বিজ্ঞাপন

‘তত্ত্বাবধায়কের অধীনে নির্বাচন হলে আ. লীগ ৩০ সিটও পাবে না’

September 30, 2022 | 11:23 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

গাজীপুর: তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ ৩০ সিটও পাবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গাজীপুরের কাপাসিয়া মাঠে আয়োজিত এক স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আ স ম হান্নান শাহ’র ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আ স ম হান্নান শাহ স্মৃতি সংসদ এ স্মরণ সভা আয়োজন করে। স্মরণ সভায় যোগ দেওয়ার আগে বিএনপি মহাসচিব মরহুমের কবর জিয়ারত করেন।

বিজ্ঞাপন

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের চিৎকার করে বলছেন, দিবাস্বপ্ন দেখছি আমরা। আবার বলছেন, বিশ্ব নেতারা বললেও এখানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে না। কেন রে ভাই? তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে এত ভয় কেন? তার মানে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে আপনারা জীবনেও ক্ষমতায় আসতে পারবেন না, ৩০টা সিটও পাবেন না। এটিই হচ্ছে ভয়ের কারণ। এই জন্যই বলছেন যে, কোনোদিনও তত্ত্বাবধায়ক সরকার হবে না।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতা-নেত্রী, এমপি-মন্ত্রী যারা এই কথা বার বার বলছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার হবে না, তাদের উদ্দেশে বলছি- এটা (তত্ত্বাবধায়ক সরকার) জনগণের দাবি, জনগণের কাছে মাথা নত করেন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান চালু করেন। এটি আপনাদেরকেই করতে হবে। আমরা বলতে চাই, তত্ত্বাবধায়ক সরকার হবে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার না হলে এদেশে কোনো নির্বাচন হবে না, নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না।’

বিজ্ঞাপন

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই— যদি ভালো চাও জনগণের চোখের ভাষা বুঝ, দেয়ালের লিখন পড়— তাহলে বুঝবে এদেশের মানুষ যেটি চায় একথায় যে, দয়া করে বিদায় হও। আমাদের রেহাই দাও। আমি সোজা কথায় ইংরেজিতে বলি- সেইভ এক্সজিট নিয়ে নাও, নিরাপদ প্রস্থান কর।’

‘তার জন্য কী করতে হবে? তোমরা পদত্যাগ কর, পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর কর এবং সংসদ বিলুপ্ত কর। এরপরে যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচন কমিশন হবে, সেই কমিশন সংসদ নির্বাচন ও সরকার গঠন করতে সাহায্য করবে’— বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘কাল থেকে দুর্গা পূজা শুরু হচ্ছে। ওরা এখন অন্যরকম কথা বলতে শুরু করেছে। তাদের বিভিন্ন লোকেরা বলছে যে, এখানে নাকি নাশকতা হতে পারে, এখানে নাকি বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে। আরে সমস্যা তো তোমরা। গত এক বছরে ৯০টি ঘটনা ঘটেছে। মন্দির ভেঙেছে, হিন্দু সম্পত্তি দখল করেছে, বাড়ি দখল করেছে- সবগুলোর নেতৃত্ব দিয়েছে আওয়ামী লীগ। আজকে তাদেরকেই নাকি দায়িত্ব দিয়েছে শান্তি রক্ষার জন্য। শিয়ালের কাছে যদি মুরগি দেন তাহলে তাহলে মুরগির অবস্থা কী হবে? আমরা নই শুধু, এদেশের সংখ্যালঘুরা সম্প্রদায় চিৎকরা করে বলেছে, আওয়ামী লীগের অধীনে তারা নিরাপদ নয়।’

গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক মিলনের সভাপতিত্বে ও কাপাসিয়া সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আজিজুর রহমান পেয়ারার সঞ্চালনায় স্মরণ সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা কামরুজ্জামান রতন, রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, হুমায়ুন কবির খান, জেলা নেতা বেনজির আহমেদ টিটু, মজিবুর রহমান, কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল ও প্রয়াত হান্নান শাহের ছেলে জেলার সাধারণ সম্পাদক শাহ রিয়াজুল হান্নান প্রমুখ।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এজেড/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন