বিজ্ঞাপন

ফুটপাতে খাবার বিক্রি বন্ধে ১০ আইনজীবীর আইনি নোটিশ

February 9, 2023 | 6:29 pm

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: রাজধানীর ফুটপাতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার বিক্রি বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সরকারের প্রতি ১০ জন আইনজীবী নোটিশ পাঠিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ১০ আইনজীবীর পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. জে আর খান রবিন এই নোটিশ পাঠান।

স্বাস্থ্য সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি), স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি), চেয়ারম্যান বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরশন ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

নোটিশ প্রাপ্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নোটিশ গ্রহিতাদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় এর প্রতিকার চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

নোটিশদাতা ১০ আইনজীবী হলেন- শাম্মী আক্তার, মো. বাহাউদ্দিন আল ইমরান, মো. হাসান মিলু, আবিদ হোসেন, ইমরান হোসেন, জাহিদ হাসান ফাহাদ, এটিএম রেজাউল, শাহেন শাহ, মো. আরশাদ আলী এবং মো. সুমন হোসেন।

বিজ্ঞাপন

নোটিশে বলা হয়েছে, বেঁচে থাকার জন্য মানুষের খাবার গ্রহণ অপরিহার্য। কিন্তু খাবার যদি হয় অনিরাপদ, তাহলে তা হতে পারে মানুষের নানা রোগসহ মৃত্যুর কারণ। বর্তমানে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল, স্কুল-কলেজ, মার্কেট সামনে সহ ফুটপাত/ফুটপাতের পাশে নোংরা পরিবেশে নানা ধরনের অস্বাস্থ্যকর মুখরোচক খাবার বিক্রি করা হয়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য খুবই হুমকিস্বরূপ।

এতে আরও বলা হয়, বিশ্বের অনেক দেশেই রাস্তার খাবার তৈরি ও পরিবেশন করা হয় স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে। কিন্তু বাংলাদেশের অধিকাংশ রাস্তার খাবার প্রস্তুত ও বিক্রয়ের ক্ষেত্রে এসবের কোন বালাই নাই। দূষিত, ধূলাবালি এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ অধিকাংশ রাস্তার খাবারকে করে তুলেছে অনিরাপদ। ফলে যে বিপুল সংখ্যক মানুষ প্রতিদিন এসব খাবার খান, তারা বড় ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে থাকেন। যেসব সড়ক ও ফুটপাতে এসব খাবার বিক্রি হয়, সেগুলো ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের।

বিজ্ঞাপন

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে রাস্তার খাবার দোকানের নিবন্ধন বা অনুমোদন দেওয়ার ব্যবস্থা নেই। কোনো কর্তৃপক্ষের কাছেই রাস্তার খাবার বিক্রেতাদের কোনো তালিকাও নেই। খাবারের মান তদারকির দায়িত্বে থাকা নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কার্যক্রমও রাস্তার খাবারের ক্ষেত্রে একেবারেই সীমিত।

উক্ত বিষয়ে বিগত ২ ফেব্রুয়ারি দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় 'রাস্তার খাবার নিরাপদ করতে উদ্যেগ নেই' এবং বিগত ৭ ফেব্রুয়ারি দৈনিক 'বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকায় 'স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে রাস্তার খাবার' শিরোনামে দুটি খবর প্রকাশিত হয়।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলেও সত্যি যে, বাংলাদেশে 'জুতাসহ আনুষাঙ্গিক জিনিসপত্র বিক্রি হয় স্বাস্থ্যকর পরিবেশে। অন্যদিকে খাবার বিক্রি হয় খোলা অবস্থায় নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে। যা কোনভাবেই কাম্য নয়। সাথে সাথে ২০১৩ সালের নিরাপদ খাদ্য আইনের ২৫, ২৯, ৩০ ধারার ২০০৯ সালের ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ২৭, ২৯, ৩৩৬ ধারার পরিপন্থী।

তা ছাড়া জনস্বাস্থ্যের বিষয়ে সংবিধানের ১৮(১) ও ৩২ অনুচ্ছেদে উল্লেখ থাকলেও আপনারা নোটিশ গ্রহিতাগন উক্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছেন।

তাই আমার উল্লেখিত মোয়াক্কেলগণ সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী অনুপ্রাণিত হয়ে জনস্বার্থে, দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষার্থে আপনাদের বরাবরে অত্র নোটিশ পাঠাতে বাধ্য হয়েছেন।

অতএব, উল্লেখিত কারণে অত্র নোটিশ প্রাপ্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল, স্কুল- কলেজ, মার্কেটের সামনে সহ ফুটপাত /ফুটপাতের পাশে নোংরা পরিবেশে নানা ধরণের অস্বাস্থ্যকর মুখরোচক খাবার বিক্রি করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করাসহ কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে আপনারা নোটিশ গ্রহিতাগণকে বিশেষভাবে অনুরোধ করছি।

এর ব্যর্থতায় আপনাদের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট দায়েরসহ দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে করা হবে।

সারাবাংলা/কেআইএফ/এনইউ

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন