বিজ্ঞাপন

বাড়ছে নারী প্রধান পরিবার

May 7, 2018 | 8:25 am

।। জোসনা জামান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট ।।

বিজ্ঞাপন

ঢাকা: দেশের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তন আসছে। পরিবর্তনের সেই ঢেউ লেগেছে পরিবারেও। পুরুষতান্ত্রিক পরিবারের ধারণায় বদল আসতে শুরু করেছে। এখন দেশে নারী প্রধান পরিবারের সংখ্যা বাড়ছে। সম্প্রতি প্রকাশিত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘শ্রমশক্তি জরিপ ২০১৬-১৭’ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। এর মধ্য দিয়ে নারীর ক্ষমতায়ন, নারীর অগ্রযাত্রা ও নারীর মুক্তির পথ সুগম হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শ্রমশক্তি জরিপ প্রকল্পের পরিচালক মো. কবীর উদ্দিন আহমেদ সারাবাংলা’কে বলেন, ‘দেশে নারী প্রধান পরিবারের সংখ্য বাড়াটা ইতিবাচক। কারণ, এতে নারীদের সক্ষমতা ও তাদের উন্নতির দিকটি ফুটে ওঠে।’

বিজ্ঞাপন

উদাহরণ দিতে গিয়ে কবীর উদ্দিন বলেন, অনেক পরিবারের সব বিষয়ই দেখভাল করেছেন স্ত্রীরা। স্বামীরা চাকরি নিয়ে ব্যস্ত থাকায় সন্তানদের স্কুলে আনা-নেওয়া থেকে শুরু করে পরিবারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তই নারীরা নিচ্ছেন। এভাবে তারা হয়ে উঠছেন পরিবারের প্রধান বা মূল চালিকাশক্তি।

বিবিএস সূত্র জানায়, বর্তমানে নারীদের মধ্যে বেড়েছে শিক্ষা গ্রহণের হার। তাছাড়া কর্মক্ষেত্রে নারীদের প্রবেশাধিকার বেড়েছে; সেই সঙ্গে আনপেইড লেবার (টাকা ছাড়াই কাজ) থেকে পেইড লেবারে যুক্ত হওয়ার হারও বেড়েছে। ফলে পরিবার পরিচালনার ক্ষেত্রেও তারা সক্ষমতা ও দক্ষতা দেখাচ্ছেন। তাছাড়া তালাক হওয়ার কারণে বা স্বামীর মৃত্যুর মত বিভিন্ন ঘটনার পর নারীদের পরিবারের হাল ধরতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে নারী প্রধান পরিবারের সংখ্যা দিনে দিনে বাড়ছে।

বিজ্ঞাপন

বিবিএস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৬-১৭ সালে জরিপটি পরিচালনার সময় দেশে নারী প্রধান পরিবারের সংখ্যা ছিল ১৪ দশমিক ২ শতাংশ। এর আগে ২০১৫-১৬ অর্থবছরেরর একই জরিপে এ ধরনের পরিবারের সংখ্যা ছিল ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ। পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এক বছরের ব্যবধানে নারী প্রধান পরিবারের সংখ্যা বেড়েছে শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ। ধীরে হলেও এ হার বাড়ছে। এর বিপরীতে স্বাভাবিকভাবেই কমছে পুরুষ প্রধান পরিবারের সংখ্যা। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে পুরুষ প্রধান পরিবারের সংখ্যা ছিল ৮৬ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা কমে হয়েছে ৮৫ দশমিক ৮ শতাংশ।

পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম সারাবাংলা’কে বলেন, ‘নারীরা এখন কর্মসংস্থানে অনেক এগিয়ে এসেছে। উচ্চ শিক্ষিত নারীর সংখ্যা আগের তুলনায় বেড়েছে। তাছাড়া নারীরা আগের তুলনায় অর্থনৈতিকভাবে বেশি সক্ষম। ফলে সংসারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে।’

বিজ্ঞাপন

পরিবারের নারী প্রধান হয়ে ওঠার আরো কয়েকটি কারণ তুল ধরেন ড. শামসুল আলম। তিনি বলেন, ‘অনেক সময় দেখা যায়, কর্মসূত্রে পরিবার থেকে দূরে থাকতে হচ্ছে স্বামীকে। এসব ক্ষেত্রে ওইসব পরিবারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে সন্তানদের দেখভালসহ অনেক সিদ্ধান্তই স্ত্রীকে নিতে হচ্ছে। এসব পরিবারও এভাবে নারী প্রধান পরিবার হয়ে উঠছে। এক কথায় নারীদের সামাজিক অবস্থানের উন্নতি ঘটছে। বিবিএসের প্রতিবেদনে তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।’

বিবিএস-এর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গ্রামের তুলনায় শহরে নারী প্রধান পরিবারের সংখ্যা বেশি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রামের পরিবারগুলোর মধ্যে নারী প্রধান পরিবারের সংখ্যা ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ, শহরে তা ১৫ দশমিক ১ শতাংশ। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের তুলনায় উভয় ক্ষেত্রেই বেড়েছে নারী প্রধান পরিবারের সংখ্যা। ওই অর্থবছরের শহরে নারী প্রধান পরিবারের সংখ্যা ছিল ১৪ দশমিক ১ শতাংশ, গ্রামে ১৩ দশমিক ২ শতাংশ।

বিজ্ঞাপন

এদিকে, আগের অর্থবছরের ২০১৬-১৭ অর্থবছরে শহরে ও গ্রামে কিছুটা হলেও কমেছে পুরুষ প্রধান পরিবারের সংখ্যা। তবে শহরের তুলনায় গ্রামে পুরুষ প্রধান পরিবারের সংখ্যা বেশি পাওয়া গেছে বিবিএস-এর জরিপে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে শহরে পুরুষ প্রধান পরিবারের সংখ্যা ৮৪ দশমিক ৯ শতাংশ, আগের অর্থবছরে যা ছিল ৮৫ দশমিক ৯ শতাংশ। অন্যদিকে, একই সময়ে গ্রামে পুরুষ প্রধান পরিবারের সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৮৬ দশমিক ২ শতাংশ ও ৮৬ দশমিক ৮ শতাংশ।

সারাবাংলা/জেজে/টিআর

** দ্রুত খবর জানতে ও পেতে সারাবাংলার ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে রাখুন: Sarabangla/Facebook

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন