June 6, 2023 | 8:07 pm
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
ঢাকা: দেশজুড়ে চলমান লোডশেডিংয়ের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, বর্তমান অর্থনৈতিক ও বৈশ্বিক অবস্থার কারণে আমরা সময় মতো কয়লা আনতে পারেনি। তবে ১৫ থেকে ১৬ দিনের মধ্যে কয়লা এসে যাবে। কয়লা চলে এলে বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক হয়ে যাবে। আশা করছি, এ মাসের মধ্যে বিদ্যুতের সমস্যা কেটে যাবে।
মঙ্গলবার (৬ জুন) একাদশ জাতীয় সংসদের ২৩তম অধিবেশনে জ্বালানি নিয়ে সংসদ সদস্যদের তীব্র সমালোচনার জবাবে এসব কথা বলেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী।
নসরুল হামিদ বলেন, ‘বেশি দিন আগের কথা না, মাত্র ১৪ বছর আগেও প্রায় ৬০ শতাংশ বাংলাদেশ অন্ধকারে ছিল। কোভিড আমাদের স্মরণ শক্তির ক্ষতি করেছে। আমরা খুব দ্রুত ভুলে যাই। আগে ১৭-১৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকতো না। সেখানে আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে শতভাগ বিদ্যুতায়ন করেছি। আমরা সঞ্চালন লাইন করেছি।’
তিনি বলেন, ‘এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে ১২ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়। যখন আমরা ২৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা বলি তখন প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার খরচের বিষয় ছিল। তার ওপর সঞ্চালন লাইন, ডিস্টিবিউশন লাইন ও জ্বালানি খরচও কিন্তু দিতে হয়। আমাদের প্রস্তুতি আছে ২০ থেকে ২২ হাজার মেগাওয়াটের ।
তিনি আরও বলেন, ‘যেকোনো মুহূর্তে আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারি। কিন্তু কোভিড পরবর্তী সময়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মতো চ্যালেঞ্জ এসেছে। সারা বিশ্বে জ্বালানিসহ সব জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেছে অস্বাভাবিকভাবে। পাওয়া যাচ্ছে না গ্যাস ও তেল। দামও অস্বাভাবিক। আরও বড় চ্যালেঞ্জ আছে- বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের দাম অনেকটাই বেড়ে গেছে। শুধু তাই নয়, তার ওপর পাব কি পাব না তাও অনিশ্চিত।’
বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে দিনের বেলায় ১২ থেকে সাড়ে ১২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছি। রাতের বেলায় ১৫ হাজার। আমাদের ঘাটতি আছে রয়েছে দুই থেকে আড়াই হাজার মেগাওয়াট।’ প্রতি বছর জ্বালানি বাবদ আট হাজার কোটি টাকা, গ্যাসে ১২ হাজার কোটি, আর এ বছর বিদ্যুৎ খাতে ২৭ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।
নসরুল হামিদ বলেন, ‘প্রায় ৪০ লাখ অটোরিকশা মধ্যরাতে চার্জ দিতে ৩ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ খেয়ে নিচ্ছে। আমরা তো বন্ধ না করে ইনক্রিজ করছি। আশা করছি, এ মাসের মধ্যে বিদ্যুতের সমস্যা কেটে যাবে।’
সারাবাংলা/এএইচএইচ/এনইউ/পিটিএম