বৃহস্পতিবার ২৩ জানুয়ারি, ২০২০ ইং

দ্য লাই পিকচারস টেল: এক মডেলের নিখুঁত ছবির লুকোনো গল্প (শেষ অংশ)

এপ্রিল ২৭, ২০১৮ | ৪:২৪ অপরাহ্ণ

[শেষ পর্ব]

বিজ্ঞাপন

কিছুদিন আগে বলিউড ছেড়ে হলিউডে পাড়ি জমানো ভারতীয় অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জানিয়েছেন তাকে তার বাদামি চামড়ার কারণে হলিউডি এক মুভি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কথিত আছে বিনোদন জগতে নারীকে তার চেহারা, শারীরিক কাঠামো ও গায়ের রঙ দিয়ে মূল্যায়ন করা হয়। সম্প্রতি বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত লেখিকা রীমা জামান যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত এক লেখায় অভিনেত্রী ও মডেলিং কেরিয়ার নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। জানিয়েছেন কেন তিনি ছেড়ে দিলেন অভিনয় ও মডেলিং কেরিয়ার। এই লেখায় তিনি আরও তুলে ধরেছেন ব্যক্তি জীবনের নানা বঞ্চনার অধ্যায়।

একাধারে একজন অভিনেত্রী, বক্তা ও গায়িকা রীমা জামানের জন্ম বাংলাদেশে আর তিনি বেড়ে উঠেছেন থাইল্যান্ডে। পরবর্তীতে কেরিয়ার গড়তে তিনি যুক্তরাষ্ট্র পাড়ি দেন। হারপার’স বাজার, দ্য রামপাস, বিচ ম্যাগাজিন ইত্যাদি পত্রিকায় নিয়মিত তার লেখা ছাপা হয়। লেখালিখির স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৮ এর ওরেগন লিটারেরি আর্টস রাইটার অফ কালার ফেলোশিপ সম্মান অর্জন করেছেন তিনি। ২০১৯ এর এপ্রিলে অ্যাম্বারজ্যাক থেকে প্রকাশিত হবে রীমা জামানের আত্মজীবনীমূলক বই ‘আই এম ইওরস’।

বিজ্ঞাপন

দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত রীমা জামানের লেখাটি সারাবাংলার পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল।

অনুবাদ- রাজনীন ফারজানা।।

ছবি যখন মিথ্যা বলে : নিজের ‘পারফেক্ট ছবি’ নিয়ে সাবেক মডেলের স্বীকারোক্তি

 

এরপর সে যখন গোসলে ঢুকেছে তখন ওর বাছাই করা প্রিয় ছবিটা আবার দেখলাম। এই ছবিটা, এই প্রত্যেকটা ছবিতে আমি কতটুকু আছি ভেবে অবাক হচ্ছিলাম আমি। কতটা জাঁকজমকের সাথে, অন্যের ইচ্ছা মতো আমাকে তুলে ধরা হয়েছে এসব ছবিতে। কীভাবে আমার ক্ষুধামান্দ্যতা, যার সাথে পনেরো বছর বয়স থেকে লড়াই করে আসছি নিজের দায়িত্ব ঠিকঠাকভাবে ফুটিয়ে তুলেছে এসব ছবিতে। কীভাবে সবগুলো ছবিতে, যখন কোন পুরুষই উপস্থিত নাই, নাই তাদের পুরুষালি চাহনি, তাদের ক্ষুধার্থ চাহনির ভিন্ন ভিন্ন মাত্রা যখন অনুভবযোগ্য, যখন আমার ভেতরের সত্য, ভালোত্ব আর ক্ষত কিছুই দৃশ্যমান নয়।

সতেরো বছর বয়স থেকে এমন একটা মুহূর্ত নাই যখন আমি একা ছিলাম। পুরুষেরা জানত আমাকে কীভাবে খুঁজে পাওয়া যায়, আর আমিও তাদের প্রেমে পড়ে যেতাম। আমাকে মনে হত যেন চিরকালের জন্য আমার আমিত্বের সম্প্রসারিত রূপ। যেন একক আমি নই, আমি কারও মেয়ে, কারও শিকার, কারও প্রেমিকা, কারও ঘুমপাড়ানি গান, কারও জন্য বা চাষের জমি। এভাবে আমার থেকে আমার যতগুলো টুকরো খসে পড়েছে, ততগুলো পুরুষকে আমি আকর্ষণ করেছি। আমি যতটুকু বলতে পারি তা হল, কারও প্রেমে পড়ার অনুভূতির সাথে তুলনা হতে পারে নিজের অন্তরের অন্তঃস্থলের কণ্ঠস্বরের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নের অনুভূতির সাথে।
গোসল শেষ করে ঘরে আসার আগে সে কিছুক্ষণ থেমে বাথরুমের আয়নায় নিজের বাইসেপগুলো দেখে নিল।

‘দারুণ আনন্দ হয়েছে,’ বলল সে। আসলে বোঝাতে চাচ্ছিল আমার ফেরার সময় হয়েছে। ইশারা বুঝে দ্রুত কাপড় পরলে সে আমাকে দরজা বরাবর এগিয়ে দিল।

‘তোমার সাথে দ্রুতই দেখা হবে’। শেষবারের মত আমার গালে ঠুকরে দিল সে। পশ্চাতদেশে শেষবারের মতো চাপড়ে দিল। এলিভেটরের দিকে হাঁটতে শুরু করলে, শুনলাম সে ডাকছে।

‘ভুলেই গেছিলাম বলতে গেলে।’ তার হাতে ধরা আমার মডেলিং কার্ডটা।

‘ওহ। ধন্যবাদ।’ বলে কার্ডটা নিলাম। এলিভেটর আসার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে রইলাম।

আমার প্রেমিকের প্রিয় বলে ঘোষণা করা ছবিটার দিকে তাকালাম আমি। শারীরিক সম্পর্কের পরপর বিড়বিড় করে তার বলা কথাটা নিয়ে ভাবলাম। ঠিক যেভাবে কুকুর তার নিজের ঘাসজমিতে দখল স্থাপন করে সেভাবেই যেন সে আমার শরীরে নিজের দখলদারিত্ব ঘোষণা দিচ্ছিল তখন।

আমিও মাথা নেড়ে সম্মতি দিলাম, ‘আমি তোমারই।’

এলিভেটর এসে গেলে আমি উঠলাম।

এই যে এই ছবিটাতে সাতাশ বছর বয়স্ক আমি। এখন আমার ক্ষুধামান্দ্য তার সমস্ত টালমাটাল অবস্থা নিয়ে সবচাইতে খারাপ পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। ততদিনে অভিনয় আর মডেলিঙের পাশাপাশি আমি লেখালেখি ও গান রচনা শুরু করেছি। এই ছবিটা একটা মিউজিক ভিডিওর ফটোশ্যুটের সময় তোলা। বাকি সব ছবিতে আমি হাসছি, হাসির ভঙ্গি করছি বা নিজেকে আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরছি। এই ছবিটা রিহার্সাল ও পারফরম্যান্সের মধ্যকার কোন এক মুহূর্ত থেকে ধরা হয়েছে। যদিও যে কেউ একজন চমৎকার তরুণীকে দেখবেন, আমি দেখি একজন নারী যে তার স্বামীর ছায়া থেকে, ডুবন্ত অবস্থা থেকে নিজেকে তুলে ধরেছে।
আমাদের ভালোবাসা ছিল পুরোপুরি পাশবিক। তীব্র প্যাশন থেকে জ্বলে ওঠা আমাদের বন্য স্বত্বার ভালোবাসাবাসি ছিল একইরকম দ্রুত।

আমার স্বামীর জীবনে থাকা অন্য নারীদেরকে সে বলত ‘সিস্টার-ওয়াইভস’ বা সতিন। সে বলত এতে তো আমাদের দুজনেরই ভালো হচ্ছে। ওরা থাকায় আমাকে খুশি করার সম্পূর্ণ ভার তোমার একার উপর থাকছে না।

আমি আসলে জানিনা সে অন্য নারীদের কাছে যেত কিনা। এভাবে সে হয়ত আমাকে হুমকি দিত। উপরন্তু, তাদের উপস্থিতির মিথ্যা আভাস আমার হৃদয় ভেঙে দিত। সত্য যাই হোক না কেন ওরা ধীরে ধীরে বাস করতে শুরু করেছিল আমার বাড়িতে, তাড়িত করতে শুরু করেছিল আমার প্রত্যেকটা নিঃশ্বাস।

আমরা গভীর বনের মাঝে একটা আধপোড়া শস্যাগারে থাকতাম। সভ্য জগত থেকে একরকম দূরেই ছিলাম আমরা। অন্য নারীদের প্রতি তার আগ্রহ থাকা ছাড়াও ছিল হঠাত করে রেগে যাওয়ার প্রবণতা। প্রত্যেকবার সে যখন নিজের কল্পিত বিজয় নিয়ে গর্ব করত, তখন চিৎকার করা, কাঁদা কিংবা তর্ক করা থেকে নিজেকে বিরত রাখতাম আমি। ভাবতাম এগুলো করলে আমি হয়ত তার ভালবাসা হারিয়ে ফেলব অথবা সে আরও রেগে যেতে পারে। আমি দেখতাম যে মানুষটাকে আমি ভালবাসি সে কীভাবে গর্জন করছে আর আমার থেকে ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছে। কিন্তু তারপরেও একজন অভিনেত্রী হিসেবে, একজন মেয়ে হিসেবে পুরুষের প্রিয়পাত্রী হতে যে শিক্ষা পেয়েছি তাই ব্যবহার করতাম ওকে শান্ত করতে।

সে একবারের জন্যও আমার গায়ে হাত তোলেনি। আমার অন্ধ ভালোবাসা আমাকে বুঝিয়েছে সে রেগেমেগে হাত ওঠালেও সেই হাত আমার গায়ে পড়েনি কখনো। প্রত্যেক রাতে আমরা একে অন্যের থেকে দূরে সরে কুঁকড়ে শুয়ে থাকতাম যেন, আমাদের শরীরের চামড়া একে অন্যের সংস্পর্শে আসলে আরও বেশি গুটিয়ে যাবে। আমি রাতের পর রাত জেগে থাকতাম আর আশা করতাম সে যেন হাত ওঠায় আমার গায়ে। এরপর হয়ত তাকে ছেড়ে যাওয়ার মত, দুঃখ করার মত কিংবা প্রমাণ হিসেবে ব্যবহারের জন্য একটা শক্ত কারণ পেয়ে যাবো। যে সংঘর্ষে আবেগ জড়িতে সেখানে খারাপ ব্যবহারের মাত্রা নির্ধারিত হয় গায়ে হাত দেওয়া না দেওয়ার উপর। দিনের পর দিন খারাপ ব্যবহারকে ক্ষমা করতে করতে, অসম্ভব সব যুক্তি দাঁড় করিয়ে মেনে নিতে থাকি আমরা।

যে শস্যাগারে আমরা থাকতাম তাকে একটা পারবারিক আবহ দিতে চেষ্টা করছিল সে। ঘরটার পেছন দিকে একটা কুইন সাইজ ম্যাট্রেস ছিল আর তার চারপাশে ছিল হিটার আর প্রচুর ইটের পাঁজা। কড়ি বরগা থেকে ঝোলানো একটা শেডবিহীন বাতি ঘরের দৈন্যতা যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিত। সে আর আমি স্মৃতিচারণ করে করে আমাদের বর্তমানকে ভুলতে চেষ্টা করতাম। কিন্তু পোড়া গ্লাস এমনভাবে তাকিয়ে থাকত যেন ছুঁয়ে দিলেই হাতে ছেঁকা খাবো।

আমার অভিনয় আর ফটোশ্যুট থেকে পাওয়া টাকায় আর চলছিল না দেখে আমি বেবিসিট করতে শুরু করলাম। প্রত্যেক সপ্তাহে আমার আয়ের টাকাগুলো ওর ওয়ালেটে দেওয়া যেন আমার দায়িত্বের মত ছিল। আমার আয় করা টাকাটা তাকে দেওয়ার সময়, তার প্রয়োজনের ব্যাপারে নজর রাখার সময় আমি এতো ক্ষুধার্ত, ঠান্ডায় কাতর আর ক্লান্ত থাকতাম যে ঠিকমত চিন্তাও করতে পারতাম না। এতকিছুর পরেও সে যখন আমার সাথে চিৎকার করত তখন ভাবতাম, আমার আওয়াজ কই? এটা কীভাবে আমার জীবন হয়? আমি কীভাবে এই নারীতে পরিণত হলাম?

অবশেষে এক রাতে আমি তাকে কতভাবে অসুখী রেখেছি সেসব বলতে বলতে সে যখন আমার দিকে এগিয়ে আসছিল তখনই যেন এক আমার হুঁশ ফিরে এলো। হঠাত করে আমার মনে হল কতটা বিপদের মাঝে আমি আছি।

এক মুহুর্তে যেন সব কিছু পরিষ্কার হয়ে গেল আমার কাছে। কুয়াশা সরে গেল, আর আমার চোখের সামনে যেন ভেসে উঠল আমার জীবন। আমার জীবনের ভাঙা টুকরোগুলো জোড়া লেগে পরিষ্কারভাবে ধরা পড়ল যেন আমার চোখে। আঘাতের পর আঘাত পাওয়ার পরেও আমার যত প্রতিবাদ ছিল তা হজম করে করেই আজকের আমিতে পরিণত হয়েছি। এই পৃথিবী আমাকে বিশ্বাস করতে শিখিয়েছে নারী হিসেবে জন্ম নিয়ে আমার প্রাপ্তি শুধুমাত্র শাস্তি, অধঃপতন, আত্ম নির্যাতন আর এই সবকিছুর জন্য নিজেকে দায়ী করা।
যেতে হবে আমাকে। ছাড়তে হবে তাকে, যে কফিনকে আমরা ঘর বলি সেই জায়গা, যে ক্ষুদ্র জীবনকে আমি নিজের বলে জানি ছাড়তে হবে সেই জীবনকে। আমার এই জীবনকে ক্ষুদ্র বানানো হয়েছে আমার স্বামীর ইগোর মাধ্যমে। যে ইন্ডাস্ট্রিতে আমি কাজ করি সেই ইন্ডাস্ট্রির মাধ্যমে। একজন পুরুষ, তার ভালবাসা ধরে রাখার জন্য যে নারীতে আমি পরিণত হয়েছি তা আমাকে আরও একটু ক্ষুদ্র করেছে।

এখন আমার বয়স ৩৪। আমি ছেড়ে এসেছি তাকে। ছেড়ে এসেছি তখনকার সেই ‘আমি’ কে। অভিনয় আর মডেলিং বাদ দিয়ে লেখালিখি শুরু করেছি। প্রথম লেখাটি ছিল আমার আত্মজীবনী। সেখানে আমি লিখেছি আমার কথা, আঘাতগুলোকে সেলাই দিয়ে দিয়ে জুড়েছি পাতার পর পাতায় আর এভাবেই নিজের শরীরকে নানা মানুষের হাত থেকে পুনরুদ্ধার করেছি আমি। আমার শরীর এখন একান্তই আমার, ফিরে পেয়েছি আমার নিজস্ব আওয়াজও।

 

 

অভিনয় আর মডেলিং ছেড়ে লেখক হতে চাইলে শুরুর দিকে কাছের আত্মীয় বন্ধুদের কাছ থেকে প্রচন্ড অবিশ্বাস, দুশ্চিন্তা, অত্যাচার, অবজ্ঞা থেকে হাসাহসি এমন কোন বাঁধা নাই যার মুখোমুখি হইনি। আর তাদের সবাই কথা শুরু করত সব নারীর চেনা সেই বাক্য দিয়ে, ‘তুমি জানো তোমাকে ভালোবাসি, কিন্তু...’

বয়ঃসন্ধি বা তারুণ্যের শুরুতে যখন বলতাম অভিনেত্রী ও মডেল হতে চাই তখন সবাই হাসিমুখে বলত, ‘যাক ভালো কিছু করতে চাও’। অন্যদিকে একজন নারী পেশাগত আর ব্যক্তিগত উভয়ভাবেই আওয়াজ ওঠাচ্ছে, নিজের সত্যকে তুলে ধরছে, স্বপ্ন দেখছে স্পর্ধার সাথে, প্রচলিত নিয়মের বাইরে গিয়ে ঝুঁকি নিচ্ছে, সম্ভাব্যতাকে বাস্তবতায় পরিণত করছে তা যেন বলা আর না বলা অসংখ্য ভয়ের স্রোত বইয়ে দেয় অসংখ্য হৃদয়ে।

ভেবে অবাক হই যদি আমার পরিচয় এমন হয় কিংবা হত যে আমি অন্যের প্রতিরোধের একটা অংশ মাত্র। সম্ভবত এটা হত অত্যন্ত বেদনাদায়ক, হয়ত ব্লাসফেমাস যে আমি, একটা সুন্দরী নারী যে একসময় আওয়াজ ওঠাত না সে এখন অভিযোগ করে, নিজের অস্তিত্বকে অস্বীকার করেনা এবং নিজের শরীরকে একমাত্র যোগ্যতা আর পয়সা উপার্জনের মাধ্যম মনে করেনা। অন্যদিকে সে নিজের শক্তিমত্তাকে হৃদয়াঙ্গম করে, মন আর নিজের ভেতরের আওয়াজ শুনে নিজের অতীত অবস্থানকে জয় করে উঠে এসেছে বিজয়ীর বেশে। যদি সব অল্প বয়েসী মেয়ে আর নারীরা এমন বিদ্রোহ করত তবে পুরুষতান্ত্রিকতার ভিত ধ্বসে যেত।

নানারকম প্রতিরোধ আসা স্বত্বেও আমার নাছোড়বান্দা জিদ সবসময় আমাকে এগিয়ে যেতে উৎসাহ দিয়েছে। লেখক হওয়ার পাশাপাশি আমি এখন একজন পাবলিক স্পিকার। আজ রাতে আমি সম্পুর্ণ ‘আমি’ হয়ে কথা বলব। আজকালকার দিনে, এটাই আমার কেরিয়ার। আমরা নারীরা নিজেদের ভেতরে যে ধরণের স্থিতিথাপকতা ধরে রাখি সেই অবস্থান থেকে আমি কথা বলি। এই পৃথিবী যেভাবে আমাদের অধীনতা আর ক্ষুদ্রতার মাঝে কবর দিতে চায় সেখান থেকে কীভাবে উঠে আসা যায়, সেই যন্ত্রণা থেকে কীভাবে আরোগ্য লাভ করা যায় সেইসব বিষয় নিয়ে কথা বলি আমি। আমি কথা বলি অন্যদের হাত থেকে আমাদের অধিকার নিজের হাতে নিয়ে নিতে, আর কীভাবে আমরা নিজেরাই পারি নিজেদের জীবনকে লিপিবদ্ধ করতে।

আমার অভিনয় প্রশিক্ষণ আর জীবনে যেসব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে আমি গিয়েছি তা আমাকে আজকের এই জীবনের জন্য প্রস্তুত করেছে। যদিও এখন যে সব কথা আমি বলছি তা আমাকে কেউ শিখিয়ে দেয়নি বা বলতে বলেনি।

বাক্সবন্দি যে মেয়েটা আমি ছিলাম তার সাথে নিজের অবস্থানকে তুলনা করি আমি। অতীতের সমস্ত শীতলতার সাথে প্রতিস্থাপন করি কৃতজ্ঞতার সাথে যা আমাকে এখানে এই অবস্থানে এনেছে। আর আমি গর্ব অনুভব করি ভেবে যে আমার সমস্ত লেখা কে আমি কবিতায় রুপান্তর করেছি। আমার উত্থান হয়েছে টিকে থাকতে।

 

প্রথম অংশ পড়ুন

দ্য লাই পিকচারস টেল: এক মডেলের নিখুঁত ছবির লুকোনো গল্প

 

সারাবাংলা/আরএফ/এসএস/আরএফ

Advertisement
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন