বিজ্ঞাপন

আনার হত্যা মামলায় ৮ দিনের রিমান্ডে মিন্টু

June 13, 2024 | 5:54 pm

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীমকে অপহরণ ও হত্যা মামলায় ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিমের (মিন্টু) আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেন এই আদেশ দেন।

এদিন তাকে আদালতে হাজির করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের ওয়ারী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমান।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন।

বিজ্ঞাপন

অপরদিকে আসামিপক্ষে রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে শুনানি করেন আইনজীবীরা।

শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেনের আদালত মিন্টুর আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম হত্যা মামলায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন খুলনা অঞ্চলের চরমপন্থী নেতা শিমুল ভূঁইয়া। তার জবানবন্দিতে আনোয়ারুল আজীম হত্যার সংশ্লিষ্টতা উঠে এসেছে।

বিজ্ঞাপন

জবানবন্দিতে শিমুল ভূঁইয়া বলেছেন, গত ৫ অথবা ৬ মে আনোয়ারুলকে কলকাতায় নিয়ে যাওয়ার মূল পরিকল্পনাকারী আখতারুজ্জামানের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতা সাইদুল করিমের হোয়াটসঅ্যাপে কথা হয়। আনারুল আজীমকে হত্যার বাস্তবায়ন সাপেক্ষে আর্থিক লেনদেনের কথা বলেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে ঝিনাইদহের আরেক আওয়ামী লীগ নেতা কামাল আহমেদ বাবু পুলিশকে জানিয়েছেন, আনোয়ারুল আজিমকে অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে শিমুল ভূঁইয়ার সঙ্গে ছবি আদান প্রদান করেছেন। গত ২৩ মে মিন্টুর কাছ থেকে টাকা নিয়ে শিমুল ভুঁইয়াকে দেওয়ার কথা ছিল।

জানা গেছে, ধানমন্ডির ৩/এ এলাকায় আওয়ামী লীগের এক নেতার বাসার নিচ থেকে সাইদুল করিমকে আটক করা হয়। পরে তাকে মিন্টু রোডে ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়।

গত ১২ মে কলকাতায় গিয়ে পরদিন নিউ টাউনের একটি ফ্ল্যাটে খুন হন আনোয়ারুল আজীম। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ নেতা সাইদুল করিমসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কলকাতা ও নেপালে গ্রেফতার হয়েছে আরও দুজন। গ্রেফতার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, সোনা চোরাচালান নিয়ে দ্বন্দ্ব থেকে আনোয়ারুল আজীমকে কৌশলে কলকাতায় নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর পৌরসভার মেয়রের ভাই যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী মো. আক্তারুজ্জামান ওরফে শাহীন।

বিজ্ঞাপন

গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আক্তারুজ্জামান সংসদ সদস্যকে হত্যার জন্য পাঁচ কোটি টাকায় খুনি ভাড়া করেছিলেন। হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়নে মূল ভূমিকা রাখেন খুলনা অঞ্চলের একসময়ের দুর্ধর্ষ চরমপন্থী নেতা শিমুল ভূঁইয়া। তাকে জিজ্ঞাসাবাদেই এ ঘটনায় ঝিনাইদহ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টোর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়।

সারাবাংলা/কেআইএফ/এনইউ

Tags: ,

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন