বিজ্ঞাপন

আংটি, অটোরিকশা ও ময়নাতদন্তে আটকা তাসফিয়ার মৃত্যু রহস্য

May 4, 2018 | 9:13 pm

।। স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট।।

বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রাম ব্যুরো: স্কুলছাত্রী তাসফিয়া আমিনের (১৬) মৃত্যু রহস্যের কোনো কূল-কিনারা এখনও করতে পারেনি পুলিশ। তিনদিনেও তাসফিয়া ‍খুন হয়েছেন নাকি আত্মহত্যা করেছেন সে বিষয়ে কোনো তথ্য মেলেনি। তাসফিয়ার একটি আংটি, অটোরিকশা চালকের সন্ধান এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে এ মৃত্যু রহস্য উন্মোচিত হবে বলে পুলিশের ধারণা।

ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে, নগরীর গোলপাহাড় মোড়ে রেস্টুরেন্টের সামনে থেকে তাসফিয়া যে অটোরিকশায় উঠেছিলেন, সেই অটোরিকশায় করেই তিনি পতেঙ্গায় পৌঁছান। সেই অটোরিকশায় তাসফিয়া এক থেকে দেড় ঘণ্টার মতো ছিলেন। এই সময়ে কোনো ‘ফাউল প্লে’ হয়েছিল কি না পুলিশ সেটা খতিয়ে দেখছে।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া রেস্টুরেন্টের ভিডিও ফুটেজে তাসফিয়ার আঙুলে একটি সোনার আংটি দেখা গিয়েছিল। কিন্তু মরদেহ উদ্ধারের সময় সেটি পাওয়া যায়নি। পুলিশের ধারণা, তাসফিয়া ওই আংটি অটোরিকশা চালককে দিয়ে ভাড়া মিটিয়েছিলেন।

শুক্রবার (০৪ মে) নগরীর গোলপাহাড় মোড় থেকে জিইসি মোড় পর্যন্ত চারটি প্রতিষ্ঠানের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিশ। এরপর সন্ধ্যায় পতেঙ্গার নেভাল এলাকায় গিয়ে প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

ভিডিওি ফুটেজে পাওয়া তথ্যের বিষয়ে জানতে চাইলে নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি-কর্ণফুলী জোন) জাহেদুল ইসলাম সারাবাংলাকে বলেন, ‘তাসফিয়া গোলপাহাড় মোড়ের চায়না গ্রিল রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে যে অটোরিকশায় উঠেছিলেন সেটি আনুমানিক এক’শ গজ দূরে মেডিকেল সেন্টারের সামনে গিয়ে থামে এবং তাসফিয়া নেমে যায়। সেখানে ৭ সেকেন্ড অপেক্ষার পর তাসফিয়া আবারও অটোরিকশায় উঠলে সেটি চলতে শুরু করে। ৬টা ৪৮ মিনিটে অটোরিকশাটি জিইসি মোড়ের দিকে যাত্রা করে। এরপর রাত সোয়া ৮টায় তাসফিয়াকে নেভালে পাথরের ওপর একাকি বসে থাকতে দেখা গেছে।’

তিনি বলেন, ‘এর থেকে আমরা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছি, তাসফিয়া যে অটোরিকশায় করে চায়না গ্রিলের সামনে থেকে রওনা হয়েছিল, সেই অটোরিকশাতেই পতেঙ্গায় পৌঁছেন। এর মধ্যে তাসফিয়া বাসার দিকে যায়নি, এটাও আমরা নিশ্চিত হয়েছি। মেডিকেল সেন্টারের সামনে থেকে পতেঙ্গা পৌঁছাতে একঘণ্টারও বেশি সময় লাগবে। সম্ভাব্য এক থেকে দেড় ঘণ্টার মধ্যে কোনো ফাউল প্লে হয়েছিল কি না সেটা আমরা তদন্ত করে দেখছি।’

বিজ্ঞাপন

আংটির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তাসফিয়ার কাছে কোনো টাকা ছিল না। আদনানের কাছ থেকে ১০০ টাকা নিয়ে সে অটোরিকশায় উঠেছিল। আমাদের ধারণা, এই আংটি তাসফিয়া অটোরিকশা চালককে দিয়েছে।’

সূত্রমতে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের পরও পুলিশ সিএনজি অটোরিকশার নম্বর পেতে ব্যর্থ হয়েছে। অটোরিকশাটি চিহ্নিত করতে পারলেও প্রতিটি ফুটেজে অতিরিক্ত আলোর কারণে নম্বরটি পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপন

এসি জাহেদুল সারাবাংলাকে বলেন, রেস্টুরেন্ট থেকে বেরিয়ে তাসফিয়া কেন এবং কীভাবে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এলাকায় গেল, আমরা সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছিলাম। সেটা করতে গিয়ে এখন তিনটি বিষয় আমাদের সামনে এসেছে। তাসফিয়ার আংটি, অটোরিকশার চালক এবং ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন-এই তিনটির জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

বুধবার (০২ মে) সকালে নগরীর পতেঙ্গায় নেভাল একাডেমির অদূরে ১৮ নম্বর ঘাট এলাকায় চোখ, নাক-মুখ থ্যাতলানো অবস্থায় তাসফিয়ার মরদেহ পায় পুলিশ। প্রথমে পরিচয় নিশ্চিত না হলেও দুপুরে পরিবারের লোকজন থানায় গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন। ১ মে বিকেলে বন্ধু আদনান মির্জার (১৬) সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পর তাসফিয়া আর বাসায় ফেরেনি বলে দাবি পরিবারের।

তাসফিয়া কক্সবাজার জেলা সদরের ডেইলপাড়া এলাকার মো. আমিনের মেয়ে। চট্টগ্রাম নগরীর ও আর নিজাম রোডে তাদের বাসা। সানশাইন গ্রামার স্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্রী।

এই ঘটনার পর বুধবার রাতেই পুলিশ তাসফিয়ার বন্ধু আদনান মির্জাকে আটক করে। বৃহস্পতিবার আদনান মির্জাকে আদালতে হাজির করা হলে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার বিকেলে তাসফিয়ার বাবা বাদি হয়ে পতেঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামিরা হলেন, গ্রেফতার হওয়া তাসফিয়ার বন্ধু ও এলিমেন্টারি স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র আদনান মির্জা (১৬), সানশাইন গ্রামার স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র শওকত মিরাজ ও আসিফ মিজান, আশেকানে আউলিয়া ডিগ্রি কলেজের এইচএসসির ছাত্র ইমতিয়াজ সুলতান ইকরাম এবং কথিত যুবলীগ নেতা মো.ফিরোজ ও তার সহযোগী সোহায়েল ওরফে সোহেল।

সারাবাংলা/আরডি/একে

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন