ লাখ টন বাংলাদেশ রাশিয়া থেকে পেতে যাচ্ছে। আবার রাশিয়ান প্রতিষ্ঠান গ্যাজপ্রমের সঙ্গে আরেকটি চুক্তি রয়েছে। যার মাধ্যমে গ্যাজপ্রম ভোলায় তিনটি গ্যাসকূপ খনন করবে। বিষয়গুলোর স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বাংলাদেশ ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সম্প্রতি এ বিষয়গুলো নিয়ে সংস্থাটি একটি বিবৃতি দিয়েছে। সেখানে তারা বলছে, বাজার মূল্যের চেয়ে বেশি দামে রাশিয়া থেকে সরকার গম ক্রয় করছে। এছাড়া রাশিয়ার প্রতিষ্ঠান তিনগুণ বাড়তি ব্যয়ে গ্যাজপ্রমের সঙ্গে ভোলায় তিনটি গ্যাসকূপ খননের চুক্তি করেছে সরকার। এ ধরনের সিদ্ধান্ত বেআইনি ও জনস্বার্থ পরিপন্থী। চলমান আর্থিক সংকটের মধ্যেও এ ধরনের কাজ অবাক করেছে।

এই বিবৃতির প্রতিবাদ জানিয়েছে রাশিয়া। বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) ঢাকাস্ত রাশিয়ান দূতাবাস থেকে পাঠানো প্রতিবাদপত্রে বলা হয়, বৈশ্বিক খাদ্য ও জ্বালানি সংকটে রাশিয়ার নানা ভুল ত্রুটির তথ্য প্রচার করছে পশ্চিমারা। যা এখন ধারাবাহিক অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে পশ্চিমা গণমাধ্যম ও কিছু এনজিও মস্কোর সঙ্গে বিভিন্ন দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক নষ্ট করার চেষ্টা করছে। তারা রাশিরার বাণিজ্যিক চুক্তিগুলো বিকৃতভাবে উপস্থাপন করছে। যা কোনোভাবে সঠিক কাজ নয়।

বিজ্ঞাপন

এদিকে টিআইবির বিবৃতির প্রতিবাদ খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকেও জানানো হয়েছে। এ বিষয় খাদ্য সচিব সচিব মো. ইসমাইল হোসেন বলেছেন, রাশিয়া থেকে গম কেনা নিয়ে যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে তা সঠিক নয়। এই গম ক্রয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়নি। সব ধরনের প্রটোকল মেনেই গম ক্রয় করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘এ নিয়ে যারা প্রশ্ন তুলেছেন তারা ভুল ও অসত্য তথ্য দিয়েছেন।’

বিজ্ঞাপন

এ প্রসঙ্গে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গম নিয়ে বাংলাদেশের দিক থেকে কোনো ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হয়নি। যা বলা হচ্ছে তা ওই দিকের (রাশিয়া) সমস্যা।’

তিনি বলেন, ‘যারা এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার জবাব আমরা দিয়েছি, এখানে অস্বচ্ছ কোনো কাজ হয়নি। অন্যদিকে রাশিয়াও ঢাকাস্থ তাদের দূতাবাসের মাধ্যমে ওই সব প্রশ্নের জবাব দিয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য, দেশে বছরে গমের চাহিদা ৭০ লাখ টনের মতো। চাহিদার ৬০ লাখই সরকারকে আমদানি করতে হয়। গত জুন মাসে গমের মজুত বেশ কমে যায়। ফলে রাশিয়া থেকে ৫ লাখ টন গম আমদানির সিদ্ধান্ত নেয় খাদ্য মন্ত্রণালয়। যা এরই মধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ওই ৫ লাখ টন গম দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

আরও পড়ুন
গম কেনা নিয়ে টিআইবির বিবৃতির জবাব দিলো রাশিয়া দূতাবাস
বেশি দামে গম আমদানি: মন্ত্রণালয়ের বক্তব্যে টিআইবি‘র ব্যাখ্যা
‘রাশিয়া থেকে গম কেনায় কোনো দুর্নীতি হয়নি’

সারাবাংলা/জেআর/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন