বিজ্ঞাপন

সেন্ট্রাল এসিতে ‘মাত্রাতিরিক্ত’ শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি

June 12, 2024 | 8:41 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: প্রস্তাবিত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে সেন্ট্রাল এয়ার কন্ডিশনিংয়ে ৪৯ শতাংশ শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। একে মাত্রাতিরিক্ত অভিহিত করে তা এই শিল্পের অগ্রগতিতে বাধা তৈরি করবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

বিজ্ঞাপন

সেন্ট্রাল এসির ওপর থেকে ‘মাত্রাতিরিক্ত’ এই শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে তারা বলছেন, এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে সার্বিকভাবে দেশের বিদ্যুতের অপচয় বাড়বে, ভোক্তার ওপর খরচের বোঝা তৈরি হবে। পাশাপাশি মাত্রাতিরিক্ত শুল্কায়ন দেশের ব্যবসায়ীদের জন্যও মারাত্মক বিপর্যয়ের কারণ হবে। নিরুৎসাহিত হবে বিনিয়োগ।

বুধবার (১২ মে) দুপুরে রাজধানীর পুরান পল্টনের ফারস হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ারকন্ডিশনিং মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (ব্রামা) নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে ব্রামার প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, প্রস্তাবিত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে সেন্ট্রাল এয়ার কন্ডিশনিং (ভিআরভি/ভিআরএফ) সিস্টেমে শুল্কায়নের জন্য এইচএস কোড বদল করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিগত অর্থবছরে শুল্কায়নের পরিমাণ ছিল ১১ শতাংশ, যা বর্তমান বাজেট প্রস্তাবনা অনুযায়ী প্রায় ৬০ শতাংশ ধরা হয়েছে। অর্থাৎ আগের চেয়ে শুল্কের পরিমাণ প্রায় ৪৯ শতাংশ বাড়বে।

বিজ্ঞাপন

আসাদুজ্জামান বলেন, এই শুল্ক বাস্তবায়ন হলে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে মারাত্মক বিপর্যয় নেমে আসবে। পাশাপাশি সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হবে। বেড়ে যাবে বিদ্যুতের খরচ। আগের ২,১০,০০০ বিটিইউ-১৭.৫ টন সিংগেল ইউনিটের সেন্ট্রাল এসি আবাসিক ভবন, হাসপাতাল, বাণিজ্যিক ভবন এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে ব্যবহারের জন্য ডিজাইনের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত ছিল। এসব এসি জায়গার অপচয় রোধ করে এবং একইসঙ্গে ইনভার্টার টাইপ হওয়ায় বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী। কিন্তু বর্তমানে ৩,১০,০০০০-বিটিইউ-২৫.৫ টন সিংগেল ইউনিটের মেশিন আকারে বড়, বেশি বিদ্যুৎ খরচ হয় এবং দেশের ভবনগুলোতে ব্যবহারের জন্য প্রকৌশল নকশার সঙ্গেও সঙ্গতিপূর্ণ নয়। ফলে ক্রেতারা এসব ব্যবহারের নিরুৎসাহিত হবে।

ব্রামার প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, দেশের অনেক কোম্পানি এসব এসি আমদানি করার জন্য বিপুল পরিমাণ পুঁজি বিনিয়োগ করেছে। এই শিল্পের সঙ্গে লক্ষাধিক মানুষ প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত। পাশপাশি দেশে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক মানের ব্র্যান্ডের এসিও প্রচলিত রয়েছে, যার অধিকাংশই আগের সিস্টেমের। এখন নতুন কোড চালু হলে এসব ব্র্যান্ডগুলোও নিরুৎসাহিত হবে। এসি সেক্টরের প্রসার মুখ থুবড়ে পড়বে এবং বিনিয়োগকারীরা দেউলিয়া হবেন।

বাজেটে ফ্রিজ ও এসির কম্প্রেশারের আমদানি শুল্কে রেয়াতি হার প্রত্যাহারের সুপারিশের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এতে এসি ও ফ্রিজের দাম বাড়বে। দেশে একটিমাত্র কোম্পানি কম্প্রেশার তৈরি করছে। ফলে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয় বিবেচনায় রেয়াতি শুল্ক আগের অবস্থায় রাখা উচিত।

বিজ্ঞাপন

ব্রামা সভাপতি বলেন, এসব বিষয় বিবেচনা করে বড় এই খাতটির ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে আকুল আবেদন জানাচ্ছি, সংশোধিত বাজেটে সেন্ট্রাল এসির ক্ষেত্রে আগের এইচএস কোড সচল রাখা ও কম্প্রেশারের রেয়াতি সুবিধা বহাল রাখা হোক।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্রামার ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. আকরাম হোসেন, ব্রামার ডিরেক্টর মোহাম্মদ আবুল হোসেন, ব্রামার অ্যাডভাইজার এম এ সাঈদ বাবুলসহ অন্যরা।

সারাবাংলা/ইএইচটি/টিআর

Tags: , , , , ,

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন