বিজ্ঞাপন

১০ ডিসেম্বর নিয়ে বিভ্রান্ত হওয়ার কিছু নেই

November 25, 2022 | 10:54 am

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির মহাসচিব। ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর দলটির ৫ম জাতীয় সম্মেলনে মির্জা ফখরুল সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন। এই পদে এর আগে দায়িত্ব পালন করেন তারেক রহমান।

বিজ্ঞাপন

২০১১ সালের ২০ মার্চ বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব খন্দকার দেলওয়ার হোসেন মৃত্যুবরণ করার পর বেগম খালেদা জিয়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ঘোষণা করেন। ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে দলটির মহাসচিব হিসেবে নির্বাচিত হন তিনি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সক্রিয় ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের একজন সদস্য ছিলেন এবং সংগঠনটির এস এম হল শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের সময় সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

জেনারেল এরশাদের সামরিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে যখন দেশব্যাপী আন্দোলন চলছে, তখন মির্জা ফখরুল বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন। একইসঙ্গে জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের সহ-সভাপতির দয়িত্ব পালন করেন।

মির্জা ফখরুল ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ওই বছর নভেম্বরে বিএনপি সরকার গঠন করলে খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় প্রথমে কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও পরবর্তীতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান। ২০০৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন।

বিজ্ঞাপন

২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঠাকুরগাঁও-১ ও বগুড়া-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন লাভ করেন এবং বগুড়া-৬ আসনে নির্বাচিত হন। কিন্তু শপথ গ্রহণ না করায় নির্বাচন কমিশন তার আসনটি শূন্য ঘোষণা করে।

বেগম খালেদা জিয়ার ‘কারাবাস’ এবং তারেক রহমান নির্বাসনে থাকায় বর্তমানে বিএনপির নেতৃত্ব দিচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সম্প্রতি তার নেতৃত্বে দেশের সাতটি মহানগরে সমাবেশ করেছে বিএনপি। আগামী ২৬ নভেম্বর কুমিল্লা, ৩ ডিসেম্বর রাজশাহী এবং ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে বিভাগীয় পর্যায়ে দলটির শেষ সমাবেশ।

বিজ্ঞাপন

দলটির মধ্যম সারির এক নেতার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে ঢাকার মহাসমাবেশ নিয়ে দেশের রাজনীতিতে নানা কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে। সেই সাথে সৃষ্টি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ। মনোযোগ বেড়েছে মানুষের। কেউ বলছেন, বিএনপির সমাবেশ শেষ পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচিতে রূপ নেবে। কেউ বলছেন, এখান থেকে সরকার পতন আন্দোলন শুরু করবে বিএনপি।

কিন্তু দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাবাংলাকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেছেন— ঢাকার সমাবেশ নিয়ে বিভ্রান্ত হওয়ার কিছু নেই। এগুলো হচ্ছে বিএনপির প্রথম পর্যায়ের কর্মসূচি। চূড়ান্ত পর্যায়ের কর্মসূচি এখনই নয়।

বিজ্ঞাপন

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন সারাবাংলার স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট আসাদ জামান। সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ সারাবাংলার পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

সারাবাংলা: ১০ ডিসেম্বর ঢাকার মহাসমাবেশ নিয়ে রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে বেশ কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা এই সমাবেশ নিয়ে ভাবছেন একরকম। অন্যদিকে, সরকারের এমপি-মন্ত্রিরা আরেকভাবে ব্যাখ্যা দিচ্ছেন? প্রকৃতপক্ষে ওই দিন কী ঘটতে যাচ্ছে?

মির্জা ফখরুল: দেখুন, এ আন্দোলনে সুনির্দিষ্ট কিছু ইস্যু আছে। ইস্যুগুলোর মধ্যে রয়েছে- জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যবৃদ্ধি, চাল-ডাল-তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ। এছাড়া আন্দোলন চলাকালে আমাদের নেতাকর্মীদের গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং ৩৫ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যহারের দাবিতে আমাদের এই আন্দোলন। ইতোপূর্বে আমরা ইউনিয়ন, থানা ও জেলা পর্যায়ে আন্দোলন করেছি। এখন আমরা বিভাগীয় পর্যায়ে করছি। ১০টি বিভাগের মধ্যে সাতটি বিভাগ আমাদের শেষ হয়েছে। আর তিনটি বিভাগ— কুমিল্লা, রাজশাহী ওর ঢাকায় সমাবেশ করব। এগুলো হচ্ছে আমাদের প্রথম পর্যায়ে কর্মসূচি।

১০ ডিসেম্বর নিয়ে বিভ্রান্ত হওয়ার কিছু নেই

সারাবাংলা: তাহলে চূড়ান্ত পর্যায়ের কর্মসূচি কবে?

মির্জা ফখরুল: এখন পর্যন্ত রাজনৈতিক দাবি নিয়ে কিন্তু আমরা সামনে আসিনি। অফিসিয়ালি আমাদের রাজনৈতিক দাবি হচ্ছে- এই সরকারের পদত্যাগ, সংসদ বিলুপ্ত করা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর, নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন, নির্বাচন কমিশন গঠনের পর সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য একটা নির্বাচন অনুষ্ঠান— এগুলো আমাদের প্রধান দাবি। বিভাগীয় আন্দোলনগুলো (সমাবেশ) শেষ হলে এ দাবিগুলো নিয়ে সামনে আসব।

সারাবাংলা: তাহলে ঢাকার সমাবেশকে কেন্দ্র করে যে কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে, সেটা ভিত্তিহীন?

মির্জা ফখরুল: একটা হাইপ তোলা হচ্ছে। এটা কিছুটা তৈরি করা। সেটা যেভাবেই হোক, হয়তো পলিটিক্যাল রেটোরিক্স দিয়ে কেউ বলেছেন, কেউ হয়তো ইচ্ছা করেই হাইফ তুলছে। আর সরকার একটা ইস্যু তৈরি করার জন্য হাইপটা নিয়েছে।

সারাবাংলা: তাহলে দেশবাসী এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের জন্য আপনার মেসেজটা কী?

মির্জা ফখরুল: এখানে বিভ্রান্ত হওয়ার কিছু নেই। আমাদের এটা প্রথম পর্যায়ের শেষ কর্মসূচি। এর পরে আমরা দ্বিতীয় পর্যায়ে নতুন কর্মসূচি দিয়ে, নতুন দাবি নিয়ে এগোবো। এখানে যে জিনিসটা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, যেটা সাংবাদিক হিসেবে আপনাদের উচিত মানুষকে বলা— আমরা (বিএনপি) কিন্তু শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছি, পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ। সংবিধান-সম্মত আন্দোলন করছি। এর পরের আন্দোলনগুলোও পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ এবং সংবিধান-সম্মত হবে।

সারাবাংলা: ঢাকার সমাবেশ ঘিরে এখন পর্যন্ত কোনো বাধা বা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে কী?

মির্জা ফখরুল: সরকারের উসকানি তো আছেই। আপনারা জানেন- ইউনিয়ন, থানা এবং উপজেলা পর্যায়ে আন্দোলন চলাকালে সরকার গুলি করে সাতজনকে হত্য করেছে, হামলা করছে। আমাদের অসংখ্য নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে। তারপরও আমরা কোনো উসকানিতে পা না দিয়ে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ, উল্লেখযোগ্য বিষয়। যদি সরকার তার হীন স্বার্থে আন্দোলনের মোড় পরিবর্তন করায় বা অন্য দিকে নিয়ে যায়, তার সম্পূর্ণ দায়-দায়িত্ব সরকারের।

১০ ডিসেম্বর নিয়ে বিভ্রান্ত হওয়ার কিছু নেই

সারাবাংলা: ঢাকার সমাবেশ নিয়ে এক লাইনের মেসেজটা তাহলে কী?

মির্জা ফখরুল: এক লাইনে কোনো মেসেজ হয় না। আমরা যে দাবিগুলো দিয়েছি, সেই দাবিগুলো আদায়ে প্রথম ধাপের শেষ কর্মসূচি হচ্ছে ঢাকার মহাসমাবেশ। রাজনৈতিক যে মেসেজ, সেটা আমরা দিয়েছি। জ্বালানি তেলের দাম কমাতে হবে, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য কমাতে হবে, যাদের বিনা কারণে পুলিশ গুলি করে হত্যা করেছে, তাদের হত্যার বিচার করতে হবে, ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং পুলিশকে অবশ্যই হত্যাকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে হবে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দিতে হবে। সারাদেশে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ৩৫ লাখ মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। দিস ইজ আওয়ার মেসেজ। অ্যানালাইসিসটা আপনারা (মিডিয়া) করবেন, এটা আপনাদের ব্যাপার। আমার যেটা রাজনীতি, ওটা আমি বললাম।

সারাবাংলা: সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

মির্জা ফখরুল: সারাবাংলাকেও ধন্যবাদ।

সারাবাংলা/এজেড/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন