বিজ্ঞাপন

ছাত্রলীগের সম্মেলনে শৃঙ্খলার অভাব, ক্ষোভ ঝাড়লেন ওবায়দুল কাদের

December 2, 2022 | 2:57 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ ছাত্রলীগের সম্মেলনে শৃঙ্খলার অভাব দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, এটা কি ছাত্রলীগ? কোনো শৃঙ্খলা নেই। জয়-লেখক (ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক) এটা কী ছাত্রলীগ? পোস্টার নামাতে বললাম তারা নামায় না। এরা কারা? খোঁজ নিচ্ছি। এতো নেতা স্টেজে, তাহলে কর্মী কোথায়? এই ছাত্রলীগ চাই না।

শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) দুপুরে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ ছাত্রলীগের যৌথ সম্মেলনে তিনি এ ক্ষোভ ঝাড়েন।

বিজ্ঞাপন

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছিলেন ওবায়দুল কাদের। বক্তব্য দেওয়ার এক পর্যায়ে সংগঠনের উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে শৃঙ্খলার অভাব দেখা দেয়। তারা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড উঁচিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। এসময় মঞ্চ থেকে তাদেরকে বারবার নিষেধ করা হলেও তাতে ভ্রুক্ষেপ না করে স্লোগান দিতে থাকেন।

এতে চরম বিরক্তি প্রকাশ করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, বঙ্গবন্ধুর ছাত্রলীগ, শেখ হাসিনার ছাত্রলীগ; এই ছাত্রলীগ না। মুজিব কোট পরলেই মুজিব সৈনিক হওয়া যায় না। মুজিব সৈনিক হতে হলে মুজিবের আদর্শের সৈনিক হতে হবে।

বিজ্ঞাপন

ছাত্রলীগের সম্মেলনে শৃঙ্খলার অভাব, ক্ষোভ ঝাড়লেন ওবায়দুল কাদের

এদিকে মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে তিন শতাধিক আগ্রহী জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন বলে জানা সংগঠন সূত্রে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

আজ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলেও আগামী ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলনের দিন মহানগরের দুই কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা হবে।

সম্মেলনে যোগ দিতে সকাল ৯টা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আসেন ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সম্মেলনস্থলে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি বাড়তে শুরু করে। আওয়ামী লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা সম্মেলনের মঞ্চে আসলে বেলা সোয়া ১১টায়। এরপর শুরু হয় ছাত্রলীগের সম্মেলন।

বিজ্ঞাপন

জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা এবং সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরিবেশিত হয় ছাত্রলীগের দলীয় সংগীত ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়। এরপর পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পাঠের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের বক্ততা পর্ব শুরু হয়।

জানা গেছে, দক্ষিণে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছেন ১৬০ নেতা এবং উত্তরে এই দুই পদে প্রায় দেড়’শ নেতা ফরম সংগ্রহ করেছেন।

এর আগে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের সম্মেলন হয়েছিল ২০১৮ সালের ২৫ এপ্রিল। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, মহানগর কমিটির মেয়াদ এক বছর হলেও এতদিন পর্যন্ত তা বহাল ছিল।

গত ২১ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে ৩০তম জাতীয় সম্মেলনের আয়োজন ও প্রস্তুতি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকার দুই শাখার সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করেন ছাত্রলীগের সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয়। তারপরই সম্মেলনকে ঘিরে উজ্জীবিত হন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা, সক্রিয় হন পদপ্রত্যাশীরা।

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আগামীকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলায় এ সম্মেলন হবে। আর আগামী ৬ ডিসেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হবে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের ৩০তম কেন্দ্রীয় সম্মেলন।

সম্মেলনে বিএনপির উদ্দেশ্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, আগুন নিয়ে খেলা শুরু হয়ে গেছে। খেলা হবে আন্দোলনে, খেলা হবে নির্বাচনে, ডিসেম্বরে খেলা হবে। আপনারা সমাবেশ করবেন সুশৃঙ্খলভাবে, মারামারি নয়। তবে পাল্টা আক্রমণ হলে আমরাও পাল্টা আক্রমণ করব কি না সেটা সময় বলে দেবে।

তিনি বলেন, গত পরশু বিআরটিসি বাস মতিঝিলে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তারা (বিরোধীরা) জানান দিয়েছে যে, আবার তারা ফিরে আসছে। আমাদের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রত্যেক ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে সতর্ক পাহারা দিতে হবে।

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, আপনাদের (বিএনপি) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সোহরাওয়ার্দী উদ্যান আপনাদের পছন্দ নয়, পাক হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করেছে সেই জায়গা আপনাদের পছন্দ নয়। ১০ ডিসেম্বর থেকেই কিন্তু ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবী হত্যা শুরু হয়েছিল।

তিনি বলেন, আমরা বলেছি পরিবহন ধর্মঘট হবে না। নেতারা অনুরোধ রেখেছেন আপনাদের বিভিন্ন জায়গার সমাবেশে। তবে সমাবেশের নামে যদি কোনো বিশৃঙ্খলা করা হয়, কোনো সহিংসতা করা হয়, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করা হয়, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সমুচিত জবাব দেবে। তারা এখন জঙ্গিদের মাঠে নামিয়েছে খবর আছে। অস্ত্রবাজদের মাঠে নামিয়েছে খবর আছে, আমাদের কাছে খবর আছে বস্তায় বস্তায় টাকা আসে দুবাই থেকে, টাকা আসে, হায়রে টাকা।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অভিযোগ করে বলেন, তারেক সিঙ্গাপুরে টাকা পাচার করেছে, খেলা হবে পাচারের বিরুদ্ধে, এখনো যারা পাচার করছে খবর আছে, যারা পাচার করছেন শেখ হাসিনা কাউকে ক্ষমা করবেন না, খবর আছে।

এখন ড. কামাল হোসেন মুখ খুলেছেন। তিনি বলেছেন বাইরে যেতে হবে, তাই নাকি সরকার টাকা পাচার করছে। কামাল হোসেন হলেন রহস্যপুরুষ বলেও মন্তব্য করেন ওবায়দুল কাদের।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নজরুল ইসলাম বাবু।
বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, ঢাকা মহানগর উত্তর সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের আবু আহম্মদ মোহাম্মদ মান্নাফী, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির।

সম্মেলন উদ্বোধন করেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়। সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য। মহানগর উত্তরের সভাপতি ইব্রাহিম হোসেনের সভাপতিত্বে যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান হৃদয়, দক্ষিণের সভাপতি মো. মেহেদী হাসান, সাধারণ সম্পাদক মো. জুবায়ের আহমেদ।

সারাবাংলা/এনআর/এনইউ

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন