বিজ্ঞাপন

কর্মকর্তারা নিজেদের বড় কিছু মনে করেন: হাইকোর্ট

December 8, 2022 | 9:12 pm

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: সরকারি কর্মকর্তারা নিজেদের অনেক বড় কিছু মনে করেন বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। কর্মকর্তারা জনগণকে বন্ধু মনে করলে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হতো না বলেও মনে করেন হাইকোর্ট।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) আদালত অবমাননার এক আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান ও বিচারপতি এ কে এম রবিউল হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের এমন মন্তব্য করেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ওয়ায়েস আল হারুনী।

বিজ্ঞাপন

এদিন ১৪টি পৌরসভার হিসাবরক্ষক কর্মকর্তাদের দায়ের করা এক আদালত অবমাননার মামলায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিবের প্রতিনিধি হিসেবে তলবে হাজির হন একই মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. আবদুর রহমান।

দীর্ঘ দিনেও হিসাবরক্ষক কর্মকর্তাদের আবেদন নিষ্পত্তি না করায় আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এ সময় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিবের উদ্দেশে আদালত বলেন, ‘ছয় বছরেও আবেদন নিষ্পত্তি করতে পারলেন না। পক্ষে-বিপক্ষে যাই হোক আদালতের আদেশের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আবেদন অনেক আগেই নিষ্পত্তি করা উচিত ছিল। তখন আদালত কক্ষে সচিবের পক্ষে উপস্থিত থাকা উপসচিবের প্রতি প্রশ্ন রেখে আদালত বলেন, আপনিও তো সরকারি কর্মকর্তা। আপনার কোনো আবেদন যদি কোনো সচিব নিষ্পত্তি না করতেন তাহলে কেমন লাগত?’

বিজ্ঞাপন

আদালত বলেন, ‘জনগণই যে সব ক্ষমতার উৎস— এটা সচিবদের মনে রাখা উচিত। সচিবালয়ে বসে নিজেদের দায়িত্ব ভুলে গেলে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ে।’

আদালত আরও বলেন, ‘সচিবেরা আদালতের আদেশ মানেন না। আবার তাদের তলব করলে বিব্রতবোধ করেন।’

বিজ্ঞাপন

পরে আদালত এই মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১০ জানুয়ারি দিন ধার্য করে দেন।

পরে আইনজীবী মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া জানান, বাংলাদেশের সব পৌরসভায়-অ্যাকাউন্ট ও অডিট বিভাগের পরিবর্তে হিসাব ও নিরীক্ষা বিভাগ গঠন করার জন্য দেশের বিভিন্ন পৌরসভায় হিসাবরক্ষক কর্মকর্তা পদে কর্মরত ১৪ জন অফিসার বিভিন্ন সময়ে মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট দফতর দরখাস্ত করেছিলেন। কিন্তু বারবার যোগাযোগ করার পরও সংশ্লিষ্ট দফতর হিসাবরক্ষক কর্মকর্তাদের দাখিল করা আবেদন নিষ্পত্তি করার বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি।

বিজ্ঞাপন

পরে ওই ১৪ জন অফিসার বাদী হয়ে ২০১৭ সালে হাইকোর্ট রিট দায়ের করেন। রিটে স্থানীয় সরকার সচিব, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় সচিব মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়।

রিটের শুনানি শেষে আদালত ২০১৭ সালের ২০ নভেম্বর দাখিল করা দরখাস্ত কোনো ব্যর্থতা ছাড়া এক মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিবের প্রতি নির্দেশ দেন ।

এরপর হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আপিল আবেদন দায়ের করে রাষ্ট্রপক্ষ। আপিল বিভাগ ২০২০ সালের ২৩ মার্চ রাষ্ট্রপক্ষের সিভিল পিটিশনটি খারিজ করে দেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়ে গেলেও আদালতের আদেশ প্রতিপালন না করায় স্থানীয় সরকার সচিবের বিরুদ্ধে ১২ জন অফিসার আদালত অবমাননার অভিযোগে গত মাসে মামলা দায়ের করেন।

আদালত অবমাননার দরখাস্তকারীরা হলেন— কাউছার মাতুব্বর, গোলাম মোহাম্মদ, আলেক মিয়া, রেজাউল হক শাহা, খোকন চন্দ রায়, আবু শাহাদাত মো. সায়েম, মো. শফিকুল ইসলাম, দেলোয়ার হোসেন, রোজিনা পারভিন, ইকবাল হোসেন, শুকুর মিয়া এবং আবু সুফিয়ান।

সারাবাংলা/কেআইএফ/এনএস

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন