বিজ্ঞাপন

মিয়ানমারে ফিরলেও গ্রামবন্দি থাকতে হবে রোহিঙ্গাদের

May 5, 2018 | 5:19 pm

।। আন্তর্জাতিক ডেস্ক ।।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে গেলেও তারা অবাধ চলাফেরার সুযোগ পাবেন না। সেখানে ‘মডেল ভিলেজে’ একই জায়গায় বছরের পর বছর তাদের থাকতে হবে। মিয়ানমার সেনাবাহিনী প্রধান মিন অং হ্লেইং জানিয়েছেন, এই মডেল ভিলেজে রোহিঙ্গারা যতদিন থাকবে ততদিন নিরাপদেই থাকবে।

সোমবার (৩০ এপ্রিল) মিয়ানমারের নেপিদোতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলাপকালে দেশটির সেনাপ্রধান মিন অং হ্লেইং এ সব কথা জানান।

বিজ্ঞাপন

তিনি প্রতিনিধি দলকে জানান, রোহিঙ্গারা যদি তাদের জন্য তৈরি নির্ধারিত স্থানে থাকে, এর বাইরে না যায় তবে তাদের নিরাপত্তার ব্যাপারে চিন্তার কিছু নেই।

এ ছাড়া প্রতিনিধি দলের সঙ্গে রোহিঙ্গাদের বিষয়ে আলোচনার সময় রোহিঙ্গার বদলে তাদের ‘বাঙালি’ বলে উল্লেখ করেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ থেকে রোখাইন রাজ্যে গিয়ে তারা দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছে বলেও উল্লেখ করেছেন।

বিজ্ঞাপন

প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলাপকালে তিনি মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে আনা হত্যা, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের মতো অভিযোগের ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

এ ছাড়া মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগকে অতিরঞ্জন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাঙালিরা কখনোই বলবে না যে তারা সুখী আছে। তারা যদি বলে নিপীড়ন-নির্যাতনের শিকার হচ্ছে তবেই মানুষের সহানুভূতি পাবে।

বিজ্ঞাপন

তবে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বললেও মিয়ানমারের পরিস্থিতি এখনো রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার জন্য উপযুক্ত নয়, বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের প্রতিনিধি দল।

যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘ স্বীকৃত মিয়ানমার সেনাবাহিনীর জাতিগত নিধনের ফলে গত বছরের আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা শরনার্থী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

দাঙ্গা পিড়ীত রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা শরনার্থীদের সে দেশে ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশে সরকার ও মিয়ানমারের মধ্যে এক সমঝোতা হয়। তার পরও নিজেদের নিরপাত্তা ও মৌলিক চাহিদার ব্যাপারে মিয়ানমার সরকারের নিশ্চয়তা ছাড়া রোহিঙ্গা শরনার্থীরা সেখানে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে খুব একটা আগ্রহ দেখাচ্ছে না।

শরনার্থীদের দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য মিয়ানমার সরকার আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া গ্রামগুলোতে কিছু ঘরবাড়ি ও তাদের ফিরে যাওয়ার পথে অস্থায়ী তাবু তৈরি করেছে। যেখানে  কয়েক হাজার শরনার্থী আশ্রয় নিতে পারবে।

দশকের পর দশক ধরে মিয়ানমারের রোহিঙ্গারা সেখানে নির্যাতন ও মৃত্যুর শিকার হচ্ছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন যাকে বর্ণবাদী আচরণ বলে উল্লেখ করেছে।

এ ছাড়া ২০১২ সালের পর থেকে আন্তসম্প্রদায় দ্বন্দ্বে এক লাখ ২০ হাজারের মতো মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে সেখানকার আশ্রয় শিবিরে স্থান নিয়েছেন।

সীমান্তে আশ্রয় নেওয়া দিল মোহাম্মদ নামের একজন রোহিঙ্গা নেতা বলেন, ‘একই উদ্বেগের কারণে রোহিঙ্গারা অস্থায়ী ক্যাম্পে থাকতে চাই না।

‘আমাদের নিজেদের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার জন্যই শুধু অপেক্ষা করছি’ বলেও জানান তিনি।

সারাবাংলা/এমআই

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন