বিজ্ঞাপন

প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা সারাদেশে

October 5, 2022 | 8:02 am

উজ্জল জিসান, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: দুর্গাপূজার প্রতিমা বিসর্জন (দশমী) উপলক্ষে ঢাকাসহ সারাদেশে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। একইসঙ্গে তথ্য সংগ্রহে মাঠে কাজ করছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও। বিসর্জন ঘিরে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয় সেজন্য সাইবার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ অনলাইন এবং অফলাইন সবকিছুতেই মনিটরিং করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

ডিএমপির মিডিয়া শাখার উপকমিশনার (ডিসি মিডিয়া) ফারুক হোসেন গতকাল মঙ্গলবার (৪ অক্টোবর) সারাবাংলাকে বলেন, ‘দশমীতে বিসর্জন উপলক্ষ্যে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মন্দির থেকে বিসর্জন স্থল পর্যন্ত পুলিশের কয়েকটি স্তর থাকবে। পাশাপাশি পূজা-অর্চনাকারী ভাই বোনেরাও একটা নিজস্ব নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলবে। সম্পূর্ণ নিরাপত্তা দিয়ে বিসর্জন স্থলে নেওয়া হবে প্রতিমাগুলোকে। প্রতিমা বহনকারী ট্রাকে নির্দিষ্ট লোকের বাইরে নতুন করে কেউ উঠতে পারবে না। বিসর্জন স্থানও ঘিরে রাখা হয়েছে। সেখানে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পাহারা দিচ্ছেন।’

মন্দিরগুলোতে আগের চেয়ে অনেক বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সবকিছু করা হয়েছে, যাতে সবকিছু ভালোভাবে শেষ হয়ে যায়। সিসিটিভি মনিটরিংয়ের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি এবং সাইবার মনিটরিং করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

ফারুক হোসেন আরও বলেন, ডিএমপির পাশাপাশি নৌ পুলিশ, র‌্যাব ও আনসার সদস্যরা প্রতিমা বিসর্জনের সময় কাজ করবে। কোথাও কোনো কিছু ঘটবে এমন আশঙ্কা নেই। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

দুর্গাপূজার আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা সভা-সমাবেশগুলোতে বলেছেন, সংখ্যালঘুরা বেশ হুমকিতে রয়েছে। তাদের ধর্মীয় উৎসব ঘিরে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও অপপ্রচার করা হয়েছে। ফলে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন এক প্রকার ভীতির মধ্যে থেকেই পূজা শেষ করতে যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, দুর্গাপূজা প্রায় শেষের দিকে। এখন পর্যন্ত সারাদেশে কোথাও কোনো সমস্যা হয়নি। এর আগে যেভাবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের যে অপচেষ্টা হয়ে থাকে, এবারে তা হয়নি। র‌্যাব পুলিশসহ সকল গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা আগে থেকেই সচেষ্ট ভূমিকা পালন করেছে। টহল বৃদ্ধি করে নানাভাবে মনিটরিং করেছে। যার কারণে এবারের পূজা স্বস্তির হয়েছে। এতে সবাই খুশি হয়েছে।

পুলিশ সদর দফতরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সারাবাংলাকে বলেন, ‘খুবই আশঙ্কাজনক অবস্থায় পূজা পার করতে হয়েছে পুলিশকে। যদিও পুলিশ বাইরে আশঙ্কা নিয়ে কোনো কথা বলেনি। আমরা চেয়েছি সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে কোনো প্রকার ঝামেলা ছাড়াই দুর্গাপূজা শেষ করতে। তাই হয়েছে। আগামীকাল দশমী পালিত হবে। সেটিও আশা করছি ভালোভাবে শেষ হবে।’

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, ‘সারাদেশের পুলিশকে দণ্ডায়মান থেকে দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি আনসার সদস্য নিয়োজিত রয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থাসহ গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও মাঠে সক্রিয় রয়েছে। তবে পূজার আগে আরও বেশি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে তারা।’

শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে কোনো নাশকতার আশঙ্কা ছিল কি না- জানতে চাইলে পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘সরাসরি কোনো নাশকতার তথ্য ছিল না। তবে যেসকল তরুণ ঘর ছেড়েছে তাদের নিয়ে বড় একটা ভয় ছিল। এখনো রয়েছে। তবে দুর্গাপূজা শেষ হওয়ায় বড় কোনো ভয় হচ্ছে না। এদের উদ্ধার বা ঘরে ফেরাতে পুলিশ বাহিনীসহ সবাই কাজ করছে। তারা ঘরে না ফিরলে বড় আশঙ্কা তো থেকেই যায়।’

বিজ্ঞাপন

র‌্যাবের মুখপাত্র কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘পূজার নিরাপত্তায় সারাদেশে র‌্যাবের সদস্যরা খেয়ে না খেয়ে পাহারায় কাজ করেছেন। জনগণের নিরাপত্তা সবার আগে, সেটাই করা হয়েছে। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করেছে র‌্যাব। পেট্টোলিং সিস্টেমে কাজ করেছে। এছাড়া সাইবার মনিটরিং করা হয়েছে জোরালোভাবে।’

অন্যদিকে একটি গোয়েন্দা সংস্থার একজন কর্মকর্তা সারাবাংলাকে বলেন, ‘পূজা শেষ করাটা এবারে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। সাইবার জগতে নাশকতাকারীরা এতটাই সক্রিয় ছিল যে, সাধারণ মানুষ জানলেই হিতে বিপরীত হয়ে যেত। কিন্তু পুলিশ, র‌্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নিরলস কাজ করে সফল করেছে। সফলভাবে পূজা আয়োজন ও শেষ করতে পেরেছে। কোথাও কেউ ন্যুনতম প্রোপাগান্ডা ছড়াতে পারেনি। কেউ কেউ চেষ্টা করেছে তবে তাদের নিবৃত করা হয়েছে।’

সারাবাংলা/ইউজে/এনএস

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন