বিজ্ঞাপন

২০ দিনেও আসেনি সিদ্ধান্ত, ‘তালা ঝুলিয়ে’ আন্দোলন অব্যাহত

November 21, 2022 | 4:01 pm

চবি করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে ফেরার ‘এক দফা’ দাবিতে নগরীর চারুকলা ইনস্টিটিউটের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন শিক্ষার্থীরা। টানা ২০ দিন ধরে আন্দোলন করলেও শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে নেওয়ার এক দফা দাবির ব্যাপারে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। আন্দোলন চলাকালে সকাল থেকে পানি দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

বিজ্ঞাপন

প্রতিদিনের মতো সোমবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১১টা থেকে ফটকে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন অব্যাহত রাখেন শিক্ষার্থীরা। এদিকে গতকাল রাত ১২ জন শিক্ষককদের অবরুদ্ধ করে রাখেন তারা। পরে রাত ২দিকে প্রক্টর ও শিক্ষক সমিতির আশ্বাসে অবরুদ্ধ শিক্ষকদের তালা খুলে দেওয়া হয়।

মাস্টার্সের শিক্ষার্থী জহির রায়হান সারাবাংলাকে বলেন, প্রতিদিনের মতো আমাদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। আমরা গত বৃহস্পতিবার একটা সমন্বয় কমিটির মিটিংয়ে বসেছি। রোববারে ভিসি ম্যামের কাছে সুপারিশপত্র জমা দেওয়ার কথা ছিল। আমরা চাই প্রক্রিয়াটা গতিশীল হোক। প্রক্রিয়াটা গতিশীল করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে যাওয়ার জন্য ফটক খুলে দেওয়া হয়। স্যারেরা ভেতরে প্রবেশ করেন।

বিজ্ঞাপন

২০ দিনেও আসেনি সিদ্ধান্ত, ‘তালা ঝুলিয়ে’ আন্দোলন অব্যাহত

তিনি বলেন, একপর্যায়ে দেখা যায় যে নিজেদের ব্যক্তিগত কাগজপত্র নিয়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু স্যারেরা কোন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র না নিয়ে একসাথে বের হয়ে গেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা মূল ফটকে অবস্থান নিয়েছি। আমরা এখনো ইনস্টিটিউটের মূল ফটকে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি।

বিজ্ঞাপন

মাস্টার্সের শিক্ষার্থী সিহাব শাহরিয়ার সারাবাংলাকে বলেন, আমাদের আন্দোলন এখনও চলমান আছে। আন্দোলন চলাকালে সোমবার (২১ নভেম্বর) সকাল থেকে আমাদের পানি দেওয়া হচ্ছে না। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. সজীব কুমার ঘোষ সারাবাংলাকে বলেন, আমি শুনেছি চারুকলায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে কয়েকজন শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। শিক্ষক সমিতির দায়িত্ব থেকে আমরা কথা বলতে গিয়েছি। পরে রাত ২টার দিকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে চলে এসেছি। শিক্ষার্থীদের দাবি হচ্ছে মূল ক্যাম্পাসে ফিরতে চান। অন্যদিকে শিক্ষকদেরও একটা দাবি আছে। যেটা একটা স্বপ্ন নিয়ে শিল্প, সাহিত্য প্রচার ও প্রসারের জন্য ক্যাম্পাস থেকে শহরে এসেছেন তারা।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, এভাবে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একটা দ্বন্দ্ব হচ্ছে৷ এটা একটা আলোচনার বিষয়। আমরা শিক্ষার্থীদের বলছি যে, দাবিগুলো আমাদের কাছে যৌক্তিকভাবে তুলে ধরতে। সেই দাবিগুলো নিয়ে শিক্ষক সমিতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বসে সুষ্ঠু সমাধানের চেষ্টা করবে। আমরা শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করছি। তাদের দাবিগুলো যৌক্তিক। আমরা তাদের সঙ্গে একমত।

চারুকলা ইনস্টিটিউট পরিচালক প্রণব মিত্র চৌধুরী সারাবাংলাকে বলেন, কিছু কাগজপত্র ছিল সেগুলোর জন্য আমরা ইনস্টিটিউটে গিয়েছিলাম। শিক্ষার্থীরা সরাসরি শিক্ষকদের সঙ্গে যে ব্যবহার করছে। তাদের সঙ্গে কথা বলার আর সুযোগ নেই। শিক্ষকদের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ অপমানজনক।

বিজ্ঞাপন

এর আগে, গত ৩ নভেম্বর থেকে আবাসন ব্যবস্থা, ইন্টারনেট সংযোগ ও পাঠাগার সংস্কারসহ ২২ দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের ক্লাস বর্জন করছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে কয়েক দফা আলোচনায় বসলেও সমাধান হয়নি।

পরে তাদের দাবি মোড় নিয়েছে একদফা দাবি চারুকলা ইনস্টিটিউটকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মূল ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে নেওয়া। কখনো সড়ক অবরোধ, মানববন্ধন, আবার কখনো গানে, চিত্রকর্মের মাধ্যমে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন শিক্ষার্থীরা।

এদিকে, শুক্রবার (১৮ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ চারুকলা ইনস্টিটিউটকে মূল ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে আনতে শিক্ষার্থীদের সমর্থন জানিয়েছেন।

সারাবাংলা/সিসি/এনইউ

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন