বিজ্ঞাপন

‘জনগণের জন্য কাজ করতে এসেছি, এটাই আমার বড় শক্তি’

January 24, 2023 | 9:46 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মৃত্যু পরোয়া করি না, করবও না।  বাবা-মা-ভাই সব হারিয়ে শুধু বাংলার জনগণকে দিতে এসেছি। জনগণের জন্য কাজ করতে এসেছি। এটাই আমার বড় শক্তি। জনগণেই আমার শক্তি।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস এসোসিয়েশনের নৈশভোজে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস এসোসিয়েশনের সভাপতি নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব মাহবুব হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া। এছাড়া বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস এসোসিয়েশনের মহাসচিব হিসেবে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এস এম আলম শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসের সেবাসমূহের উপর একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের টানা মেয়াদে বেতনভাতা বৃদ্ধির করার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, যারা কাজ করেন তারা যেন ভালোভাবে থাকতে পারেন। প্রতিনিয়ত নিজের সংসারের দুশ্চিন্তায় থাকতে না হয়। সেজন্য দ্বিতীয়বার সরকারে এসেই উদ্যোগ নিয়েছিলাম। বেতনভাতা ১২৩ ভাগ বৃদ্ধি করে দেই। তাছাড়া গাড়ি, ফ্ল্যাট কেনার ঋণের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। সব ধরনের সুযোগ সুবিধা দিয়েছি, এ কারণে আমরা কাজ চাই। জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করবেন।

সারা বিশ্বের মূল্যস্ফীতির ধাক্কা এখন সকলের জীবনেই লাগছে তাই সবাইকে মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমাদের অর্থনৈতিক গতিশীলতা আছে কিন্তু উন্নত দেশগুলোর মতো আমরা যেন হোঁচট না খাই। সেজন্য আগে থেকে সাবধানে পথচলা। সেই ব্যবস্থাটা আমরা নিচ্ছি।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, কৃচ্ছতা সাধন করে আমাদের পরিমিতিবোধ থেকে সাশ্রয়ী হয়ে চলতে হবে। কখনো যেন আর বাংলাদেশ কোনো দুর্যোগে না পড়ে, সেদিকে লক্ষ্য রেখে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

সরকারপ্রধান মাঠ প্রশাসনের জন্য পদায়ন নীতিমালা থেকে দেশে-বিদেশে উচ্চতর প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির নানামুখী পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করার কথাও তুলে ধরেন।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জনগণের পাশে থেকে জনগণের কাজ করা আর জনগণের মুখে একটু হাসি ফোটালে সেই কাজের স্বীকৃতিটা; অনুভূতিটা যেন সকলের মনে থাকে। কারণ আমি কিছু নিতে আসিনি। বাবা-মা-ভাই সব হারিয়ে আমি শুধু একটা কাজই করতে এসেছি, বাংলার জনগণকে দিতে এসেছি। তাদের জীবনমান যেন উন্নত হয় এটাই আমার একমাত্র লক্ষ্য।

২৪ জানুয়ারি ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে ১৯৮৮ সালে চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে তার জনসভায় হামলার ঘটনাও স্মরণ করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি ট্রাকের উপর দাঁড়িয়ে ছিলাম। আমার হাতে মাইক ছিল। সরাসরি লক্ষ্য করেও কিন্তু আমাকে গুলি করেছে। সেখানে আমাদের প্রায় ৩০ জন নেতাকর্মী মৃত্যুবরণ করে। আমি বেঁচে গিয়েছিলাম সেটাও অলৌকিকভাবে। প্রথম গুলিটা যখন করা হয়, তখনই আমাদের এক কর্মী সেই ট্রাক বেয়ে উঠে আসে, গুলিটা তার বুকে লাগে, সে পড়ে যায়। দ্বিতীয়বার যখন গুলি করতে যায়, সাজেদা চৌধুরী আমার পাশে আমাকে জড়িয়ে ধরে বলে এই নল দেখা যায়, তোর দিকে গুলি করছে, সরে আয়। আমি বললাম সরব না। আমি এখান থেকে পুলিশকে বলছিলাম তোমরা গুলি বন্ধ করো। কিন্তু সেই সময় পুলিশের পাশেই আরেকজন পুলিশ সেই বন্দুকের বাটটা টিপে ধরে, গুলিটা ঠিক আমার মাথার উপর দিয়ে চলে যায়। ওই লোকটা যদি না ধরত হয়ত সেইদিন সেখানে আমিও শেষ হতে পারতাম।

শেখ হাসিনা বলেন, যদিও এরকম বহুবারই আমাকে মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবে মৃত্যু ভয় বা পরোয়া আমি করি না। করবও না। আমি জনগণের জন্য কাজ করতে এসেছি। এটাই আমার বড় শক্তি। জনগণেই আমার শক্তি।

তিনি বলেন, এরকম অনেক ঘটনার মধ্য দিয়েই এ পর্যন্ত এসেছি। আগামী দিনে বাংলাদেশ আরও উন্নত সমৃদ্ধ হবে। স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। বাংলাদেশের মানুষ সেই সুখী সমৃদ্ধ জীবনযাপন করবে, এটাই আমাদের লক্ষ্য। আশা করি এই লক্ষ্যটা আপনারাও বাস্তবায়ন করে যাবেন। এদেশের মানুষ যেন উন্নত জীবন পায়। সুন্দর জীবন পায়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের স্বপ্ন যেন সফল হয়।

সারাবাংলা/এনআর/আইই

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন