বিজ্ঞাপন

মহাসড়কের জমি বন্ধক: ৩ মাসের মধ্যে অনুসন্ধানের নির্দেশ

November 24, 2022 | 4:35 pm

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উত্তরার আজিমপুর অংশে সরকারি জমি বন্ধক রেখে সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক থেকে ১৫ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার ঘটনা অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। দুদককে তিন মাসের মধ্যে অনুসন্ধান শেষ করে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে কী কারণে ভুয়া নথিপত্রে ঋণ দেওয়া হয়েছে, তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। সোসাল ইসলামী ব্যাকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমবি) এ বিষয়ে আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি লিখিত জবাব দাখিল করতে বলেছেন আদালত। ওইদিন এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এই আদেশ দেন।

আদালতে বাংলাদেশ ফিনান্সিয়াল ইন্টিলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী শাহীন আহমেদ।

বিজ্ঞাপন

এ আদেশের পাশাপাশি ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের জমি বন্ধক রেখে দুর্নীতির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সরকারের সংশ্লিষ্টদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে।

দুদকের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, বাংলাদেশ ফিনান্সিয়াল ইন্টিলিজেন্স ইউনিটসহ সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

‘মহাসড়ক বন্ধক দেখিয়ে লুটপাট ১৫ কোটি টাকা’ শিরোনামে গত ১৬ এপ্রিল একটি জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশ হয়। ওই প্রতিবেদন যুক্ত করে ২১ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ওবায়েদ আহমেদ বাদী হয়ে হাইকোর্টে রিট করেন। ওই রিটের শুনানি নিয়ে আদালত আজকে এ আদেশ দেয়।

রিটকারি আইনজীবী জানান, মহাসড়কের জায়গা বন্ধক দিয়ে ঋণ নিয়েছেন। একটি পত্রিকায় ও একটি বেসরকারি টিভিতে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রচারিত হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। সম্প্রতি গোলাম ফারুক একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন। কিন্তু মহাসড়কের জমি বন্ধকের ঘটনায় কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই ওই ঘটনার তদন্ত চেয়ে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ চেয়ে আবেদন করি।

বিজ্ঞাপন

ঘটনা উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, মহাসড়কের সরকারি জমি বন্ধক রেখে একটি বেসরকারি ব্যাংক থেকে ১৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিলেন মো. গোলাম ফারুক নামে এক ভয়ঙ্কর প্রতারক। ব্যাংকের অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে তিনি মোটা অঙ্কের এ ঋণ বাগিয়ে নেন। তবে সেটি ধরা পড়ার পর আবার দলিল সংশোধন করেন। এবার আগের বন্ধককৃত জমির দাগ নম্বর পরিবর্তন করে ব্যাংকে জমা দেন। সংশোধিত দলিলের জমিতে বন্ধকি সম্পত্তির সাইনবোর্ড স্থাপনের চেষ্টা করলে ব্যাংক জানতে পারে সেটিও ভুয়া। সংশোধিত দলিলের জমির আসল মালিক জামির আলী। ২৭ শতাংশ ওই জমি দখলে নিতে একাধিকবার তার ওপর হামলা ও হত্যাচেষ্টা চলে। অবশেষে গত ১৪ এপ্রিল রাতে রাজধানীর উত্তরা থেকে ফারুকসহ তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ফিরোজ আল মামুন ওরফে ফিরোজকে গ্রেফতার করে র‍্যাব।

পরের দিন (১৫ এপ্রিল) দুপুরে কারওয়ান বাজারের র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/কেআইএফ/ইআ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন