বিজ্ঞাপন

ইস্টার্ন ব্যাংক কর্মকর্তার ৫৪ বছর কারাদণ্ড

August 6, 2023 | 8:52 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো : প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে গ্রাহকের আড়াই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের (ইবিএল) এক কর্মকর্তাকে এবার ৫৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এটি ওই ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পঞ্চম রায়। এর আগেও চার মামলায় বিভিন্ন অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করায় মো. ইফতেখারুল কবিরকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছিলেন আদালত।

বিজ্ঞাপন

আদালত আজকের রায়ে ফতেখারুল কবির ছাড়াও আরও চারজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন। এ ছাড়া অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় ফারজানা হোসেন ফেন্সী নামে এক আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

রোববার (৬ আগস্ট) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মুন্সী আব্দুল মজিদ এ রায় দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কৌঁসুলি কাজী ছানোয়ার আহমেদ লাবলু।

দণ্ডিতরা হলেন ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের চান্দগাঁও শাখার সাবেক প্রায়োরিটি ব্যবস্থাপক মো. ইফতেখারুল কবির এবং অর্থ আত্মসাতে তার সহযোগী জাকির হোসেন বাপ্পী, মাহমুদুল হাসান, আজম চৌধুরী ও আবদুল মাবুদ।

বিজ্ঞাপন

জাকির হোসেন বাপ্পী নগরীর হালিশহরের লাবীবা ট্রেডিং এবং আবদুল মাবুদ মাদারবাড়ির জুলেখা ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের মালিক। আজম চৌধুরী ও মাহমুদুল হাসান নগরীর খুলশী এলাকার বাসিন্দা এবং ব্যবসায়ী।

আদালত আসামিদের দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন।

আদালত ইফতেখারুল কবিরকে মোট ৫৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১ কোটি ৭২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন। আসামি জাকির হোসেন বাপ্পীকে ১১ বছরের কারাদণ্ড ও ৭৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। আসামি আজম চৌধুরী, আবদুল মাবুদ ও মাহমুদুল হাসানকে মোট ৬ বছর ৬ মাস করে কারাদণ্ড দিয়েছেন। আজম চৌধুরীকে ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, আবদুল মাবুদকে ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং মাহমুদুল হাসানকে ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

দুদকের আইনজীবী কাজী ছানোয়ার আহমেদ লাবলু সারাবাংলাকে জানান, ২০১৫ সালে ব্যাংকের চান্দগাঁও শাখায় সালাহউদ্দিন নামে এক ব্যক্তি এফডিআর অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য যান। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইফতেখারুল কবির তাকে ভুল বুঝিয়ে কৌশলে কয়েকটি খালি চেকে স্বাক্ষর নিয়ে নেন। এরপর বিভিন্ন সময়ে ৬টি চেকের মাধ্যমে তার অ্যাকাউন্ট থেকে উত্তোলন ও ৭২ লাখ টাকার ভূয়া ঋণ সৃষ্টি করে মোট ২ কোটি ৫১ লাখ ৫৯ হাজার টাকা অপর চার আসামির অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরের মাধ্যমে আত্মসাত করেন।

পরবর্তীতে সালাহউদ্দিন তার অনুমোদন ব্যতীত অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে নেওয়ার বিষয়টি লিখিতভাবে অভিযোগ করেন। প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণ হওয়ার পর ইফতেখারুল কবির তদন্ত কমিটির কাছে লিখিতভাবে দোষ স্বীকার করেন। এ ঘটনায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষের থানায় জমা দেওয়া অভিযোগ শিডিউলভুক্ত হিসেবে তদন্তের জন্য দুদক গ্রহণ করে। প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে ২০১৯ সালের ১৪ অক্টোবর দুদক, চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এর উপ-পরিচালক ফখরুল ইসলাম বাদী হয়ে পাঁচজনের নামে মামলা দায়ের করেন।

২০২১ সালের ২২ সেপ্টেম্বর পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ২০২৩ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। রাষ্ট্র ও আদালতের পক্ষে ২১ জন এবং ৪ জনের সাফাই সাক্ষ্য শেষে আদালত এ রায় দিয়েছেন।

রায় ঘোষণার সময় পাঁচ আসামি আদালতে হাজির ছিলেন। পরে সাজামূলে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

বিজ্ঞাপন

দণ্ডিত ইফতেখারুল কবিরকে গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠার পর ২০১৯ সালে বরখাস্ত করে ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড কর্তৃপক্ষ।

গত ৩০ জানুয়ারি গ্রাহকের ৫০ লাখ টাকা আত্মসাতের একটি মামলায় ইফতেখারুলকে ২৬ বছর, ১ জুন প্রায় দুই কোটি টাকা আত্মসাতের আরেকটি মামলায় যাবজ্জীবন, ২২ জুন ৬৪ লাখ টাকা আত্মসাতের একটি মামলায় ২১ বছর এবং ২৫ জুলাই ৯৫ লাখ টাকা আত্মসাতের একটি মামলায় তাকে মোট ৩১ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত।

সারাবাংলা/আরডি/একে

Tags: , ,

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন