বিজ্ঞাপন

সেই ওসমানির বিরুদ্ধে নার্সের মামলা নেওয়ায় থানায় হামলা

December 2, 2022 | 12:00 am

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর থানায় সাংবাদিক হত্যাচেষ্টায় আলোচিত ডা. এম এইচ ওসমানীর বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির মামলা করেছেন তারই প্রতিষ্ঠান রিভারসাইড হাসপাতালের একজন নার্স। থানায় মামলা নেওয়ার কারণে পুলিশের ওপর আক্রমণ করে ডা. ওসমানী ও তার প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য নার্স ও কর্মচারীরা। থানা ঘেরাও করে চালানো হামলায় আহত হয়েছেন পুলিশের ছয় সদস্য। এছাড়াও হাতাহাতির এক পর্যায়ে ডা. ওসমানী নিজেও আহত হন।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (১ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কামরাঙ্গীরচর থানার সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে৷

পরবর্তীতে আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয় বলে নিশ্চিত করেছেন প্রতিষ্ঠানটির পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী ইনচার্জ (এএসআই) মো. মাসুদ।

বিজ্ঞাপন

তিনি জানান, আহত হয়ে ছয় পুলিশ সদস্য হাসপাতালে এসেছিলেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আহত ডা. ওসমানীকে হাসপাতালে ভর্তি দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করা আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন- কামরাঙ্গীরচর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বজলু রহমান, এসআই মোস্তাকিম কবির, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আতাউর রহমান, নায়েক রোজাউল ইসলাম, কনস্টবল মো. সেলিম ও মনু মিয়া। এরা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

এদিকে, কামরাঙ্গীরচর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মোস্তফা আনোয়ার জানান, বুধবার (৩০ নভেম্বর) রিভার সাইড হাসপাতালের এক নার্স থানায় ওই হাসপাতালের মালিক ডা. ওসমানীর নামে শ্লীলতাহানির মামলা করেন। ওসমানীর বিরুদ্ধে মামলা নেওয়ায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হাসপাতালের মালিক ওসমানী স্টাফ, নার্সসহ এক থেকে দেড়শ লোক নিয়ে এসে থানা ঘেরাও করে। এক পর্যায়ে পুলিশের ওপর আক্রমণ করে তারা। এতে অন্তত ছয় পুলিশ সদস্য আহত হন। তারা ঢাকা মেডিকেল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

এদিকে ডা. ওসমানীর স্ত্রী শারমিন জাহান প্রিয়া পালটা অভিযোগ করে বলেন, মামলার বিষয়ে জানতে থানায় গিয়েছিলেন। সঙ্গে হাসপাতালের ২০ থেকে ৩০ জন স্টাফ ছিল। তখন পুলিশ তাদের ওপর আক্রমণ করে। ওসমানীর মাথায় আঘাত করে তারা। তাকে ঢাকা মেডিকেলের নিউরোসার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এর আগে, ৯ আগস্ট ডা. ওসমানীর নেতৃত্বে হত্যাচেষ্টার উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয় ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের সাংবাদিক হাসান মিসবাহ ও ভিডিও জার্নালিস্ট সাজু মিয়ার ওপরে। কোনো মেডিকেল কলেজে পড়ালেখা না করলেও বিএমডিসির নম্বর জালিয়াতি করে এখানে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছিলেন একাধিক ভুয়া চিকিৎসক— স্থানীয়দের এমন অভিযোগের ভিত্তিতে খোঁজ নিতে গেলে দুইজন সাংবাদিককে পেটায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অভিযোগের জবাব না দিয়ে উল্টো ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের সাংবাদিক হাসান মিসবাহ ও ভিডিও জার্নালিস্ট সাজু মিয়ার উপরে হামলা করে ক্লিনিকটির মালিক ডা. ওসমান ও তার কর্মীরা। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে আবার পেটানো হয় সাংবাদিকদের।

কামরাঙ্গীর চর থানা পুলিশ কর্মকর্তারা এমন অভিযোগ অস্বীকার করলেও এসআই মিলন হোসেনের কর্মকাণ্ডে লজ্জিত হওয়ার কথা জানায়। প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্সের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তারা।

বিজ্ঞাপন

দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আহত হওয়া সাংবাদিক হাসান মেসবাহ সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের কাছে তথ্য ছিল এসপিএ হাসপাতালটিতে একজন ভুয়া চিকিৎসক বসেন। তিনি বিএমডিসির যে নম্বর ব্যবহার করেন সেটা ভুয়া বলে আমাদের কাছে তথ্য ছিল। সেই তথ্যের ভিত্তিতে আমরা সেখানে যাই এবং হাসপাতালটির মালিক সিও ভুয়া চিকিৎসক ওসমানের সাক্ষাৎকার নিতে শুরু করি। একপর্যায়ে ভুয়া ডাক্তার থাকার বিষয়ে বলা হলে ওসমান বলেন, এই তুই কি আমাকে একজন ভুয়া চিকিৎসক মনে করেছিস? জানিস আমি কে? দাঁড়া তোকে দেখাচ্ছি। এই যা, তোকে আর ইন্টারভিউ দেবো না।’

তিনি আরও বলেন, ‘তখন আমি তাকে বলি যে, আপনার এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলার দারকার নাই। শুধু বলেন, আপনার হাসপাতালে ভুয়া চিকিৎসক বসে কি না। তখন তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে প্রথমে আমার চশমাটা ভেঙে ফেলেন। এরপর আমার গায়ে হাত তোলেন। পরে হাসপাতালের ১৫ থেকে ২০ জন লোক ডেকে আমাদের মারধর করেন। এরপর আমাদের ফোন, গাড়ির চাবি কেড়ে নিয়ে তিনিই পুলিশকে খবর দেন।’

হাসান মিসবাহ বলেন, ‘পুলিশ আসার পর এসআই মিলন আমাকে বলে তুই কোন টিভির সাংবাদিক। তখন আমি তাকে বলি আমরা ইন্ডিপেনডেন্ট টিভি থেকে এসেছি। এবার তিনি সাজুকে বলতে লাগলেন, তোরা যদি আসল সাংবাদিক হয়ে থাকিস তাহলে তোদের কার্ড দেখা। এ সময় সাজু তার কার্ডটি বের করে দেখালে সেটি দেখে বলতে থাকে এই তোরা তো ভুয়া সাংবাদিক।’

তিনি বলেন, ‘পুলিশ কর্মকর্তাকে আমাদের সব পরিচয়পত্র দেখানো হয়। আমি বারবার বলার চেষ্টা করছিলাম, আমরা আমাদের অফিস থেকে অ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে এখানে এসেছি। আপনি অফিসে ফোন করে বিষয়টি যাচাই করতে পারেন। কিন্তু তিনি আমার কোনো কথা না শুনে সরাসরি তেড়ে এসে আমার মুখে ঘুষি মারেন। এরপর অন্যরা তার সঙ্গে যোগ দেয়।’

আমাদের দু’জনকে সেই এসআইয়ের সামনে আবারও মারধর করা হয়- বলেন হাসান মেসবাহ। তিনি আরও বলেন, ‘তারা আমাদের সঙ্গে থাকা ক্যামেরা ও গাড়ি ভাঙচুর করেছে। আমাদের কাছে অফিসের যাবতীয় সব সরঞ্জামাদি থাকার পরও এসআই ভুয়া সাংবাদিক বলে মারধর করেছে।’

১১ আগস্ট নিবন্ধনহীন এবং ভুয়া চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনায় অভিযুক্ত কামরাঙ্গীরচরের এসপিএ রিভারসাইড মেডিকেল সেন্টার বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের পক্ষ থেকে।

পরবর্তীতে সাংবাদিক মিসবাহের উপর হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা মামলা করা হয় ডা. ওসমানীর বিরুদ্ধে। সেই মামলায় বর্তমানে জামিনে আছেন ওসমানী।

সারাবাংলা/এসএসআর/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন