বিজ্ঞাপন

তবু ঈদযাত্রায় ফিটনেসবিহীন বাস, ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনের বহর

April 9, 2024 | 10:22 pm

রাজনীন ফারজানা, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: প্রতিবছরের মতো এবারও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঈদযাত্রার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে শত শত ফিটনেসবিহীন বাস। নামমাত্র মেরামতের পর নতুন রঙ করেই এসব বাস ‘প্রস্তুত ’ করা হয়েছে দূরপাল্লার যাত্রার জন্য। এরই মধ্যে সেগুলো ঈদযাত্রায় নেমেও পড়েছে দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে, যদিও সেগুলো কোনোভাবেই দূরপাল্লার যাত্রার উপযোগী নয়।

বিজ্ঞাপন

এর বাইরে রাজধানীর ঢাকার অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন রুট এবং পাশের জেলা গাজীপুর থেকে ঢাকায় চলাচলকারী বাসগুলোও নেমে পড়েছে ঈদযাত্রায়। ঢাকা-রংপুর ও ঢাকা-চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জাতীয় মহাসড়কে যাত্রী নিয়ে ছুটছে এসব যানবাহন। সেই সঙ্গে ট্রাক ও পিকআপে করেও ঈদযাত্রায় বাড়ির পথে ছুটছে মানুষ। ঈদযাত্রার বাহন হিসেবে রয়েছে মোটরসাইকেলও। তীব্র গরমের ভোগান্তি আর দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়েও সবাই ছুটছে বাড়ির পথে।

পরিবহনসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রমজানের অর্ধেক পার হতে না হতেই ঈদযাত্রার জন্য প্রস্তুত হতে থাকে পুরনো লক্কড়-ঝক্কড় বাস। ওয়ার্কশপগুলোর টার্গেট থাকে, ২৭ রমজানের মধ্যেই এগুলো প্রস্তুত করে ফেলা হবে। রাজধানী ও আশপাশের ওয়ার্কশপগুলো তো বটেই, দেশের অন্য অঞ্চলেও বিভিন্ন ওয়ার্কশপে এ বছরও এরকম অনেক ফিটনেসবিহীন বাসই প্রস্তুত করা হয়েছে ঈদযাত্রার জন্য। আবার এসব বাসের মধ্যেই দূরপাল্লার বাসের তুলনায় লোকাল বা স্বল্প দূরত্বে চলাচলকারী বাসের সংখ্যাই বেশি। ঈদযাত্রা পুরোদমে শুরু হওয়ার পর মহাসড়কে এসব বাসের উপস্থিতিও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে।

ঈদ সামনে রেখে রমজানের মাঝামাঝি সময় থেকে ফিটনেসবিহীন এসব যানবাহন নামমাত্র মেরামত আর রঙ করে প্রস্তুত করা হয় ঈদযাত্রার জন্য। ছবি: সারাবাংলা

সোমবার (৮ এপ্রিল) ও মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে এমন অনেক বাসই চলতেছে দেখা গেছে, যেগুলো ফিটনেসবিহীন হলেও ঈদ সামনে রেখে রঙচঙ করে নতুনের মতো করে তোলা হয়েছে। এ ছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন রুট কিংবা ঢাকা-গাজীপুর ও ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচল করা প্রচুর বাসও দেখা গেছে মহাসড়কে। বিশেষ করে আজমেরী পরিবহন, রাইদা পরিবহন, বিকল্প পরিবহন ও গাজীপুর পরিবহনের বাস বেশি দেখা গেছে। ঢাকা নগর পরিবহনের একাধিক বাসও মঙ্গলবার দেখা গেছে মহাসড়কে।

বিজ্ঞাপন

শুধু তাই নয়, ট্রাক ও পিকআপে করেও ঈদযাত্রা করতে দেখা গেছে অনেক মানুষকে। বিশেষ করে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে বিপুল পরিমাণ ট্রাক ও পিকআপ দেখা গেছে, যেগুলো যাত্রী বহন করছে। গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে যাত্রী নিয়ে এসব ট্রাক ও পিকআপ পৌঁছে যাচ্ছে রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারীর বিভিন্ন এলাকায়।

সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও গাইবান্ধা থেকে সারাবাংলার ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্টরা কথা বলেছেন মহাসড়কের বিভিন্ন যাত্রী ও চালকদের সঙ্গে। তারা জানাচ্ছেন, সাভার, গাজীপুর ও ময়মনসিংহ এলাকার পেশাক কারখানাগুলোতে ঈদের ছুটি শুরু হয়েছে। এসব পোশাক কারখানার কর্মীদের বড় একটি অংশের বাড়ি উত্তরের বিভিন্ন জেলায়। তাদের মধ্যে যাদের বাড়ি একই এলাকায়, তারাই মূলত স্বল্প দূরত্বের বিভিন্ন বাস বা ট্রাক-পিকআপ রিজার্ভ করে নিয়ে রওনা দেন বাড়ির পথে। এ ছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দিনমজুরসহ শ্রমিক হিসেবে যারা কাজ করেন, তারাও ঈদের সময় অল্প টাকায় বাড়ি ফিরতে এসব যানবাহন ব্যবহার করে থাকেন।

নতুন রঙে রঙিন হলেও এসব বাসের অনেকেই দূরপাল্লায় চলাচলের উপযোগী নয়। ছবি: সারাবাংলা

মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল এলাকায় একটি হোটেলে বিরতি নিয়ে দাঁড়িয়েছিল বেশকিছু স্বল্প দূরত্বে চলাচলকারী বাস ও ট্রাক-পিকআপ। রাইদা পরিবহণের একটি বাসের যাত্রী রফিকুল ইসলাম ও আব্দুল রহিম জানালেন, গাজীপুরের কোনাবাড়ি এলাকার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন তারা। বাড়ি কুড়িগ্রামের রাজারহাট ও উলিপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়। ওই দুই উপজেলার আরও কয়েকজন কোনাবাড়ির কয়েকটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। সবাই মিলে এরকম তিনটি বাস রিজার্ভ করে রওনা দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

পাশেই ছিলেন নাজমা বেগম, নিপা আকতার, আব্দুস সালামসহ কয়েকজন। তারা এসেছেন বড়বাড়ি এলাকা থেকে। গন্তব্য ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলা। তারা ৩২ জন মিলে একটি মাঝারি আকৃতির ট্রাক রিজার্ভ করেছেন। রাতভর যানজট পেরিয়ে সকালে এসে পৌঁছেছেন হাটিকুমরুল এলাকায়। পথে আর যানজটে না আটকালে দুপুর নাগাদ বাড়ি পৌঁছাবেন বলে আশা করছেন তারা।

সিরাজগঞ্জ রোড, শেরপুর, বগুড়া ও গাইবান্ধার বিভিন্ন যাত্রাবিরতি হোটেলগুলোতে এ রকম আরও অনেক বাস, ট্রাক, পিকআপকেই বিরতি নিতে দেখা গেছে মঙ্গলবার দিনভর। মহাসড়কে এসব যানবাহনকে অচল অবস্থাতেও দেখা গেছে। যাত্রীরা জানাচ্ছেন, ঈদের সময় তাদের বাড়ি ফিরতেই হয়। কিন্তু দূরপাল্লার পরিবহণ কোম্পানিগুলো যে বাস ভাড়া নেয়, তা বহন করা তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না। তাই একটু খরচ সাশ্রয় করতেই ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও তাদের ঢাকার লোকাল বাস কিংবা ট্রাক-পিকআপ বেছে নিতে হয় বাড়ি ফেরার জন্য।

ঈদে বাড়ি যেতে এসব ট্রাক বেছে নিচ্ছেন স্বল্প আয়ের অনেকেই। ছবি: সারাবাংলা

পরিবহণ খাতসংশ্লিষ্ট ও এই খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতি বছরই ঈদে সড়কে দুর্ঘটনায় ঝরে পড়ে শতাধিক প্রাণ। আর এসব দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ ফিটনেসবিহীন বা দূরপাল্লায় চলাচলের অনুপযোগী যানবাহন। ঈদে যাত্রী বহনের প্রস্তুতি হিসেবে নামিদামি কোম্পানিগুলো রুটিন কাজ হিসেবেই নিজেদের বাস মেরামত ও রঙ করে থাকে। কিন্তু ঈদে যে পরিমাণ মানুষ বাড়ির পথে যাত্রা করে, এসব নামিদামি কোম্পানির গাড়ি তাদের পরিবহণে যথেষ্ট নয়। ফলে পরিবহণ সংকটকে সুযোগে পরিণত করে অসাধু চক্র। ফিটনেসবিহীন ও লক্কড়-ঝক্কড় বাস নামে সড়কে। নেমে পড়ে স্বল্প দূরত্বের লোকাল বাস। যাত্রী পরিবহণে যুক্ত হয় ট্রাক, পিকআপ। ফলে স্বপ্নের ঈদযাত্রা অনেক সময় রূপ নেয় ঝুঁকিপূর্ণ সফরে। ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে তাই তারা হাইওয়ে পুলিশ ও প্রশাসনকে বহুমাত্রিক তৎপরতা চালানো আহ্বান জানাচ্ছেন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান সারাবাংলাকে বলেন, দূরপাল্লার যাত্রায় আনফিট গাড়ি শুধু দুর্ঘটনাই ঘটায় না, এগুলোর কারণে যানজটও তৈরি হয়। নিরাপদ সড়ক ও নিরাপদ ঈদযাত্রার জন্য দরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। কিন্তু আমাদের দেশে দেখা যায় ঈদের এক থেকে দেড় সপ্তাহ আগে মিটিং করে ঈদযাত্রা নিরাপদের চিন্তা করা হয়। এত অল্প সময়ের প্রস্তুতিতে নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করা যায় না।

বিজ্ঞাপন

পর্যাপ্ত গণপরিবহণের অভাবে যাত্রীরা বাধ্য হয়ে অনিরাপদ যানবাহন বেছে নেন জানিয়ে সাইদুর বলেন, বিআরটিসি যদি এ সময় বাস চালু করে তাহলেও নিম্ন আয়ের মানুষের সুবিধা হয়। কিন্তু দেখা যায়, বিআরটিসির সক্ষমতা থাকলেও তাদের গাড়ি নষ্ট হয়ে ডিপোতে পড়ে আছে। মনে হয় যেন বেসরকারি খাতের জন্য সুযোগ করে দিচ্ছে সরকারি এই পরিবহণ সংস্থা। আবার বেসরকারি খাত অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের লোভে যাত্রীদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে ফিটনেসবিহীন বাসা নামাচ্ছে দূরপাল্লায়। সরকার দায়িত্ব নিলে এসব বাস বা ট্রাকে যাত্রীরা উঠত না।

রাজধানী ঢাকার ভেতরে চলাচলকারী রাইদা পরিবহণের বাসও এখন ঈদযাত্রী নিয়ে ছুটছে মহাসড়কে। ছবি: সারাবাংলা

যাত্রীদের আর্থিক অসঙ্গতিকেই এসব অনিরাপদ যানবাহনের চলাচল অব্যাহত থাকার কারণ হিসেবে তুলে ধরলেন যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক। সারাবাংলাকে বলেন, ফিটনেসবিহীন বাস ঝুঁকিপূর্ণ হলেও এসব বাসে মানুষ বাধ্য হয়ে ওঠে। কারণ তার কাছে কোনো সস্তা বিকল্প নেই। একজন পোশাক শ্রমিক বা অন্য শ্রমজীবীর পক্ষে বড় দূরপাল্লার বাসে ভাড়া দিয়ে যাওয়া সম্ভব না। তা ছাড়া এসব বাসের ভাড়াও অনেক বেড়েছে। ঢাকা থেকে রংপুরগামী যেসব বাসের ভাড়া ছিল ১২০০ টাকা, সেগুলো হয়েছে ১৮০০ টাকা। আবার ৮০০ টাকার ভাড়া হয়েছে ১২০০ টাকা। ১৫ বা ২০ হাজার টাকা যার মাসিক আয়, তার পক্ষে তো এত ভাড়া দিয়ে পরিবার নিয়ে দূরপাল্লার বাসে চলা সম্ভব না।

দক্ষিণের বাসিন্দাদের জন্য লঞ্চে যাতায়াতের সুবিধা থাকলেও সেখানেও ঈদ মৌসুমে ভাড়া বেড়ে যায়। আর সাধারণ সময়েই ট্রেনের টিকিট পেতে ভোগান্তি পোহাতে হয়, যা ঈদের সময় অসম্ভবে পরিণত হয় বলে অভিযোগ যাত্রীদের। এ কারণেই সড়কের প্রতি নির্ভরতা বেশি বলে মনে করেন মোজাম্মেল হক। পর্যাপ্ত ও সাধ্যের মধ্যে পরিবহণের অভাবকেই ঈদযাত্রা অনিরাপদ হয়ে ওঠার মূল কারণ বলে অভিহিত করছেন তিনি।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির এই নেতা বলেন, বাসে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি ভাড়া নেওয়ারও অভিযোগ পাচ্ছি। আবার ট্রেনে সরকার সাড়ে তিন লাখ টিকিট ছেড়েছে। কিন্তু মানুষ যাবে সাত লাখেরও বেশি। টিকিটের বাইরের মানুষগুলোকে তাই ছাদে বা গেটে ঝুলে যেতে হবে, যার জন্য আবার গুনতে হবে অতিরিক্ত টাকা। প্রকৃতপক্ষে ২০ লাখের মতো মানুষের হাতে বিকল্প নেই। তারা জীবনবাজি রেখেই বাড়ি যাচ্ছে। সরকার যদি মলমের মতো সাময়িক প্রলেপ না লাগিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথে না হাঁটে, তাহলে প্রতিবছর এমন ভোগান্তি চলতেই থাকবে।

পোশাক কর্মী, দিনমজুর, শ্রমজীবীসহ নিম্ন আয়ের মানুষদের ঈদযাত্রায় নির্ভর করতে হয় ট্রাক-পিকআপের ওপর। ছবি: সারাবাংলা

ফিটনেসবিহীন বাস চলাচলে পরিবহণ কোম্পানিগুলোকে নিষেধ করা হয়েছে জানিয়ে বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও শ্যামলী পরিবহণের প্রোপাইটার শুভঙ্কর ঘোষ সারাবাংলাকে বলেন, ‘কোনো ফিটনেসবিহীন বাসেরই পুলিশের নজরদারি এড়িয়ে চলার সুযোগ নেই। এ ধরনের গাড়ি ঢাকা থেকে বের হতে না দেওয়ার বিষয়ে এবার সবাই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। টার্মিনাল থেকে ছাড়াও নিষেধ। তবে অনেকেই, বিশেষ করে পোশাক কর্মীরা ঈদের আগে আগে এমন বাস ভাড়া করে নিয়ে যান।’

ঈদযাত্রায় যাত্রীর সংখ্যা অনুপাতে পর্যাপ্ত মানসম্মত বাস আছে দাবি করে শুভঙ্কর বলেন, যথেষ্ট বাস আছে। অতিরিক্ত ভাড়া না নেওয়াসহ অন্যান্য সচেতনতামূলক বার্তা নিয়মিত প্রচার করছি আমরা। তবু কিছু মানুষ ঝুঁকি নিয়ে পণ্যবাহী ট্রাক, পিকআপ ও ফিটনেসবিহীন বাসে চলাচল করে। এটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীই ঠেকাতে পারে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিআরটিএ অবশ্য ঈদযাত্রায় ফিটনেসবিহীন চলাচল করতে না দেওয়ার ব্যাপারে তৎপর রয়েছে বলেই দাবি করছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) উপপরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) মো. হেমায়েত উদ্দিন সারাবাংলাকে বলেন, আমরা ফিটনেসবিহীন বাস চলাচল ঠেকাতে সতর্ক রয়েছি। আমাদের পাঁচজন ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করছেন। সম্প্রতি সহজ ডটকমকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তিনটি গাড়িকে ডাম্পিংয়ে পাঠানো হয়েছে। কোনো বাস কোম্পানি পুরনো ও ফিটনেসবিহীন বাস চালাচ্ছে খবর পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্রাকভর্তি মালামাল। তার ওপরই নেওয়া হয়েছে যাত্রী। ছবি: সারাবাংলা

হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক শাহাবুদ্দিন খান বলেন, ফিটনেসবিহীন বাসের বিরুদ্ধে আমরা নিয়মিত আইনি ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। ২০২৩ সালেই আমরা দুই লাখের বেশি মামলা দিয়েছি, যার মধ্যে ৮ থেকে ১০ হাজার মামলা ফিটনেসবিহীন বাসের বিরুদ্ধে। এবার ঈদযাত্রা নিরাপদ রাখতে হাইওয়ের পাশাপাশি জেলা পুলিশও তৎপর। আমরা বিআরটিএ ও অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে মিলে কাজ করছি। বাসমালিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছি যেন ঝুঁকিপূর্ণ বাস না নামায়। তারপরও এমন বাস চলাচল করলে হাইওয়ে পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা নেব।

ইন্দোনেশিয়ায় সবচেয়ে বেশি মানুষ ঈদযাত্রায় চলাচল করে জানিয়ে যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক বলেন, ‘এর পরের অবস্থানেই আছে বাংলাদেশ। ইন্দোনেশিয়ায় সরকার বিনামূল্যে যুদ্ধবিমানে পর্যন্ত যাত্রী পরিবহণ করে ঈদে বাড়ি পৌঁছে দিত। আমাদের দেশের মানুষের জন্য বিনামূল্যে না হোক, নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দিতে সরকার উদ্যোগী হবে, সেটিই প্রত্যাশা।’

সারাবাংলা/আরএফ/টিআর

Tags: , , , , , , ,

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন