বিজ্ঞাপন

আগামী নির্বাচনে নৌকাকে বিজয়ী করার ওয়াদা চাইলেন শেখ হাসিনা

November 24, 2022 | 5:45 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করে সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন। আমি আপনাদের কাছে ওয়াদা চাই, আগামী নির্বাচনেও আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে আপনাদের সেবা করার সুযোগ দেবেন কি না, আপনারা হাত তুলে ওয়াদা করেন।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) দুপুরে যশোর জেলা স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় তিনি এ সব কথা বলেন। জনসভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত আছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জনসভা মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ ফুল উপহার দেন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। যশোরের ঐতিহ্য সংস্কৃতি ও মৃক্তিযুদ্ধে অবদান তুলে ধরে সংক্ষিপ্ত সাংস্কৃতিক পরিবেশনা প্রদর্শন করেন স্থানীয় সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে।

বিজ্ঞাপন

যশোরসহ ওই জনপদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে তার সরকারের মেয়াদে নানামুখী পদক্ষেপ বাস্তবায়নের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন,‘আমাদের লক্ষ্যই হচ্ছে এই অঞ্চলটা আরও উন্নত হোক। গুজবে কখনও কান দেবেন না। আপনারা জানেন বিএনপির কাজই হচ্ছে সবসময় গুজব ছড়ানো। আর ওরা নিজেরা তো কিছু করতে পারে না। ক্ষমতায় যখনই আসছে লুটপাট করে খেয়েছে।’

১৯৯৬ সালে সরকার গঠন করার বিএনপির আমলে রিজার্ভ কত ছিল প্রশ্ন উত্থাপন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করোনার সময় আমাদের আমদানি রফতানি ছিল না। সেই জন্য রিজার্ভ বেড়েছিল প্রায় ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। যেখানে ৫ বিলিয়ন থেকে ৪৮ বিলিয়ন পর্যন্ত আমরা তুলতে পারি। সেখানে ভ্যাকসিন কেনা, সার কেনা, চাল নিয়ে আসা, গম, ভুট্টা যত জিনিস কেনা দরকার আমরা জনগণের জন্য দুই হাতে খরচ করেছি। এটি অন্য কোথাও যায়নি, জনগণের কল্যাণে ব্যয় হয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

রিজার্ভ থেকে আট বিলিয়ন ডলার বিভিন্ন কাজে বিনিয়োগ করেছি জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘রফতানিতে প্রণোদনা দিচ্ছি, কৃষিতে প্রণোদনা দিচ্ছি। ভতুর্কির টাকা দিচ্ছি, প্রত্যেকটা স্কুল কলেজের উন্নতি করে দেওয়া, আমরা তা করে দিচ্ছি।’

এ সময় যশোর স্টেডিয়ামের সার্বিক উন্নয়ন করাসহ কপোতাক্ষ নদ খননে নতুন প্রকল্প, ভবদহের জলাবদ্ধতা প্রশমনে নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন করার প্রতিশ্রুতি দেন সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা।

বিজ্ঞাপন

বর্তমান সরকারের মেয়াদে মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি করার প্রসঙ্গ তুলে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তাহলে যদি এরা প্রশ্ন করে? এরা কার কাছে প্রশ্ন করে? খুন করা হত্যা করা, অত্যাচার করা, নির্যাতন করা, জেল জুলুম মামলা দেওয়া ছাড়া এরা কিছুই দিতে পারেনি। কাজেই আমি এইটুকুই বলব, আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করে আমাদেরকে আপনাদের সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন। আগামী নির্বাচনে আমি আপনাদের কাছে ওয়াদা চাই, আগামী নির্বাচনেও আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে আপনাদের সেবা করার সুযোগ দেবেন কি না, আপনারা হাত তুলে ওয়াদা করেন।’

এ জন্য উপস্থিত জনতার প্রতি ধন্যবাদ জানান এবং যশোরের স্টেডিয়াম জরাজীর্ণ স্টেডিয়ামকে ভেঙে আরও নতুন আধুনিক উন্নত ১১ স্তরবিশিষ্ট স্টেডিয়াম তৈরির প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু আমার একটি কথা আছে, কথা আছে ছাত্র যুব সমাজের প্রতি। খেলাধুলা সংস্কৃতি চর্চা এবং লেখাপড়া করতে হবে। মাদক থেকে দূরে থাকতে হবে। মাদক গ্রহণ চলবে না, যেটি একটা মানুষের জীবন শেষ করে দেয়। কাজেই মাদক থেকে দূরে থাকতে হবে। জঙ্গিবাদ সন্ত্রাস থেকে দূরে থাকতে হবে। আর কেউ জঙ্গিবাদ সন্ত্রাসে লিপ্ত হতে পারবে না। আমরা শান্তি চাই। উন্নতি চাই, আমাদের যুব সমাজ আমাদের ভবিষ্যৎ। ছেলেমেয়ে সবাই এদেশকে গড়ে তুলতে হবে। এদেশের উন্নতি করতে হবে।’

বিজ্ঞাপন

দেশের প্রত্যেক জায়গায় সমভাবে উন্নতি হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করোনাকালীন সময়ে বাইরে জনসভা করতে পারিনি। আজকে আমার প্রথম জনসভা এই যশোরে। যশোরের মাটিতে আমার নানা শুয়ে আছেন, যে যশোর মুক্তিযুদ্ধের সময় বিরাট অবদান রেখেছে যে যশোর খেজুর গুড়ের যশোর। ফুলের যশোর, উন্নয়নের একটি দৃষ্টান্ত। সেই যশোরে জনসভা করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।’

কষ্ট করে জনসভাস্থলে আসার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে। ২০৪১ সালের মধ্যে ইনশাআল্লাহ এই বাংলাদেশ উন্নত দেশ হিসাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের স্বপ্ন আমরা পূরণ করে চলেছি। এই বাংলাদেশের একটি মানুষও না খেয়ে থাকবে না। একটি গৃহহারা থাকবে না। একটি মানুষও রোগে ধুঁকে মরবে না। প্রত্যেকের জীবন মান উন্নত হবে। সমৃদ্ধশালী হবে। আমরা সেই পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি এবং তা বাস্তবায়ন করেই বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। তার জন্য আপনাদের সহযোগিতা চাই। আপনাদের দোয়া চাই, আপনাদের আর্শীবাদ চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘মা-বাবা ভাই সব হারিয়েছিলাম। বিচার চাওয়ার অধিকার ছিল না, মামলা করার অধিকার ছিল না। বিচারহীনতার কালচার ছিল। সেই দুঃখ বেদনা নিয়েও এই বাংলার মাটিতে ফিরে এসেছিলাম শুধু আপনাদের জন্য। বাংলাদেশের মানুষের জন্য। যে মানুষের জন্য আমার তার সারাটা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। কাজেই তারই এই বাংলাদেশ, তার এই দেশের মানুষ, তাদের ভাগ্য গড়াই আমার কাজ।’

আপনাদের দোয়া চাই আমার যতটুকু সাধ্য আছে। আমি আপনাদের পাশে থেকে আপনাদের সেবা করে যাব বলে অঙ্গীকার করেন বঙ্গবন্ধু কন্যা। তিনি বলেন, ‘বারবার আমাকে হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে। আপনাদের মনে আছে, যখন আমি সাতক্ষীরা থেকে কলোরোয়া হয়ে যশোর নাবারুণে আমার সভা ছিল। আমার গাড়ি আক্রমণ করা হয়েছিল। তখনও আমি বেঁচে গেছি। গ্রেনেড হামলায় বেঁচে গেছি। আল্লাহ রাব্বুল আলআমিন বারবার এই আঘাত থেকে বাঁচিয়ে দিচ্ছে। বোধহয় আমার ওপর দায়িত্ব দিয়েছে; বাংলার জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন করার। ইনশাল্লাহ এই বাংলাদেশ দারিদ্র্য থাকবে না। এই বাংলাদেশ উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ হবে। এই বাংলাদেশকে উন্নত বাংলাদেশ করে জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণ করবো। আজকে এই ওয়াদা দিয়ে আপনাদের কবাছ থেকে বিদায় নিচ্ছি।’

উপস্থিত জনতার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকে অনেক মানুষ। দূর থেকে হয়ত সবাইকে দেখতে পেলাম না। কিন্তু তারপরও আপনারা আছেন আমার হৃদয়ে। আমি যাওয়ার আগে বলে যাই, রিক্ত আমি নিঃস্ব আমি দেওয়ার কিছু নেই। শুধু ভালোবাসা দিয়ে গেলাম তাই।’

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে যশোর বিমান বাহিনী একাডেমিতে ‘বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একাডেমির রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ (শীতকালীন) ২০২২’ অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে পাসিং আউট কুচকাওয়াজে অভিবাদন গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

বিকেলে টানা মেয়াদে সরকারে থেকে দেশের আর্থ-সামাজিক ও অবকাঠামোগত খাতে দৃশ্যমান উন্নয়ন অঙ্গীকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জয়গান নিয়ে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জনসভায় ভাষণ দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। চলতি বছরেই পদ্মা সেতু, মধুমতি সেতু উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এতে যশোরসহ ওই জনপদের মানুষ বিভিন্নভাবে উপকারভোগী হয়েছে। তাই একদিকে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অন্যদিকে করোনাকালের ঘরবন্দীর ঘেরাটোপ থেকে জনতার কাতারে সরকার ও দলের বার্তা পৌঁছে দিতে ভোটের মাঠে নামলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম মিলনের সভাপতিত্বে সভা পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, পীযূষ ভট্টাচার্য, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক, শেখ হেলাল উদ্দিন এমপি, কাজী নাবিল আহমেদ এমপিসহ অনেকে।

সারাবাংলা/এনআর/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন