বিজ্ঞাপন

সর্বনিম্ন দাম হাজার টাকায় চামড়া বিক্রি হবে?

June 14, 2024 | 10:18 pm

এমদাদুল হক তুহিন, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: বরাবরের মতো এ বছরও কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রতি বর্গফুটে চামড়ার দাম বেড়েছে ৫ থেকে ৭ টাকা। তবে এর বাইরেও এ বছর প্রথমবারের মতো একটি গরুর চামড়ার সর্বনিম্ন দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। ঢাকার বাইরে এর দাম এক হাজার টাকা, ঢাকায় ১২০০ টাকা। প্রশ্ন উঠেছে, কোরবানিদাতারা কি তাহলে ছোট আকারের গরু কোরবানি দিলেও তার চামড়া ন্যূনতম এক হাজার টাকায় বিক্রি করতে পারবেন?

বিজ্ঞাপন

ট্যানারি শিল্প ও চামড়া বেচাকেনায় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ছোট গরুর চামড়া ঢাকার ভেতরে হাজার টাকায় বিক্রি করা সম্ভব হলেও ঢাকার বাইরে সম্ভব হবে না। কারণ সরকার নির্ধারিত চামড়ার দামটি লবণযুক্ত চামড়ার জন্য প্রযোজ্য। নির্ধারিত সেই দাম পেতে কোরবানিদাতাকে চামড়ায় লবণ লাগিয়ে তা স্থানীয় ট্যানারিতে পৌঁছে দিতে হবে। সে ক্ষেত্রে ট্যানারিতে চামড়া সরবরাহে নিয়োজিত মৌসুমি ফড়িয়াদের সংশ্লিষ্টতাও পরিহার করতে হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি বাস্তবসম্মত নয় বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ট্যানারি মালিক ও চামড়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সবচেয়ে ছোট চামড়ার জন্যও ২৫০ থেকে ৩০০ টাকার লবণ লাগবে। সে হিসাবে ঢাকার বাইরে ছোট গরুর চমড়া ৬০০ থেকে ৭০০ ও ঢাকার ভেতরে ৭০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দাম আর বেশিও হতে পারে। তবে ঢাকার বাইরে ছোট গরুর চামড়া হাজার টাকায় সাধারণ কোরবানিদাতারা বিক্রি করতে পারবে না— সে বিষয়ে সন্দেহ নেই কারওই।

আরও পড়ুন- টানা ৪ বছর বাড়ছে, তবু চামড়ার দাম এক যুগ আগের দুই-তৃতীয়াংশ

বিজ্ঞাপন

জানতে চাইলে ফিনিশড লেদার, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ মাহিন সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমরা ট্যানারি মালিকরা ঢাকায় সর্বনিম্ন ১২০০ টাকা ও ঢাকার বাইরে এক হাজার টাকায় চামড়া কিনব। কেউ যেন চামড়া নিয়ে পুকুর চুরি করতে না পারে সেজন্য এবার এই সর্বনিম্ন দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। ঢাকায় আমরা ১২০০ টাকার নিচে চামড়া কিনব না, ঢাকার বাইরে হাজার টাকার নিচেও নয়।’ ট্যনারির মালিকরা লবণযুক্ত চামড়া কিনে থাকেন বলে জানান তিনি।

কোরাবানিদাতারা চামড়ার সর্বনিম্ন দাম হাজার টাকা পাবে কি না— জানতে চাইলে মহিউদ্দিন আহমেদ মাহিন বলেন, ‘কোরবানিদাতারা যদি চামড়ায় লবণ দিয়ে বিক্রি করেন এবং আমাদের কাছে পৌঁছে দেন, তবেই তারা ঢাকার বাইরে সর্বনিম্ন হাজার টাকা ও ঢাকার ভেতরে ১২০০ টাকা পেতে পারেন। আমরা এই দাম নির্ধারণ করে দিয়েছি মূলত কেউ যেন ৩০০-৪০০ টাকায় চামড়া কিনতে না পারে সেইটা নিশ্চিত করার জন্য। লবণ ছাড়া চামড়া হয়তো ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হতে পারে।’

আরেক প্রশ্নের উত্তরে এই চামড়া ব্যবসায়ী বলেন, ‘গরিবের হক যেন নষ্ট না হয়, কোরবানিদাতাকে সেদিকে মনযোগ দিতে হবে। ভালো করে কোরবানির চামড়া ছাড়াতে হবে। প্রয়োজনে লবণ দিয়ে তা সংরক্ষণ করতে হবে। অথবা দ্রুত তা বিক্রির ব্যবস্থা করতে হবে।’

বিজ্ঞাপন

গত এক যুগে সরকার নির্ধারিত কোরবানির পশুর চামড়ার দাম। তথ্য: বাণিজ্য মন্ত্রণালয়

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহীন আহমেদ সারাবাংলাকে বলেন, ‘একেকটি গরুর চামড়ায় লবণ দিতে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা খরচ হতে পারে। সে হিসাবে ঢাকার বাইরে ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকায় লবণ ছাড়া চামড়া বিক্রি হতে পারে, ঢাকার ভেতরে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায়।’

গত বছরের তুলনায় এ বছর লবণের দাম তুলনামূলকভাবে কম। এর কোনো প্রভাব চামড়ার দামে পড়বে কি না— জানতে চাইলে শাহীন আহমেদ বলেন, গত বছর লবণের দাম ছিল সাড়ে ১৯ টাকা। এ বছর দুই টাকা কমেছে। কিন্তু একটি গরুর চামড়ায় যে পরিমাণ লবণ লাগে, তাতে এই দাম কমার কারণে ১২ টাকার মতো সাশ্রয় হবে। অন্যদিকে মজুরির খরচ বেড়েছে। ফলে এর প্রভাব চামড়ার দামে খুব একটা পড়বে না।’ এ বছর চামড়া কিনতে ব্যাংক থেকে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা কোটি টাকার মতো ব্যাংক ঋণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন শাহীন আহমেদ।

জানতে চাইলে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু সারাবাংলাকে বলেন, ‘চামড়ার দাম বরাবরই সরকার নির্ধারণ করে দেয়। এবার আমরা একটি চামড়ার সর্বনিম্ন দাম নির্ধারণ করে দিয়েছি। সব জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লবণ পাঠিয়ে দিয়েছে। সেখান থেকে উপজেলা পর্যায়েও লবণ পাঠানো হয়েছে। চামড়া কীভাবে সংরক্ষণ করতে হয় এবং কাটতে হয়, সে বিষয়েও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।’

লবণযুক্ত চামড়া নির্ধারিত সর্বনিম্ন দামে ট্যানারি মালিকরা কিনছেন কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। ব্যক্তি পর্যায়ে লবণ ছাড়া চামড়া কত দামে বিক্রি হতে পারে, সে বিষয়ে কোনো ধারণা দিতে পারেননি আহসানুল ইসলাম টিটু।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/ইএইচটি/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন