বিজ্ঞাপন

তলবে হাইকোর্টে হাজির স্বাস্থ্যের ডিজি

January 24, 2023 | 12:58 pm

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: দেশের কারাগারগুলোতে শূন্য পদে ৪৮ জন চিকিৎসক নিয়োগের নির্দেশ পালন না করায় তলব আদেশে হাইকোর্টে হাজির হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে তিনি হাজির হন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. জে আর খান রবিন।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে আইনজীবী মো. জে আর খান রবিন বলেন, তলব আদেশে আজ স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) উপস্থিত হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেছন। একইসঙ্গে তিনি আদালতকে জানিয়েছেন যে, আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন কারাগারে ১৪১ জন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৩৬ জন চিকিৎসক যোগদান করেছে।

এরপর আদালত তিন মাসের মধ্যে কারাগারে চিকিৎসক নিয়োগে নীতিমালা তৈরির বিষয়ে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

বিজ্ঞাপন

এর আগে গত ১৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট তাকে তলব করেছিলেন।

ওইদিন আদালতে কারা অধিদফতরের পক্ষে ছিলেন- আইনজীবী মো. শফিকুল ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

রিটকারীর পক্ষে ছিলেন- আইনজীবী জে আর খান রবিন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন- ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

এর আগে, ১৩ ডিসেম্বর একটি প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করা হয়।

বিজ্ঞাপন

এরপর ওই দিন আদালত দেশের কারাগারগুলোতে শূন্য থাকা ৪৮ পদে চিকিৎসক নিয়োগের নির্দেশ দেন। স্বাস্থ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব ও কারা কর্তৃপক্ষকে আগামী ৭ জানুয়ারির মধ্যে এই আদেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়।

তারও আগে ১১ ডিসেম্বরের কারাগারগুলোতে শূন্যপদে ৪৮ জন চিকিৎসক নিয়োগের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। গত ১৫ নভেম্বর হাইকোর্ট ওই নির্দেশ দিয়েছিলেন।

গত ১ নভেম্বর কারাবন্দিদের জন্য দেশের কারা হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক নিয়োগের পর তাদের প্রত্যাহার করে নেওয়ার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন হাইকোর্ট।

ওইদিন শুনানিতে চিকিৎসক নিয়োগ দিয়ে আবার তাদের প্রত্যাহার করে নেওয়ার বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন রিটকারী আইনজীবী উপস্থাপন করলে আদালত ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, কারা বন্দিদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতে দেশের কারাগারগুলোতে শূন্য পদে দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগের নির্দেশনা চেয়ে ২০১৯ সালে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন আইনজীবী জে আর খান রবিন।

পরে ২০১৯ সালের ২৩ জুন ওই রিটের শুনানি নিয়ে আদালত সারাদেশের সব কারাগারে বন্দিদের ধারণক্ষমতা, বন্দি ও চিকিৎসকের সংখ্যা এবং চিকিৎসকের শূন্যপদের তালিকা দাখিলের নির্দেশ দিয়ে রুল জারি করেন।

আদালতের ওই নির্দেশ অনুসারে ২০১৯ সালের নভেম্বরে কারা মহাপরিদর্শক একেএম মোস্তফা কামাল পাশার পক্ষে ডেপুটি জেলার মুমিনুল ইসলাম একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন।

হাইকোর্টে দাখিল করা প্রতিবেদন বলা হয়, দেশের ৬৮টি কারাগারে ১৪১টি পদের বিপরীতে মাত্র ১০ জন চিকিৎসক রয়েছে। ওই প্রতিবেদন দেখে হাইকোর্ট কারাগারগুলোর শূন্য পদে চিকিৎসক নিয়োগের নির্দেশ দেন।

তারই ধারাবাহিকতায় কারা কর্তৃপক্ষ আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে জানায়, ১৪১টি চিকিৎসকের পদের মধ্যে ১১২টি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তখন আদালত শূন্য থাকা বাকি পদগুলোতে দ্রুত সময়ের মধ্যে নিয়োগের নির্দেশ দেন। কিন্তু এর মধ্যে নিয়োগ পাওয়া চিকিৎসকদের প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ পায়।

এরপর চিকিৎসক নিয়োগের পর তা প্রত্যাহার করে নেওয়ার কারণ জানতে চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন আইনজীবী জেআর খান রবিন। ওই আবেদনের ওপর আজ হাইকোর্টে শুনানি হয়।

শুনানি শেষে কারা হাসপাতালের শূন্য পদে চিকিৎসক নিয়োগ দিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কারা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রতি নির্দেশ দেন আদালত।

বর্তমানে দেশে মোট ৬৮টি কারাগার রয়েছে। যার মধ্যে গাজীপুরের কাশিমপুরে একটি মহিলা কারাগার রয়েছে। এসব কারাগারে বন্দির তুলনায় চিকিৎসকের সঙ্কট রয়েছে।

সারাবাংলা/কেআইএফ/ইআ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন