বিজ্ঞাপন

‘আমলাতন্ত্রিক ভাব নয়, জনগণের সুখ-দুঃখের সাথী হতে পেরেছেন’

January 24, 2023 | 10:47 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন,যখন যে কাজ দিয়েছি আপনারা অত্যন্ত চমৎকারভাবে সম্পন্ন করেছেন এবং করে যাচ্ছেন। যে জিনিসটা আমাদের আকাঙ্ক্ষা ছিল একটা আমলাতন্ত্রিক ভাব নিয়ে থাকা না, জনগণের সঙ্গে মিশে যাওয়া। জনগণের সুখ দুঃখের সাথী হওয়া আপনারা কিন্তু সেটি হতে পেরেছেন।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের নৈশভোজে প্রধান অতিথি হিসাবে তিনি একথা বলেন।

বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব মাহবুব হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস এসোসিয়েশনের মহাসচিব হিসাবে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এস এম আলম শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানের শুরতে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসের উপর সেবার উপর একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়।

ধারাবাহিকভাবে সরকারে থাকতে পারার কারণেই দেশের উন্নয়ন করতে পারার প্রেক্ষাপটও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিজ্ঞাপন

আমাদের সামনে এখন যে লক্ষ্যটা স্থির করেছি ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত দেশ হিসাবে গড়ে তুলতে চাই। আমাদের মাথাপিছু আয় বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে ১২হাজার মার্কিন ডলার অর্জন করতে পারি সেটাই আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হতে হবে— বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

করোনাকালীন আমাদের মাঠ প্রশাসন আন্তরিতার সঙ্গে দায়িত্বপালন করেছে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়েছেন। সে জন্য তিনি আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান

বিজ্ঞাপন

‘যেটি আমরা চেয়েছিলাম। আমি যখন সরকার গঠন করেছি। সরকার গঠন করে এটিই বলেছি আমি জনগণের সেবক। যেটি আমার বাবাও বলেছিলেন। সেই তারই কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে বলেছি আমরা জনগণের সেবক। ক্ষমতাটা উপভোগ করতে আসিনি। এসেছি দিতে। মানুষের জন্য কিছু করতে’ বলেও জানান তিনি।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘আমরা তো স্বল্প সময় নিয়ে আসি। কাজেই আমাদের হাতে সময় কম। আমাদের কাজ বেশি করতে হবে। যে কাজগুলো আমি নেব। সেটি করার দায়িত্বটা তো এই মাঠ প্রশাসনের সকলের। আমি দেখেছি যখনি যে কাজ দিয়েছি আপনারা অত্যন্ত চমৎকারভাবে সম্পন্ন করেছেন এবং করে যাচ্ছেন।’

বিজ্ঞাপন

‘এখন হয়ত অনেকেই নেই। অবসর নিয়ে চলে গেছেন। কিন্তু প্রত্যেককেই আমি ধন্যবাদ জানাই। আমার সঙ্গে সেই ১৯৯৬ থেকে ২০০১ বা ২০০৯ থেকে এই অবধি যারা কাজ করে যাচ্ছেন সকলের মাঝেই আমি যে জিনিসটা লক্ষ্য করেছি যে জিনিসটা আমাদের আকাঙ্ক্ষা ছিল ওই একটা আমলাতন্ত্রিক ভাব নিয়ে থাকা না, জনগণের সঙ্গে মিশে যাওয়া। জনগণের সুখ দুঃখের সাথী হওয়া আপনারা কিন্তু সেটা হতে পেরেছেন’ বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী।

কারণ জাতির পিতা ১৯৭২ সালে ৪ নভেম্বর গণপরিষদের দেয়া ভাষণে সরকারি কর্মচারীদের উদ্দেশে বলেছিলেন, সরকারি কর্মচারীদের মনোভাব পরিবর্তন করতে হবে যে তারা শাসক নন, সেবক। সেটাই কিন্তু আমি এখন আপনাদের মাঝে দেখতে পাই, সেজন্য মাঠ প্রশাসনের সকলের প্রতি ধন্যবাদ জানান সরকারপ্রধান।

তিনি আরও বলেন, ‘যখন আমাদের সফলতা কোথায় আসে সফলতা তখনই আসে যখন আপনারা যথাযথভাবে সেই দায়িত্বটা পালন করেন। মানুষ তার সুফলটা পায়। তখনই সার্থকতা আসে। সেই কারণেই অল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশটাকে কত রকম প্রতিবন্ধকতা, প্রাকৃতিক দুযোগ, মনুষ্য সৃষ্ট দুযোগ, অগ্নিসন্ত্রাস; মাসের পর অবরোধ, হরতাল নানা ধরনের ঘটনা, এতো কিছু মোকাবিলা করে বাংলাদেশটাকে উন্নয়নশীল দেশের মর‌্যাদায় নিয়ে আসতে পেরেছি। এটার জন্য সবটুকু আপনাদেরই কৃতিত্ব। যারা মাঠ পযায়ে কাজ করেছেন। যারা চলে (অবসর) গেছেন, এখনও যারা আছেন, এখানে সকলের বিরাট অবদান রয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোর দিকে নজরদারি করার আহ্বান জানান এবং অর্থনৈতিকাবে দেশের এগিয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটিও মনে রাখবেন যত বেশি দ্রুত অর্থনৈতিক দেশ অগ্রসর হবে ততবেশি চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। কারণ অনেকেই তো আছে আমাদের স্বাধীনতা আসুক সেটিই চায়নি। কাজেই আমাদের অগ্রযাত্রাটা অনেকের হয়ত পছন্দ হবে না। যারা আমাদের স্বাধীনতার সময় আমাদের সমর্থন দেয়নি বা মনে করতে পারে তাদের সাথে টেক্কা দিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।’

‘আমরা পারি পদ্মা সেতু নিয়ে যখন কথা উঠেছিল বলেছিলাম নিজের অর্থায়নে পদ্মা সেতু করব। একসময় ছিল কারো সমর্থন পাইনি। কিন্তু নিজের একটা আত্মবিশ্বাস ছিল একটা জেদ ছিল যে আমি নিজের পয়সা ছাড়া পদ্মা সেতু করবো না। নিজেদের পয়সা দিয়ে করব। বাংলাদেশের মানুষ যে পারে সেটা আমরা প্রমাণ করেছি। নিজস্ব অর্থায়নে আমরা পদ্মা সেতু নির্মাণ করে বিশ্বকে দেখিয়েছি। বাঙালি যা বলে বাঙালি তা করতে পারে। আর জাতির পিতা বলেছিলেন কেউ দাবায়ে রাখতে পারবা না। আমাদের কেউ দাবায়ে রাখতে পারে না। ২১ বছরের অন্ধকারের যুগ পেরিয়ে আমরা যে আলোর পথে যাত্রা শুরু করেছি। তা যেন অব্যাহত থাকে।’

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ডেল্টা প্ল্যানসহ ২০৪১ সালের লক্ষ্যমাত্রার প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি আমরা যে পরিকল্পনা নিয়েছি সেটা বাস্তবায়ন হবে এবং বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। আর আজকে যারা নবীন কর্মকর্তা তারাই হবে ২০৪১’র সৈনিক। তখন উচ্চপদে তারা উঠবে। সেই সময় এই দেশকে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসাবে গড়ে তোলার দায়িত্ব কিন্তু এই নবীন কর্মকর্তাদের উপর বর্তাবে। সেটা মাথায় রেখে এখন থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে। তারপর যারা আসবে তারাও যেন সেই শিক্ষা বা পদাঙ্ক অনুসরণ করে এগিয়ে যেতে পারে, সেই পথটা মসৃণ করে দিতে হবে।’

সারাবাংলা/এনআর/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন