বিজ্ঞাপন

দাঁড়াশ সাপ রক্ষা করতে হবে

June 24, 2024 | 5:31 pm

এস.এম. রাহমান জিকু

দেশের অন্যতম পরিচিত একটি সাপ দাঁড়াশ। সম্পূর্ণ বিষ মুক্ত এই সাপটির প্রধান খাবার ইঁদুর। মূলত ইঁদুর খেয়েই এটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। আড়ালে থেকেই কৃষকের বন্ধু হিসেবেও কাজ করে সাপটি। প্রায় ৩ বিঘা জমির ইঁদুর একটি দাঁড়াশ সাপ নিধন করতে সক্ষম। সেজন্য এই সাপকে বলা হয় কৃষকের বন্ধু।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবছর ইঁদুর যে পরিমাণ খাদ্যশস্য নষ্ট করে, তার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১০০০ কোটি টাকার কাছাকাছি। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে ধান ও গমের। ইঁদুর নিয়ন্ত্রণের জন্য দাঁড়াশ সাপ প্রাকৃতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই এই সাপকে রক্ষা করতে পারলেই বছরে প্রায় হাজার কোটি টাকার ফসল বাঁচানো সম্ভব হবে।

আমাদের দেশের লোকজনের মাঝে সাপটিকে নিয়ে রয়েছে বিভিন্ন কুসংস্কার। অনেকেরই ধারণা, দাঁড়াশ সাপ মানেই বিষাক্ত। মানুষ না জেনে অকারণেই মেরে ফেলছে এই প্রাণীটিকে। তাই কৃষির জন্য অত্যন্ত উপকারী এই সরীসৃপের অস্তিত্ব আজ প্রায়ই বিপন্ন হতে চলেছে।

সাপ নিয়ে বিভিন্ন বেদে-সাপুড়িয়াদের ভ্রান্ত কিছু প্রচারণা রয়েছে। তাদের ধারণা, দাঁড়াশ সাপের কোমরে বা লেজে বিষাক্ত কাটা আছে। সেই কাটা দিয়ে আঘাত করলে মানুষ মারা যায় এবং দাঁড়াশ সাপ রাতে গাভীর দুধ চুষে খায়। অনেকে এটাও মনে করে যে, সাপটির শুধু মুখে নয় লেজেও বিষ আছে। মুখের পরিবর্তে লেজ দিয়ে আঘাত করলে ওই আঘাত স্থানটি ধীরে ধীরে পঁচে যাবে। কিন্তু এর সবই ভুল ধারণা। বাস্তবে সাপটি খুব নিরীহ।

বিজ্ঞাপন

দাঁড়াশ সাপের কোমর, লেজসহ সারা শরীরের কোথাও এমন কোনো কাটা নেই। এছাড়া দাঁড়াশ সাপের গাভীর স্তন থেকে দুধ চুষে খাওয়ার কোনো ক্ষমতা নেই। এই সাপের জিহবা বিভক্ত থাকে। যার ফলে এই সাপ কিছুই চুষে খেতে পারে না। এদের অন্যতম প্রধান ও পছন্দের খাবার হলো ইঁদুর। তাই এরা ফসলি জমির আশেপাশে থাকে এবং ফসলের জন্য ক্ষতিকারক ইঁদুর খেয়ে কৃষকের উপকার করে।

দাঁড়াশ সাপ যে জমিতে থাকে, তার আশেপাশে প্রায় ৩ একর এলাকায় ইঁদুর শিকার করে। ফলে ইঁদুরের কারণে যে ফসল হানি ঘটে তার থেকে রক্ষা মেলে। এই সাপগুলো লম্বায় সাধারণত ২ মিটার হয়। তবে কোনো-কোনোটি ৩ মিটার বা তার থেকেও বেশি লম্বা হতে পারে। এদের দেহের রঙ হালকা বাদামি বা হলুদ বাদামি কিংবা জলপাই বাদামি হয়ে থাকে। মাথায় সাধারণত কোনো ফণা থাকে না এবং মাথা গোখরা সাপের মাথার তুলনায় বেশ সরু।

দাঁড়াশ সাপ গাছ বেয়ে উঠতে দক্ষ। এরা সাঁতার কাটতে, ডুব দিতে এবং দ্রুত ছুটতে ছুটতে পারে। এই প্রজাতির সাপ প্রায় ডজন খানেক আঠালো ডিম পাড়ে এবং ২ মাসের মধ্যে ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রায় ৯০ প্রজাতির সাপ আছে। যার মধ্যে প্রায় তিন-চতুর্থাংশ সাপ নির্বিষ অর্থাৎ বিষ মুক্ত। তবুও সাপ সম্পর্কে আমাদের দেশের মানুষের অযাচিত ভয় ও অজ্ঞতার কারণেই প্রাণঘাতি মনে করে মেরে ফেলি। কিন্তু উন্নত বিশ্বে এখনও সাপকে কাজে লাগাচ্ছে নতুন এক অর্থনৈতিক পণ্য হিসেবে।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রীতি দেশ সাপ আতঙ্কে কাঁপছে। প্রায় ২৫ বছর পূর্বে বিলুপ্ত এক প্রজাতির বিষাক্ত সাপ রাসেলস ভাইপার তথা চন্দ্রবোড়া। বর্তমানে সাপটির উপদ্রব বেশ বেড়েছে। ইতোমধ্যেই দেশের প্রায় ২৮টিরও বেশি জেলায় সাপটির দেখা মেলেছে। সাপটির কামড়ে কৃষক, শিশুসহ বেশ ক’জনের প্রাণহানিও ঘটেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে এই বিষাক্ত রাসেলস ভাইপারের উৎপাত বেড়েছে।

এদিকে দেশের মানুষের আতঙ্কে দিন কাটছে। আবার কেউ কেউ নির্বিচারে সাপ নিধনের যুদ্ধে মেতে উঠেছে। আমরা অনেকেই জানিনা যে, সাপ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সাধারণত ফসলি জমির আশেপাশে এক প্রজাতির নির্বিষ সাপ সচরাচর দেখা মেলে। এই সাপটি হচ্ছে কৃষকের বন্ধু দাঁড়াশ। সাপটির প্রিয় খাবার হচ্ছে ইঁদুর। অন্যদিকে বিষাক্ত রাসেলস ভাইপারেরও পছন্দের খাবার ইঁদুর। ফলে এই রাসেলস ভাইপারকেও ফসলি জমিতে দেখা যেতে পারে।

এমতাবস্থায়, নির্বিচারে সাপ নিধন বন্ধ করতে হবে। প্রতিটি সাপই কোনো না কোনোভাবে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অতএব– সাপ নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক হই এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করি।

লেখক: শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম কলেজ

বিজ্ঞাপন
প্রিয় পাঠক, লিখতে পারেন আপনিও! লেখা পাঠান এই ঠিকানায় -
sarabangla.muktomot@gmail.com

মুক্তমত বিভাগে প্রকাশিত মতামত ও লেখার দায় লেখকের একান্তই নিজস্ব, এর সাথে সারাবাংলার সম্পাদকীয় নীতিমালা সম্পর্কিত নয়। সারাবাংলা ডটনেট সকল মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে মুক্তমতে প্রকাশিত লেখার দায় সারাবাংলার নয়।

সারাবাংলা/এসবিডিই

Tags: , ,

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন