বিজ্ঞাপন

রাজধানীর বস্তি থেকে শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার

October 5, 2022 | 3:52 pm

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: রাজধানীর বনানীর একটি বস্তি থেকে রুমান ইসলাম নামে সাত মাস বয়সী এক শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

বনানীর কে-ব্লক ২২নম্বর রোডের একটি বাড়ি থেকে গতকাল মঙ্গলবার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ওই শিশুর মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায় বনানী থানা পুলিশ।

শিশুটির বাবা আইনুল ইসলাম বলেন, তাদের বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার আজমেরীগঞ্জ উপজেলার রসুলপুর গ্রামে। তিনি নিজে বনানী এলাকায় আমড়া বিক্রি করেন। তিন ছেলের মধ্যে সবার ছোট রুমান। স্ত্রী, ছেলে রুহান ও সুহান ও ছোট ছেলে রুমানসহ বনানীর ওই বস্তিতে থাকেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, গতকাল মঙ্গলবার সকালে আমড়া বিক্রি করতে বের হন তিনি। এরপর রাত সাড়ে ৮টার দিকে খবর পান ছোট ছেলে রুমানকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। খবরটি শুনে দ্রুত বাসায় গিয়ে স্ত্রী হনুফার কাছে জানতে পারেন- সাড়ে ৩টার দিকে শিশুটিকে কোলে নিয়ে যখন হনুফা বেগম রান্না করছিলেন তখন শিশুটি খুব কান্নাকাটি করছিল। এটি দেখে প্রতিবেশী ভাড়াটিয়া মো. শহিদুল (১৪) স্বেচ্ছায় রুমানকে কোলে তুলে সেখান থেকে নিয়ে যান। পরবর্তীতে তার মা তাকে খোঁজাখুঁজি করে কোথাও না পেয়ে শহিদুলকে সন্তানের বিষয়ে জিজ্ঞেস করেন। কিন্তু তার সন্তানের বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি শহিদুল। স্ত্রীর কাছে পুরো ঘটনা শুনে তখন আইনুলও শহিদুলের কাছে ছেলের বিষয়ে জানতে চান। তবে উল্টাপাল্টা তথ্য দেন তিনি।

স্বজনরা পরবর্তী থানায় গিয়ে বিষয়টি জানালে থানা পুলিশ ওই বস্তিতে যায়। এরপর শহিদুলকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি টিনসেড দোতলা বাড়ির চালের উপর গাছের পাতা দিয়ে ঢাকা অবস্থায় রুমানের মৃতদেহ দেখিয়ে দেন বলে জানান আইনুল ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

আইনুল আরও বলেন, ‘তারা শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলেছেন শহিদুল।’ তবে শহিদুলের সঙ্গে পারিবারিক বা অন্য কোনো কারণেই দ্বন্দ্ব নেই তাদের। কি কারণে শহিদুল শিশুটিকে হত্যা করতে পারে সে বিষয়ে কিছু জানা নেই তার।

এদিকে বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আজম মিয়া জানান, খবর পেয়ে গতকাল মঙ্গলবার রাতে বস্তির দোতলা বাড়ির চাল থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এতে তাদের প্রতিবেশী রিকশাচালক শহিদুল (১৪) নামে এক কিশোরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শহিদুল হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তবে এর কারণ সম্পর্কে কোনো সন্তোষজনক জবাব দেয়নি।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও জানান, শহিদুল বলছে- শিশুটির মা তাকে মাঝেমধ্যে বকাঝকা করত। তবে এটি এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ কি না বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সারাবাংলা/এসএসআর/এনএস

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন