বিজ্ঞাপন

ন্যাটোতে যোগ দিতে ইউক্রেনের জরুরি আবেদনে জেলনস্কির সই

September 30, 2022 | 10:30 pm

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ঢাকা: ইউক্রেনের ৪টি অঞ্চলকে রাশিয়ার সঙ্গে একীভূত করে নিতে দলিলে সই করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এর প্রতিক্রিয়ায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দ্রুততার ভিত্তিতে ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার জন্য সংস্থাটির একটি আবেদনপত্রে সই করেছেন। শুক্রবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুই দেশের নেতারা এসব পদক্ষেপ নেন।

বিজ্ঞাপন

জেলেনস্কি টেলিগ্রামে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে বলেন, আমরা ফাস্ট ট্র্যাক আবেদনে সই করার মাধ্যমে ন্যাটোতে যোগদানের জন্য আমাদের সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছি। ভিডিওতে দেখা গেছে, জেলেনস্কি ন্যাটোর সদস্য হওয়ার জন্য আবেদনের ঘোষণা দিয়ে আবেদনপত্রে সই করেছেন। তার পরে আবেদনপত্রে ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী এবং পার্লামেন্টের স্পিকার সই করেন।

জেলেনস্কি বলেন, আমরা ইতিমধ্যেই ন্যাটোর প্রকৃত মিত্র। প্রকৃতপক্ষে, আমরা ইতিমধ্যে ন্যাটো জোটে যোগদানের জন্য মানদণ্ডগুলো অর্জন করেছি এবং আমাদের নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করেছি। ইউক্রেন ফাস্ট ট্র্যাক ভিত্তিতে সদস্যপদ পাওয়ার জন্য আবেদন করছে।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে ন্যাটোর মহাসচিব জেনস স্টলটেনবার্গ ইউক্রেনের আবেদনের ব্যাপারে করা এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ন্যাটোর দরজা সবসময় খোলা রয়েছে।

ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগদানের প্রশ্নে মূলত গত ২৪ ফেব্রুয়ারি দেশটি সামরিক আগ্রাসন চালায় রাশিয়া। কিয়েভকে যে কোনো মূল্যে ন্যাটো জোটের বাইরে রাখতে চায় মস্কো। ক্রেমলিনের দাবি, সাবেক সোভিয়েত সদস্য ইউক্রেন পর্যন্ত ন্যাটোর সীমানা বিস্তৃত হলে রাশিয়ার নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে। অপরদিকে, ইউক্রেনের দাবি, স্বাধীন দেশ হিসেবে যেকোনো জোটে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কিয়েভের আছে।

বিজ্ঞাপন

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে আক্রমণের পর শুক্রবার সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এদিন তিনি ইউক্রেনের চারটি অঞ্চল রাশিয়ার বলে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন। শুক্রবার ক্রেমলিনের সেন্ট জর্জ হলে এক অনুষ্ঠানে ইউক্রেনের দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন এবং জাপোরিঝিয়া অঞ্চলকে রাশিয়ার বলে ঘোষণা দেন তিনি।

এর আগে অবশ্য রুশ সেনা নিয়ন্ত্রিত এসব অঞ্চলে গণভোটের আয়োজন করে ৯৪ শতাংশ সমর্থন আদায় করে নেয় ক্রেমলিন। তবে কিয়েভ কর্তৃপক্ষ এবং পশ্চিমা বিশ্ব এ গণভোটকে অবৈধ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। এবার রুশ প্রেসিডেন্টের স্বীকৃতির পরপরই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক আবেদনপত্রে সই করলেন।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন-

উল্লেখ্য, উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট বা ন্যাটোর বিস্তারিত অর্থ—শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এবং সদস্যদের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য ইউরোপীয় এবং উত্তর আমেরিকার দেশগুলোর প্রতিষ্ঠিত একটি অনাক্রমনাত্মক জোট।

বিজ্ঞাপন

স্নায়ুযুদ্ধের প্রাক্বালে ন্যাটোর জন্ম। সংস্থাটির সদর দফতর বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে অবস্থিতি। ন্যাটো তৈরির উদ্দেশ্য ছিল পশ্চিম ইউরোপিয়ান দেশগুলোকে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের হুমকি থেকে রক্ষা এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সমাজতন্ত্রের বিস্তার রোধ করা।

১৯৪৯ সালের এপ্রিলে—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং আরও আটটি ইউরোপীয় দেশসহ ১২ প্রতিষ্ঠাতা সদস্য একে অপরকে রাজনৈতিক ও সামরিক ক্ষেত্রে রক্ষার অঙ্গীকার নিয়ে উত্তর আটলান্টিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল।  পরে কয়েক দশক ধরে জোটটি বড় হতে থাকে। বর্তমানে ন্যাটোর সদস্য সংখ্যা ৩০। দেশগুলো হলো—আলবেনিয়া, বেলজিয়াম, বুলগেরিয়া, কানাডা, ক্রোয়েশিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, হাঙ্গেরি, আইসল্যান্ড, ইতালি, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, লুক্সেমবার্গ, মন্টিনেগ্রো, নেদারল্যান্ডস, উত্তর মেসিডোনিয়া, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, রোমানিয়া, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া, স্পেন, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

নতুন কোনো দেশ ন্যাটোতে যুক্ত হতে হলে সামাজিক ও রাজ নৈতিক ক্ষেত্রে বেশকিছু মানদণ্ড পূরণ করতে হয়। এছাড়া ন্যাটোতে যোগদানের জন্য প্রয়োজন হয় জোটটির প্রতিটি সদস্যের সম্মতি।

সারাবাংলা/আইই

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন