বিজ্ঞাপন

এমপিওভুক্ত ৬৬ জনকে ৪র্থ গণবিজ্ঞপ্তিতে সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ

January 24, 2023 | 6:54 pm

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ৬৬ জন নিবন্ধনধারী শিক্ষককে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তিতে আবেদনের সুযোগ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) ৬৬ জন নিবন্ধনধারী শিক্ষকের দায়ের করা এক আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

বিজ্ঞাপন

এর আগে দেশের বিভিন্ন জেলার এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নিবন্ধনধারী ৬৬ জন শিক্ষক চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তিতে বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে আবেদনের সুযোগ চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।

গত ১৬ জানুয়ারি ওই রিটের শুনানি নিয়ে বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে তাদের আবেদনের সুযোগ বাতিল করা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে হাইকোর্ট।

বিজ্ঞাপন

চার সপ্তাহের মধ্যে শিক্ষা সচিব (মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ), কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব, এনটিআরসিএর চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়।

এরপর চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তিতে তাদের আবেদনের সুযোগ প্রদানের নির্দেশনা চেয়ে আদালতে আরেকটি আবেদন দাখিল করেন রিটকারীরা। আজ শুনানি শেষে রিটকারীদের দরখাস্ত গ্রহণ করে তাদের আবেদনের সুযোগ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বিজ্ঞাপন

আদেশের পর রিটকারীদের আইনজীবী মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া বলেন, ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় 'বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে অনুসরণীয় পদ্ধতি' বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করে।

উক্ত পরিপত্রের ৭.০. নং ক্রমিকে বলা হয়েছে, 'কর্মরত কোন শিক্ষক যদি অন্য কোন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পেতে আবেদন করেন তবে তাকেও অপরাপর আবেদনকারীর ন্যায় একইভাবে মেধাক্রমের ভিত্তিতে নিয়োগের জন্য বিবেচনা করা হবে' এবং বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮ (২৩ নভেম্বর ২০২০ পর্যন্ত সংশোধিত)-এর ধারা ১২ এবং বেসরকারি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮ (২৩ নভেম্বর ২০২০ পর্যন্ত সংশোধিত)-এর ধারা ২৩.১ এ উল্লেখ আছে যে, 'এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীগণ যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে সমপদে বা উচ্চতর পদে নিয়োগের জন্য আবেদন করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে পূর্বের প্রতিষ্ঠান হতে ছাড়পত্র ও দায়মুক্তিপ্রাপ্তি সাপেক্ষে নতুন প্রতিষ্ঠানে এমপিও প্রাপ্য হবে'।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু ২০২২ সালের ১১ নভেম্বর এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অপর একটি পরিপত্র জারি করে। উক্ত পরিপত্রের মাধ্যমে ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর জারি করা পরিপত্রের ৭.০. নং ক্রমিক সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করা হয়। এরপর ২০২২ সালের ২১ ডিসেম্বর এনটিআরসিএ চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে। ওই গণবিজ্ঞপ্তির ১২নং শর্তে ২০২২ সালের ১৪ নভেম্বর জারি করা পরিপত্রের বিষয়টি উল্লেখ করে নিবন্ধনধারী শিক্ষকদের অন্য প্রতিষ্ঠানে বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে আবেদনের সুযোগ বাতিল করা হয়।

এ কারণে এনটিআরসিএর চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০২২ সালের ১৪ নভেম্বরের পরিপত্রের ওপর সংক্ষুব্ধ হয়ে নিবন্ধনধারী মো. মফিজুর রহমান, মোসা. পপি আক্তার, মো. আব্দুল বারেক, মো. সোহেল রানা, মো. নেয়ামত শেখ, মো. আনিসুর রহমান, মো. আলমগীর হোসেনসহ দেশের বিভিন্ন জেলার ৬৬ জন শিক্ষক হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।

ওই রিটের শুনানি নিয়ে গত ১৬ জানুয়ারি হাইকোর্ট রুল জারি করেন। এরপর রিটকারীরা চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তিতে আবেদনের সুযোগ চেয়ে একই আদালতে আরেকটি আবেদন দাখিল করেন। আজ আবেদনের শুনানি শেষে আদালত রিটকারীদের এনটিআরসিএর চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তিতে আবেদনের সুযোগ প্রদানের নির্দেশ দেন।

আইনজীবী মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া আরও বলেন, আমি আশা করি আজকের আদেশের ফলে এনটিআরসিএর চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তিতে রিটকারীদের বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে আবেদন করার জন্য কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

সারাবাংলা/কেআইএফ/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন