বিজ্ঞাপন

ছুটির দিনে বেলা বাড়তেই কমে এল ঢাকার বায়ু দূষণ

June 21, 2024 | 5:43 pm

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: গত ১৬ জুন থেকে ঈদুল আজহার ছুটি থাকায় রাজধানী অনেকটাই ফাঁকা। আর সেই ফাঁকা ঢাকারই প্রভাব পড়েছে ঢাকার বায়ু দূষণ পরিস্থিতিতে। এছাড়া বর্ষাকালে বৃষ্টিপাতের ফলে দূষণ উপাদানগুলো মাটিতে মিশে যাওয়ায় এসময় বায়ু দূষণও তুলনামূলক কমে গেছে।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (২১ জুন) সাপ্তাহিক ছুটির দিন বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কমে এসেছে ঢাকার বায়ু দূষণ। সকালে অস্বাস্থ্যকর থাকলেও দুপুর বারোটা নাগাদ মডারেট বা সহনীয় পর্যায়ে চলে আসে ঢাকার বায়ুমান। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ু দূষণ পরিমাপক সংস্থা আইকিউএয়ারের তালিকা বিশ্লেষণ করে এমনটাই দেখা গেছে।

এতে  দেখা যায়, সকাল সাড়ে ১০টায় একিউআইয়ের ১১৭ সূচক নিয়ে সবচেয়ে খারাপ বায়ুমানের শহরের তালিকায় ১৩তম অবস্থানে ঢাকা। আর দুপুর ১২টার দিকে ১০৭ থাকলেও ১টার পর ১০০ এর নিচে নেমে আসা ঢাকার বায়ুমান। দুপুরে ৯৯ স্কোর নিয়ে ঢাকার অবস্থান হয় ১২তম।

বায়ুতে থাকা পার্টিকেল ম্যাটার (পিএম) আকার ২.৫ এর মাত্রার উপর ভিত্তি করে একটি শহরের দূষণ পরিমাপ করা হয়। আজ ঢাকার বায়ুতে থাকা পিএম ২.৫ এর মাত্রা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে ৭ গুণ বেশি।

বিজ্ঞাপন

একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০ এর মধ্যে থাকলে ‘ভালো’ এবং ৫০ থেকে ১০০ এর মধ্যে থাকলে তাকে ‘মাঝারি’ বা ‘গ্রহণযোগ্য’ পর্যায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১০১ থেকে ১৫০ এর মধ্যে হলে বাতাসের মান ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’। ১৫১ থেকে ২০০ এর মধ্যে একিউআই স্কোরকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বলে মনে করা হয়। ২০১ থেকে ৩০০ এর মধ্যে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়, ৩০১ বা এর বেশি একিউআই স্কোরকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।

ঢাকার ‘গ্রহণযোগ্য’ বায়ুতে সংবেদনশীল গোষ্ঠীর নাগরিকদের ঘরের বাইরে মাস্ক পরার পরামর্শ দিয়েছে আইকিউএয়ার। এছাড়াও বাইরে ব্যায়াম না করা এবং ঘরের জানালা বন্ধ রাখারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বায়ুদূষণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন সংবেদনশীল গোষ্ঠীর ব্যক্তিরা, যাদের মধ্যে আছেন বয়স্ক, শিশু, অন্তঃসত্ত্বা ও জটিল রোগে ভোগা ব্যক্তি।

বিজ্ঞাপন

গত ২৮ মার্চ বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে যত মানুষ অকালে মারা যায়, তাদের ২০ শতাংশের মৃত্যুর কারণ বায়ু দূষণ। পরিবেশ দূষণের মধ্যে অকাল মৃত্যুর ক্ষেত্রে ঘরে ও বাইরে বায়ু দূষণকে সবচেয়ে বেশি হওয়ার কথা তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, অকালমৃত্যুর প্রায় ৫৫ শতাংশের কারণই বায়ু দূষণ। এ কারণে ২০১৯ সালে জিডিপির ক্ষতি হয়েছিল ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ।

এছাড়া আইকিউএয়ারের ২০২৩ সালের বায়ুদূষণ বিষয়ক বৈশ্বিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বায়ুদূষণে গত বছর শীর্ষে ছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় স্থানে পাকিস্তান। আর রাজধানী শহর হিসেবে ঢাকার স্থান বিশ্বে দ্বিতীয়। শীর্ষে ছিল ভারতের নয়াদিল্লি।

সারাবাংলা/আরএফ/আইই

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন