বিজ্ঞাপন

বেসামাল বিএনপি, আতংকিত দেশবাসী

December 9, 2022 | 4:44 pm

মো. আসাদ উল্লাহ তুষার

আবারো কিছু বিদেশী অপশক্তির মদদে ঝিমিয়ে পরা পথভ্রষ্ট নেতাকর্মীদের চাঙা করতে ও একইসাথে দেশকে অস্থিতিশীল করতে মাঠ গরমের পায়তারা শুরু করেছে বিএনপি। এবার একেবারে দিন তারিখ ঠিক করে দিয়েছে। নানা সময়ে দলের কর্মীদের পাশাপাশি দেশবাসীর কাছে মুখরোচক ও হাস্যকর উত্তেজিত বক্তব্য দিয়ে খোদ নিজ দলেরই নেতাকর্মীদের রোসানলে পরে মান বাচাতে এবার আরো উদ্ভট বক্তব্য হাজির করেছে রাজনৈতিক ময়দানে। বিদেশে পলাতক যাবজ্জীবন কারাদন্ডে দন্ডিত এক দুর্নীতিবাজ নেতার নির্দেশে বৈশ্বিক একটি নাজুক পরিস্থিতি কাজে লাগিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক মহলে কেউ কেউ বলেন এখানে বিদেশি কিছু অপশক্তি ও তাদের এজেন্সি থেকে নেয়া টাকা হালাল করতে বিএনপি নেতাদের দিয়ে এই স্টান্ডবাজি করাচ্ছেন একুশে আগস্ট ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা মামলায় যাবজ্জীবন দন্ডপ্রাপ্ত ও একাধিক দুর্নীতির মামলায় দন্ডিত এক পলাতক আসামি। এই হুংকারের ফলাফল আগের মতই হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। দেশের মানুষের মধ্যে একটা অনাহুত আতংক সৃষ্টির পায়তারা করছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে জাতীয় নির্বাচনের এক বছর আগে কেনো এই হুংকার! কী তাদের উদ্দেশ্য? কেউ কেউ বলেন দলকে উজ্জীবিত বা উত্তেজিত করা বা কর্মীদের হারানো মনোবল ফিরিয়ে আনা। পত্রপত্রিকায় তেমন খবরই বেরিয়েছে। কারণ বিএনপি বেশি উত্তেজিত হলে দেশের কী অবস্থা হয় অতিতে দেশবাসী দেখেছে! তাদের এই উজ্জীবিত বা উত্তেজিত কথা বার্তায় দেশবাসী আতংকিত। ক্ষমতা হারিয়ে বেসামাল বিএনপি।

বিজ্ঞাপন

কিছুদিন হলো দেশব্যাপী বড় বড় সমাবেশের ডাক দিয়েছে বিএনপি। তারা খারাপ উদ্দেশ্য নিয়ে বিভাগীয় শহরগুলোতে জনসভা শুরু করেছিলো। উদ্দেশ্য ছিল সরকার তাদের সমাবেশে বাধা সৃষ্টি করবে বা অতীতে তারা যেমন বোমাবাজি, গ্রেনেড হামলা চালিয়েছিল সেরকম কিছু একটা করবে তাতে একটা বিশৃংখল পরিবেশ তৈরি হবে এবং সরকার ঝামেলায় পড়বে। এটাকে কাজে লাগিয়ে তাদের মনোবাসনা পুরন করবে! কিন্তু সরকার তাদের সেই কু মনোবাসনা পূরণ হতে দেয় নাই। সব বিভাগেই শান্তিপূর্ণভাবে সভা-সমাবেশ করছে। কোনো হামলা মামলার কারবার নাই। তাই তারা লাগামহীন বক্তব্য দিয়ে বেরাচ্ছে পত্রপত্রিকার ভাষায় দলকে উজ্জীবিত করতে। অবশ্য সেটা করতে গিয়ে কিছু কিছু বেশী উত্তেজিত নেতা বেসামাল হয়ে যাচ্ছে, লাগামহীন হাস্যকর সব বক্তব্য দিয়ে বেরাচ্ছেন। তারা ২০১৮ সালের নির্বাচনে গোহারা হারার পর এক উদ্ভট, অসত্য, মিথ্যাচারে ভরপুর এক বক্তব্য নিয়ে হাজির হয়েছে। পলাতক নেতার মনোনয়ন বাণিজ্য ও প্রতি আসনে টাকা খেয়ে একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়ায় নির্বাচনের আগেই পরাজয় নিশ্চিত হয়েছিল। তদুপরি তাদের অতীতের হাওয়া ভবনের দুঃশাসনের ভয়াবহতার কথা এবং অগ্নিসন্ত্রাস ও জালাও পোড়াও এর কারণে মানুষ অনেক আগেই যে বিএনপি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল তা তারা বুঝতে পারেনি। সেই পরাজয়ের গ্লানিকে ঢাকতে এবং নিজেদের সীমাহীন ব্যর্থতাকে আড়াল করে কর্মীদের রোষানল থেকে বাঁচতে দিনের ভোট রাতে হয়েছে তত্ত্ব মাঠে ছাড়ে। অথচ সেই নির্বাচনে বিএনপি জোটের দুই শীর্ষ নেতা কী বলেছিলেন দেখা যাক।

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনের দিন খুবই উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে গণমাধ্যমের কাছে নিজেদের অনুভুতি তুলে ধরেছিলেন বিএনপি ও তাদের জোটের নেতারা। ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ দেখে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন বিএনপি-জামায়াত জোটের প্রধান নেতা ও সমন্বয়ক ড. কামাল হোসেন সেদিনের বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল এর লাইভ সংবাদে নিজের ভোট দেওয়ার পর বলেছেন, 'আমি উৎসাহিত হচ্ছি এতো লোক দেখে, এই শীতের সকালেও শীত উপেক্ষা করে অনেক মানুষ ভোট দিতে আসায় আমি খুব খুশি। যেখানে ভোট দিয়েছি, সেখানে ভোট সুষ্ঠু হচ্ছে। বিকাল ৫টার সময় প্রচারিত সকল টেলিভিশনের সংবাদে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, 'কয়েকজন বিএনপি প্রার্থীর ভোট বর্জনের ঘটনা তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, বিএনপি ভোট বর্জন করেনি।' তারপর ভোটের ফলাফল আসতে থাকায় এবং পরাজয় নিশ্চিত জেনে সন্ধ্যা বেলায় সুর পাল্টে যায় তাদের।

বিজ্ঞাপন

তারপর ফলাফল মেনে না নেওয়ার নাটক, শপথ না নেয়ার নাটক, বিশেষ করে ফখরুল সাহেবকে শপথ না নেওয়ার ব্যাপারে লন্ডনি নেতার অনৈতিক চাপ। এ সবকিছু উপেক্ষা করে বিএনপি ও জোটের নির্বাচিত ছয় সাতজন এমপি শপথ নিলেন এবং দলও অনুমোদন দিলেন। পরে তাদের ভাগের একজন মহিলা এমপিও নিলেন। সেই থেকে আজ চার বছর যাবত সংসদে বিএনপির সংসদ সদস্যরা খুবই শক্ত ভুমিকা পালন করে আসছে। সংসদের সব কার্যক্রমে জোড়ালোভাবে অংশ নিচ্ছেন এবং দেশ বিদেশের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিয়মিত অংশ গ্রহণ করছেন। আর মিডিয়ায়, পত্র পত্রিকায়, টক শো-তে প্রতিদিন নিশিরাতের সরকার বলে মিথ্যাচার করছেন। এখানেও নেতারা তাদের নিজেদের নিদারুন ব্যর্থতা ঢাকতে ও কর্মীদের উজ্জবীত করতে লাগামহীন মিথ্যাচার করে বেড়াচ্ছেন। পুরো চার সাড়ে চার বছর এমপিগিরি করার পর হয়তো মেয়াদ শেষের আগে পলাতক নেতার বুদ্ধিতে সংসদ থেকে পদত্যাগ নাটক করলেও অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না। এসব ধারাবাহিক মিথ্যাচার করেও যখন কোনভাবেই মাঠ গরম করতে পারছে না বা দেশের মানুষ কোনভাবেই সাড়া দিচ্ছে না তখন জনসভার নামে সরকার পতনের ডেটলাইন দিয়ে হাস্যরসের সৃষ্টি করেছে। ডিসেম্বরের দশ তারিখের পর থেকে নাকি তাদের দলের দুর্নীতিবাজ নেত্রীর কথায় দেশ চলবে। পাগলে কিনা বলে ছাগলে কিনা খায়। কে বলেছে এই জোকারি কথা! আমান উল্লাহ আমান, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা। এমন উপদেষ্টার কারণেই আজ বিএনপির এই নাজুক বেসামাল অবস্থা। কে এই আমান? আমান উল্লাহ আমান এরশাদ বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বড় ছাত্রনেতা, ডাকসু ভিপি। স্বৈরশাসক এরশাদ পতনের পর অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবে বিএনপি ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে এই আমানউল্লাহ আমান প্রভাবশালী এমপি হিসেবে নিজেকে হাজির করেন। অবশ্য তার আগেই এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় যে সমস্ত আমলা, ব্যবসায়ীকে সব দল মিলে কালো তালিকায় ভুক্ত করা হয়েছিল যে, এদেরকে কোনো দলে নেয়া যাবে না তখনই আমানউল্লাহ আমান কালো তালিকাভুক্ত এইসব ব্যবসায়ী এবং আমলাদের বিপুল অর্থের বিনিময়ে সেই সময়ে প্রার্থীতা সংকটে থাকা বিএনপি থেকে মনোনয়নের ব্যবস্থা করে দেন। যাদের প্রত্যেককেই আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চেয়ে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল। আমানউল্লাহ আমানের দুর্নীতির শুরুটা সেখান থেকে। তারপরে বিএনপির ক্ষমতায় থাকার সময় অবৈধভাবে শত শত কোটি টাকার মালিক বনে যায় এক সময়ের অর্থকষ্টে থাকা আমান। একজন এমপি হিসেবে আমান যে পরিমাণ ক্ষমতার অপব্যবহার, চাঁদাবাজি করে, দুর্নীতি করে অঢেল টাকা কামাই করেছে তা এক অবিশ্বাস্য ব্যাপার।

এই আমান উল্লাহ আমান ছিয়ানব্বই সালের পনেরই ফেব্রুয়ারির ভুয়া নির্বাচনের মাধ্যমে অল্প কয়দিনের জন্য প্রতিমন্ত্রী হলেও তত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন চলাকালে সচিবালয়ের লিফটম্যানের হাতে লাঞ্ছিত হয়ে ক্ষমতা ছাড়তে হয়েছিল। সেই সংসদ এক দেড় মাসের বেশিও টেকে নাই। শোনা যায় বিএনপি ক্ষমতা হারানোর পর নিজের অবৈধ সম্পদ রক্ষার্থে নিজেকে বাঁচাতে আন্দোলন থেকে নিজেকে অনেকদিন দূরে সরে রেখেছিল। এখন আবার দলের নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করার নামে এসব কাল্পনিক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। বিদেশে পলাতক দণ্ডিত নিজ দলের শীর্ষ নেতাকে অনেক অর্থকড়ি দিয়ে উপদেষ্টার পাশাপাশি বিএনপির মহানগর উত্তরের শীর্ষ পদ ভাগিয়ে আমানউল্লাহ আমান নিজেকে আবার বিএনপি রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলার জন্য ইদানিংকালে বেশ হাকডাক শুরু করেছে। যতটা না সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে চাঙ্গা করার নিয়ত থেকে তার চেয়ে বেশি দলে নিজের অবস্থানকে শক্ত করা, তারচেয়ে হয়তো নিজের অবৈধ সম্পদ ও প্রতিপত্তি রক্ষার্থে এরকম হাস্যকর আন্দোলনের ডাক দিতে পারেন বলে কেউ কেউ মনে করেন। তাই এখন আমান বলেছেন ডিসেম্বরের দশ তারিখ থেকে তাদের নেত্রী খালেদা জিয়ার কথায় দেশ চলবে। খালেদা জিয়া যেখানে দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাগারে আছেন এবং সরকারের কৃপায় বর্তমানে নিজের বাসায় অবস্থান করছেন, তার কথায় কিভাবে দেশ চলবে? তিনি কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রমে এখনো পর্যন্ত অংশগ্রহণের অনুমতি পান নাই। আরেক নেতা দন্ডিত হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আসামি হিসেবে বিদেশে অবস্থান করছেন। যেখানে বিএনপির বিভিন্ন নেতাদের সরকারের সাথে আতাত করে চলার অভিযোগ আছে। যেখানে প্রবলভাবে দলের মধ্যেই খোদ আমানউল্লাহ আমানকেই দলের অধিকাংশ নেতা সরকারের এজেন্ট বলে মনে করে সেখানে আমানউল্লাহ আমানের এই হাকডাক বিনোদনের খোরাক ছাড়া আর কিছু না। এই হাকডাকে দলের নেতারা যদি উজ্জীবিত হয় তাহলে বলার কিছুই নাই। কিন্ত তাদের এসব উত্তেজিত বক্তব্যে দেশবাসী চিন্তিত, শংকিত। কর্মিদের উজ্জীবিত করার নামে দেয়া এই বক্তব্যের আড়ালে তাদের বিরাট কোন হীন উদ্দেশ্য থাকা অসম্ভব না। কারন ইতিমধ্যেই তারা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পরিবর্তে তাদের দলিয় অফিসের সামনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাস্ত ভিআইপি রাস্তায় সমাবেশ করার জন্য গো ধরেছে। সব বিভাগে কোন ময়দান বা খোলা পার্কে সমাবেশ করায় কোন অসুবিধা হলো না,ঢাকায় তাদের ব্যাস্ত রাস্তায় সমাবেশ করতে দিতে হবে! আবার সেই রাস্তায় সমাবেশের অনুমতি না নিয়ে সমাবেশের তিন চার দিন আগে থেকেই লোক বসিয়ে রেখে একটি ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করতে চেয়েছিল। পুলিশ বুঝতে পেরে তাতক্ষনাত ভুন্ডুল করে দিয়েছে। বিএনপির আসল উদ্দেশ্য ধরা পরে গেছে। তাই বিএনপি বিগত কিছুদিন যাবত যেসব কার্জক্রমের মহরা দিচ্ছে তাতে দেশবাসীর শংকিত না হওয়া ছাড়া আর উপায় কি?

বিজ্ঞাপন

লেখকঃ সদস্য, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ

সারাবাংলা/এজেডএস

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন