বিজ্ঞাপন

২৯ বছর আ.লীগ শুধু মার খেয়েছে, আর নয়: প্রধানমন্ত্রী

December 8, 2022 | 10:13 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, সেই পঁচাত্তর থেকে একুশ বছর শুধু মার খেয়েছি। ২০০১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত শুধু মার খেয়েছি। কারণ বাংলাদেশকে আমরা একটা জায়গায় নিতে চাই। আমাদের সেই অর্জনটা হয়ে গেছে। কাজেই আজকের বাংলাদেশের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেব না।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, এবার যে হাত দিয়ে মারবে সেই হাত ভেঙে দিতে হবে। যে হাত দিয়ে মানুষকে আগুন দিতে আসবে সেই হাত আগুনে পোড়াতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) দুপুরে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর সঙ্গে সব সহযোগী সংগঠনের যৌথসভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। গণভবন থেকে যৌথসভায় যুক্ত হন তিনি।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ এমন একটা রাজনৈতিক দল। যে দল মানুষের অধিকার আদায়ের জন্যই জন্মগ্রহণ করেছে এদেশের মাটি-মানুষ থেকে। সেকারণেই এদেশের মাটি-মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা আছে। কখনো কথায় কথায় ধর্না দিয়ে তারা সফল হয়েছিল ২০০১ সালে। এখনো ভাবছে সেটাই পারবে।

তিনি বলেন, আমরাও জানি কি করতে হবে। আর বারবার আঘাত দেবে আর আমরা চুপ করে সহ্য করবো? ২০২২ সাল পর্যন্ত সহ্য করেছি কেন? বাংলাদেশকে একটা জায়গায় আমরা নিতে চাই সেই জন্য। আজকে আমাদের সেই অর্জনটা হয়ে গেছে। কাজেই আজকের বাংলাদেশের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেব না।

বিজ্ঞাপন

এসময় তিনি কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আমার কথা একদম স্পষ্ট; সেই ১৯৭৫ থেকে শুধু ২১ বছর মার খেয়েছি। ২০০১ থেকে ২০০৮ অবধি শুধু মারই খেয়েছি। এবার যে হাত দিয়ে মারতে আসবে সে হাত ভেঙে দিতে হবে। যে হাত দিয়ে গাড়িতে আগুন দিবে, সেই হাত ওই আগুনে পোড়াতে হবে। পোড়ার যন্ত্রণাটা তাদের বুঝিয়ে দিতে হবে। এখনো পোড়া মানুষগুলি দেখলে দুঃখে চোখে পানি আসে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, প্রত্যেকটা এলাকায় মাঠে থাকতে হবে মানুষের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য। আর ওই লুটেরার দল আমাদের যতগুলি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে দোকানদার আছে, সবাইকে বলতে হবে। তারা কি শান্তিতে ব্যবসা করতে চায়? না আরো এই অশান্তিকে জায়গা দিতে চায়? তাদেরও সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং এদের এই জ্বালাও-পোড়াও হত্যা খুন চোরাকারবারি মানি লন্ডারিংকারী; এদের বিরুদ্ধে সকলের প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের শান্তিকে বিনষ্ট করতে দেব না আমরা। আর যে সমস্ত মিডিয়া এখন খুব ধর্না দিচ্ছে, এতো টেলিভিশন এতো আমারই দেওয়া। আমি যদি উন্মুক্ত করে না দিতাম এতো মানুষের চাকরি হত না, ব্যবসাও করতে পারত না। আর আওয়ামী লীগ সরকার আমলে সেই বিএনপির ব্যবসায়ীই হোক, সে যেই হোক সকলেই শান্তিতে ব্যবসা করছেন। হাওয়া ভবন খুলি নাই, খাওয়া ভবন খুলি নাই বরং ব্যবসা করার সুযোগ করে দিয়েছি। আবার ওই হাওয়া ভবন আসলে তখন আরেকটা নাম দেবে। তারা আবার ওই রকম একেবারে চুষেচুষে খাবে, এটা মাথায় রাখতে হবে। তখন আর ব্যবসা করতে হবে না।

১০০টা অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি করে দেওয়াসহ যুব তরুণ সমাজের ব্যবসা বাণিজ্যের সুযোগ সৃষ্টি করা করারও নানা উদ্যোগ বাস্তবায়নের কথা তুলে ধরেন। একইসঙ্গে মুজিববর্ষের অঙ্গীকারে ভূমিহীন-গৃহহীন মানুষের জমিসহ ঘর তৈরি কর দেওয়া হচ্ছে সেকথাও তুলে ধরেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশকে ডিজিটাল করলাম আর তারাই প্রাধান্য নিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করে বেড়ায় জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের নেতাকর্মীরা যারা বিএনপির হাতে মার খেয়েছেন তারা বসে থাকলে তো চলবে না। ওই অত্যাচারের কাহিনীগুলো বলতে হবে মানুষকে, জানাতে হবে, ওরা কি করে। আর বসে বসে মার খাওয়া না, এটাও ঠিক। আর মার খাওয়া না। আর ওই দুর্নীতিবাজ সন্ত্রাস, অগ্নিসসন্ত্রাসীদের আর এই দেশে ক্ষমতায় আসতে দেওয়া যাবে না। স্বাধীনতাবিরোধী আসতে দেওয়া যাবে না, পরিষ্কার কথা আমার।

গণতন্ত্রের কথা ওদের মুখে মানায় না। ওরা কিসের গণতন্ত্র দেয়। জিয়াউর রহমানের গণতন্ত্রে তো সারারাত কারফিউ ছিল, কারফিউ গণতন্ত্র দিয়ে গেছে। আর খালেদা জিয়ার ছিল দুর্নীতিরতন্ত্র। সেটাই সে করে গেছে। মানুষ খুন করার তন্ত্র। আমাদের সেই স্লোগান ভুলে গেলে চলবে না, খালেদা জিয়ার দুই গুণ দুর্নীতির আর মানুষ খুন। এটাই তারা জানে। এগুলি সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, প্রত্যেক এলাকায় এলাকায় তৈরি থাকতে হবে। এলাকাবাসীর ওপর যাতে কোনো রকম কেউ অত্যাচার করতে না পারে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

সম্প্রতি বিআরটিসি’র বাস পোড়ানোর ঘটনাকে বিএনপির টেস্ট কেস বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, বিএনপি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিআরটিসি বন্ধ করে দেবে। কারণ এটা মানুষের সেবা করে। সাধারণ মানুষ চলে। আমরা নতুন এক হাজার বাস নিয়েছি। সেখান থেকে সাত আটশ বাস তারা পুড়িয়ে দিয়েছে। এবার যেন আর কোন বাস পোড়াতে না পারে। যেটা পোড়াতে যাবে, এখন তো সবার হাতে ক্যামেরা। ভিডিও করতে হবে এবং যে হাত দিয়ে পোড়াবে সেই হাতটাই আগে ওই আগুনে ধরে পুড়িয়ে দিতে হবে। আর বসে বসে মার খাওয়ার সময় নাই। বাংলাদেশকে নিয়ে আর খেলতে দেব না।

খোলামেলা বক্তব্য রাখার পর হাস্যরস করে শেখ হাসিনা বলেন, আজকে মিডিয়া ভাল করে লেখুক, লেখার খোরাকটা তো লাগবে। খোরাক দিয়ে দিলাম।

আমি সব নেতাকর্মীকে বলছি, সবাই প্রস্তুত থাকেন। ভোটের আগে অনেক যন্ত্রণা দিয়েছে তারা। কাজেই আমরা অনেক সহ্য করেছি। আবার যদি কৃষক শ্রমিক মেহনতি মানুষের গায়ে হাত দেয়, তাদের আর ক্ষমা নাই।

শেখ হাসিনা বলেন, আমি আশা করি আমার দল ঐকব্যদ্ধ থাকবে। আমরা ভোটে বিশ্বাস করি। জনগণ ভোট দিলে আছি না দিলে নাই। ইনশাআল্লাহ জনগনের ভোটের অধিকার আমরাই অর্জন করেছি, আমরাই জনগণের অধিকার জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিয়েছি। কাজেই জনগণই সেই অধিকার সংরক্ষণ করবে। আর যেসব দেশ আমাদের দেশের গণতন্ত্র নিয়ে কথা বলে, সে সমস্ত দেশের অবস্থা তো আমরা জানি। প্রতিদিন মানুষ খুন হয়, ভোটের সময় ক্যাপ্টেন হিলেও আক্রমণ হয়। বাংলাদেশের গণতন্ত্র, গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকবে, বাংলাদেশের উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, কামরুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, হাছান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, মির্জা আজম, এসএম কামাল হোসেন, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ফজলে নূর তাপস, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তরের সভাপতি আবু আহমেদ মান্নাফী, উত্তরের সাধারণ সম্পাদক এসএম মান্নাক কচি প্রমুখ।

সারাবাংলা/এনআর/এনইউ

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন